আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ৭৬৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
প্রতিমাসে তিন দিন রোযা পালন করা।
৭৬১. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... মুআযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আয়িশা (রাযিঃ) কে বললাম, রাসূল (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বললাম, কোন তারিখ তিনি এই রোযা পালন করতেন? তিনি বললেন, কোন তিন দিন এই রোযা পালন করবেন এই বিষয়ে তিনি কোন পরওয়া করতেন না। - ইবনে মাজাহ ১৭০৮, মুসলিম
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ، قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قَالَتْ نَعَمْ . قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ كَانَ لاَ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَيَزِيدُ الرِّشْكُ هُوَ يَزِيدُ الضُّبَعِيُّ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ وَهُوَ الْقَسَّامُ وَالرِّشْكُ هُوَ الْقَسَّامُ بِلُغَةِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন হাদীসে প্রতি মাসের শুরুতে হুযুর (ﷺ)-এর তিন দিন রোযা রাখার অভ্যাস ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। কোন কোন রেওয়ায়াতে মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখ এবং অপর কোন কোন বর্ণনায় সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ তিন দিনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা জানা গেল যে, এগুলোর মধ্য থেকে কোনটাই হুযুর (ﷺ)-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল না। এর একটি কারণ তো এ ছিল যে, হুযুর (ﷺ)-এর অনেক সময় বাইরে সফর এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজন বেশী করে দেখা দিত। এগুলোর কারণে বিশেষ বিশেষ তারিখ ও দিনের নিয়মানুবর্তিতা তাঁর জন্য উপযোগী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ এটাও ছিল যে, তিনি যদি সর্বদা বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখে রোযা রাখতেন, তাহলে উম্মতের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য এটা কষ্টের কারণ হয়ে যেত এবং এর দ্বারা এ ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারত যে, এ রোযাগুলো ওয়াজিব পর্যায়ের। সারকথা, এ জাতীয় কল্যাণ চিন্তার কারণে তিনি নিজে বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখের পাবন্দী করতেন না এবং হুযুর (ﷺ)-এর বেলায় এটাই উত্তম ছিল। তবে সাহাবায়ে কেরামকে তিনি মাসের তিন রোযার ক্ষেত্রে অধিকতর আইয়ামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের প্রতিই উৎসাহ দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)