আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৭- সৃষ্টি জগতের সূচনা
হাদীস নং: ৩০২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৫২ - ৩২৫৩
- সৃষ্টি জগতের সূচনা
১৯৯০. জান্নাতের বৈশিষ্টের বর্ণনা আর তা সৃষ্টবস্তু।
৩০২৫। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। আর তোমরা ইচ্ছা করলে (কুরআনের এ আয়াত) তিলাওয়াত করতে পার وَظِلٍّ مَمْدُودٍ এবং দীর্ঘ ছায়া। আর জান্নাতে তোমাদের কারও একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও ঐ জায়গার চেয়ে অনেক উত্তম যেখানে সুর্যোদয় হয় এবং সূর্যাস্ত যায় (অর্থাৎ পৃথিবীর চেয়ে)।
كتاب بدء الخلق
باب مَا جَاءَ فِي صِفَةِ الْجَنَّةِ وَأَنَّهَا مَخْلُوقَةٌ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (وَظِلٍّ مَمْدُودٍ)"
«وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ».
«وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ».
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ধনুক রাখার স্থান চাবুক রাখার স্থানের মত এবং তার দ্বারা এমন ক্ষুদ্রতম স্থান বুঝান হয়েছে যা একজন মুসাফিরের বিশ্রাম করার জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতের এমন ক্ষুদ্রতম স্থানও সারা দুনিয়ার চেয়ে উত্তম। কিয়ামতের দিন জান্নাতী ও জাহান্নামী উপলব্ধি করতে পারবে যে, জান্নাতের সামান্যতম স্থানের মূল্য ও গুরুত্ব কত বেশী। অপরাধী উপলব্ধি করবে যে, দুনিয়ার যিন্দেগীতে যত ধনদৌলত উপার্জন করে থাকুক না কেন তা তার জন্য নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং গোটা দুনিয়ার ধনদৌলতও তার কোন কাজে আসবে না।
জান্নাতের এক টুকরার মধ্যে যে অগণিত নি'আমত এবং সাজসরঞ্জাম রয়েছে তা দেখে জান্নাতী ব্যক্তি উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবে। দুনিয়ার জীবনে সে যে দুনিয়াকে অকিঞ্চিতকর মনে করত তার বাস্তব প্রমাণ সে আখিরাতে পাবে এবং তার মনে হবে যে, আল্লাহর দীনকে কায়েম করার জন্য আরও বেশী চেষ্টা সাধনা করলে সে আরও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হত।
আখিরাতের জীবন লাভে যারা চেষ্টা সাধনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ই দান করেন। কিন্তু যারা শুধুমাত্র দুনিয়া হাসিল করতে চায় তারা আখিরাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ততটুকু হাসিল করতে সক্ষম হবে যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্যে লিখে রেখেছেন। তারা আখিরাতের সাফল্যের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে থাকলে দুনিয়ার জীবনের হিসসা যা লাভ করেছে তা থেকে একবিন্দু পরিমাণও কম পেত না।
জান্নাতের এক টুকরার মধ্যে যে অগণিত নি'আমত এবং সাজসরঞ্জাম রয়েছে তা দেখে জান্নাতী ব্যক্তি উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবে। দুনিয়ার জীবনে সে যে দুনিয়াকে অকিঞ্চিতকর মনে করত তার বাস্তব প্রমাণ সে আখিরাতে পাবে এবং তার মনে হবে যে, আল্লাহর দীনকে কায়েম করার জন্য আরও বেশী চেষ্টা সাধনা করলে সে আরও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হত।
আখিরাতের জীবন লাভে যারা চেষ্টা সাধনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ই দান করেন। কিন্তু যারা শুধুমাত্র দুনিয়া হাসিল করতে চায় তারা আখিরাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ততটুকু হাসিল করতে সক্ষম হবে যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্যে লিখে রেখেছেন। তারা আখিরাতের সাফল্যের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে থাকলে দুনিয়ার জীবনের হিসসা যা লাভ করেছে তা থেকে একবিন্দু পরিমাণও কম পেত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)