আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৭- সৃষ্টি জগতের সূচনা
হাদীস নং: ৩০৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৬৫
- সৃষ্টি জগতের সূচনা
১৯৯২. জাহান্নামের বিবরণ আর তা সৃষ্টবস্তু।
৩০৩৭। ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের (ব্যবহৃত) আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ মাত্র। বলা হল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাহান্নামীদের শাস্তির জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ঠ ছিল।’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার আগুনের উপর জাহান্নমের আগুনের তাপ আরো উনসত্তর গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, প্রত্যেক অংশে তার সমপরিমাণ উত্তাপ রয়েছে।’
كتاب بدء الخلق
باب صِفَةِ النَّارِ وَأَنَّهَا مَخْلُوقَةٌ
3265 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «نَارُكُمْ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ» ، قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَافِيَةً قَالَ: «فُضِّلَتْ عَلَيْهِنَّ بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا كُلُّهُنَّ مِثْلُ حَرِّهَا»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আমাদের পৃথিবীর আগুনের প্রকার এবং মাত্রার বিভিন্নতা রয়েছে যেমন- কাঠের আগুন, ঘাসের আগুনের থেকে তেজ হয়। পাথর এবং কয়লার আগুনের উত্তাপ কাঠের আগুনের চেয়ে অধিক। কোন কোন সময় কোন আগুনের তীব্রতা হয় এ থেকে আমরা সহজে অনুমান বুঝতে পারি যে, আগুনের তীব্রতা এবং উত্তাপের মধ্যে তারতম্য হতে পারে। হাদীসে বর্ণিত জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে অনেকগুণ বেশী দাহিকা সম্পন্ন।
হাদীসে একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক সাহাবী বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়ার আগুনই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কোন স্বতন্ত্র উত্তর প্রদান করেন নি এবং তার প্রথম কথা বিশদভাবে পুনরায় বর্ণনা করলেন। সম্ভবত তিনি এ উপদেশ দিতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর 'জালাল' এবং 'কহর'কে ভয় করা উচিত এবং দোযখের আগুন থেকে বাঁচার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনরূপ প্রশ্ন করা অনুচিত। তিনি যা কিছু করেন এবং করবেন তা সবই ঠিক।
বিঃদ্রঃ হাদীসে সত্তর সংখ্যাটি নিছক সংখ্যা না বুঝিয়ে অধিক বুঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ আরবী পরিভাষায় এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত অধিক বুঝানোর জন্য সত্তর ও এ জাতীয় সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এমতাবস্থায় হাদীসে ব্যবহৃত সত্তর সংখ্যাটির অর্থ হবে, জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ ও শক্তি হবে দুনিয়ার আগুনের অনেক অনেক গুণ বেশী। দুনিয়ার কোন জিনিসের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের তুলনা হতে পারে না।
হাদীসে একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক সাহাবী বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়ার আগুনই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কোন স্বতন্ত্র উত্তর প্রদান করেন নি এবং তার প্রথম কথা বিশদভাবে পুনরায় বর্ণনা করলেন। সম্ভবত তিনি এ উপদেশ দিতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর 'জালাল' এবং 'কহর'কে ভয় করা উচিত এবং দোযখের আগুন থেকে বাঁচার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনরূপ প্রশ্ন করা অনুচিত। তিনি যা কিছু করেন এবং করবেন তা সবই ঠিক।
বিঃদ্রঃ হাদীসে সত্তর সংখ্যাটি নিছক সংখ্যা না বুঝিয়ে অধিক বুঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ আরবী পরিভাষায় এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত অধিক বুঝানোর জন্য সত্তর ও এ জাতীয় সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এমতাবস্থায় হাদীসে ব্যবহৃত সত্তর সংখ্যাটির অর্থ হবে, জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ ও শক্তি হবে দুনিয়ার আগুনের অনেক অনেক গুণ বেশী। দুনিয়ার কোন জিনিসের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের তুলনা হতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)