আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯১
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করা।
৩৯১. কুতায়বা (রাহঃ) ..... বনু আব্দিল মুত্তালিবের হালীফ (আশ্রিত) আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না আল-আসাদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) একবার যোহরের নামাযে যেখানে বসার কথা সেখানে দাঁড়িয়ে গেলেন। এই ভুল করার জন্য নামায শেষ করার পর সালামের পূর্বেই তিনি বসা অবস্থায় দুই সিজদা দিলেন। প্রত্যেক সিজদার সময় তাকবীর-ও বললেন। অন্যান্য মুসল্লীরাও তাঁর সঙ্গে দুই সিজদা করল।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ التَّسْلِيمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ الأَسَدِيِّ، حَلِيفِ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ وَعَلَيْهِ جُلُوسٌ فَلَمَّا أَتَمَّ صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ وَسَجَدَهُمَا النَّاسُ مَعَهُ مَكَانَ مَا نَسِيَ مِنَ الْجُلُوسِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، وَأَبُو دَاوُدَ قَالاَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَالسَّائِبَ الْقَارِئَ، كَانَا يَسْجُدَانِ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ التَّسْلِيمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ بُحَيْنَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ يَرَى سُجُودَ السَّهْوِ كُلِّهِ قَبْلَ السَّلاَمِ وَيَقُولُ هَذَا النَّاسِخُ لِغَيْرِهِ مِنَ الأَحَادِيثِ وَيَذْكُرُ أَنَّ آخِرَ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَلَى هَذَا . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِذَا قَامَ الرَّجُلُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَإِنَّهُ يَسْجُدُ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ السَّلاَمِ عَلَى حَدِيثِ ابْنِ بُحَيْنَةَ . وَعَبْدُ اللَّهِ ابْنُ بُحَيْنَةَ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَالِكٍ وَهُوَ ابْنُ بُحَيْنَةَ مَالِكٌ أَبُوهُ وَبُحَيْنَةُ أُمُّهُ . هَكَذَا أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمَدِينِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ مَتَى يَسْجُدُهُمَا الرَّجُلُ قَبْلَ السَّلاَمِ أَوْ بَعْدَهُ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَسْجُدَهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِثْلِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَرَبِيعَةَ وَغَيْرِهِمَا وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَتْ زِيَادَةً فِي الصَّلاَةِ فَبَعْدَ السَّلاَمِ وَإِذَا كَانَ نُقْصَانًا فَقَبْلَ السَّلاَمِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . وَقَالَ أَحْمَدُ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ فَيُسْتَعْمَلُ كُلٌّ عَلَى جِهَتِهِ يَرَى إِذَا قَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ عَلَى حَدِيثِ ابْنِ بُحَيْنَةَ فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ وَإِذَا صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَإِذَا سَلَّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَإِنَّهُ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَكُلٌّ يُسْتَعْمَلُ عَلَى جِهَتِهِ . وَكُلُّ سَهْوٍ لَيْسَ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذِكْرٌ فَإِنَّ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ قَبْلَ السَّلاَمِ . وَقَالَ إِسْحَاقُ نَحْوَ قَوْلِ أَحْمَدَ فِي هَذَا كُلِّهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ كُلُّ سَهْوٍ لَيْسَ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذِكْرٌ فَإِنْ كَانَتْ زِيَادَةً فِي الصَّلاَةِ يَسْجُدُهُمَا بَعْدَ السَّلاَمِ وَإِنْ كَانَ نُقْصَانًا يَسْجُدُهُمَا قَبْلَ السَّلاَمِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আবু হুরায়রা এবং সাঈব আল-কারী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতেন। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে বুহায়না রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এরও অভিমত। তিনি সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতে হবে বলে মনে করেন। তিনি বলেনঃ এই হাদীসটি অপরাপর হাদীসগুলোর জন্য নাসিখ বা রহিতকারী বলে বিবেচ্য।

এই বিষয়ে রাসূল (ﷺ)-এর শেষ আমল ছিল এইরূপই। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেনঃ যদি দুই রাকআতের ক্ষেত্রে কেউ উঠে যায়, তবে সে ইবনে বুহায়নার হাদীস অনুসারে সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করবে। আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক। মালিক তাঁর পিতা আর বুহায়না তাঁর মাতা। আলী ইবনে মাদীনী (রাহঃ) থেকে ইসহাক ইবনে মানসূর এই কথা রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ সিজদা সাহু সালামের পূর্বে করা হবে না পরে করা হবে, এই বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।কেউ কেউ মনে করেন, সালামের পর সিজদা সাহু করতে হবে। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।

কোন কোন আলিম মনে করেন, সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতে হবে। এ হ’ল যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও রাবীআ (রাহঃ) অপরাপর মদীনাবাসী অধিকাংশ ফকীহ-এর অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই। কোন কোন আলিম বলেনঃ যদি নামাযে অতিরিক্ত কিছু করা হয় তবে সালামের পর, আর যদি কিছু কম করা হয় তবে সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতে হবে। এ হ’ল ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ)-এর বক্তব্য। ইমাম আহমদ (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) থেকে সিজদা সাহু-এর ব্যপারে যে সমস্ত রিওয়ায়াত আছে, প্রত্যেকটির উপরই স্ব-স্ব প্রেক্ষেিত অনুসারে আমল করা হবে। দুই রাকআতে যদি কেউ উঠে পড়ে তবে তাকে ইবনে বুহায়না বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতে হবে। যোহরের নামায যদি কেউ পাঁচ রাকআত পড়ে ফেলে, তবে সে সালামের পর সিজদা সাহু করবে। যোহর ও আসরের দুই রাকআতে যদি কেউ সালাম ফিরায়, তবে সে সালামের পর সিজদা সাহু করবে।

মোট কথা এই বিষয়ের প্রতিটি হাদীসকেই তৎপ্রেক্ষেিত অনুসারে আমল করা হবে। আর যে সমস্ত ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ) থেকে কিছুর উল্লেখ নাই, সে সমস্ত ক্ষেত্রে সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করা হবে। ইমাম ইসহাক (রাহঃ)-ও এই বিষয়ে ইমাম আহমদ (রাহঃ)-এর অনুরূপ মত পোষণ করেন। তবে তিনি বলেনঃ যে সমস্ত ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ) থেকে কিছুর উল্লেখ নেই, সে সমস্ত ক্ষেত্রে নামাযের অতিরিক্ত কিছু হলে সালামের পর আর কম হলে সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করতে হবে।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)