আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪০৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
তাওবার জন্য নামায।
৪০৬. কুতায়বা (রাহঃ) .... আসমা ইবনে হাকাম আল-ফাযারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল (ﷺ) থেকে যখন কোন হাদীস শুনতাম তখন আল্লাহ্ যতটুকু চেয়েছেন আমি এ দ্বারা ততটুকু উপকৃত হয়েছি। তাঁর কোন সাহাবী যখন আমার কাছে কোন হাদীস বর্ণনা করেন আমি তাকে কসম করে বলতে বলি। তিনি কসম করলে আমি তা সত্য বলে গ্রহণ করে নেই। এখন যে হাদীসটি বলছি, সেটি আমাকে আবু বকর বর্ণনা করেছেন। আর আবু বকর অবশ্যই সত্য বলেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যদি কোন গুনাহ করে বসে, এরপর সে উযু করে এবং নামায আদায় করে ও আল্লাহর নিকট মাফ চায়, তবে আল্লাহ্ তাআলা অবশ্যই তার গুনাহ মাফ করে দেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ

আর যারা মন্দকাজ করে ফেলে বা নিজের প্রতি যুলুম করে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়, (তারাও মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত)। আল্লাহ্ ব্যতীত কে গুনাহ মাফ করবে?’’ (৩ঃ১৩৫)
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الصَّلاَةِ عِنْدَ التَّوْبَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ إِنِّي كُنْتُ رَجُلاً إِذَا سَمِعْتُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ وَإِذَا حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَحْلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ وَإِنَّهُ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ثُمَّ يُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلاَّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ " . ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ : (وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ ) . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَنَسٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَمُعَاذٍ وَوَاثِلَةَ وَأَبِي الْيَسَرِ وَاسْمُهُ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ . وَرَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ فَرَفَعُوهُ مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ . وَرَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمِسْعَرٌ فَأَوْقَفَاهُ وَلَمْ يَرْفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مِسْعَرٍ هَذَا الْحَدِيثُ مَرْفُوعًا أَيْضًا . وَلاَ نَعْرِفُ لأَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ حَدِيثًا مَرْفُوعًا إِلاَّ هَذَا .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে ইবনে মাসঊদ, আবুদ-দারদা, আনাস, আবু উমামা, মু’আয, ওয়াসিলা ও আবুল ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবুল ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর নাম হ’ল কা’ব ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। উসমান ইবনুল মুগীরা সূত্রেই কেবল এটি বর্ণিত হয়েছে। শু’বা এবং অন্যান্য রাবীও তার সূত্রে এই হাদীসটিকে আবু আওয়ানার মত মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও মিসআর এটিকে মাওকূফ হিসেবে রিওয়ায়াত করেছেন। তারা রাসূল (ﷺ) পর্যন্ত এটিকে মারফূ করেন নাই। তবে মিসআর (রাহঃ) থেকে মারফূ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আর এই হাদীসটি ছাড়া আসমা ইবনুল হাকাম অন্য কোন মারফূ হাদীস বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নাই।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

গুনাহ ক্ষমা করার বিষয় সম্বলিত যে আয়াত রাসূলুল্লাহ ﷺ পাঠ করেছেন তা সূরা আলে ইমরানের অন্তর্ভুক্ত। এ আয়াতে আল্লাহর ঐ সকল বান্দার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যাদের জন্য বিশেষভাবে জান্নাত তৈরি করে রাখা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে:

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

"এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।" (৩, সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬০)

যে সকল লোক পাপ কাজকে অভ্যাসে বা পেশায় পরিণত করে না আলোচ্য হাদীসে সে সকল গুনাহগারদেরকে ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বরং তাদের অবস্থা এই যে, যখন তাদের দ্বারা কবীরা কিংবা সগীরা গুনাহ সংঘটিত হয় তখন ভীষণভাবে লজ্জিত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে এও বলেছেন যে, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল এই, উযূ করে প্রথমে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কাজেই কেউ যদি এরূপ করে আল্লাহ্ তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: