আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫৩
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
যদি রাতের খানা হাযির হয়ে পড়ে আর এদিকে নামাযের ইকামত হয়ে যায়, তবে আগে খানা খেয়ে নিবে।
৩৫৩. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) বলেনঃ রাতের খানা যদি হাযির হয়ে পড়ে আর এদিকে নামাযের ইকামত হয়ে যায়, তবে আগে খানা খেয়ে নিবে।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ " إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ "
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ عُمَرَ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَقُولاَنِ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ وَإِنْ فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ فِي الْجَمَاعَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ إِذَا كَانَ طَعَامًا يُخَافُ فَسَادُهُ . وَالَّذِي ذَهَبَ إِلَيْهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَشْبَهُ بِالاِتِّبَاعِ وَإِنَّمَا أَرَادُوا أَنْ لاَ يَقُومَ الرَّجُلُ إِلَى الصَّلاَةِ وَقَلْبُهُ مَشْغُولٌ بِسَبَبِ شَيْءٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ لاَ نَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَفِي أَنْفُسِنَا شَيْءٌ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনে উমর, সালামা ইবনুল আকওয়া এবং উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু বকর, উমর ও ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ সাহাবীগণের কেউ কেউ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-ও এই অভিমত পোষণ করেন। তাঁরা বলেনঃ জামাত ফওত হওয়ার আশঙ্কা হলেও আগে আহার করে নিবে। জারূদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি ওয়াকী (রাহঃ)-কে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, খানা বিনষ্ট হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আগে আহার করবে। কতক সাহাবী ও অপরাপর কতিপয় আলিম এই বিষয়ে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তার অনুসরণ করাই শ্রেয়তর। তাঁদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হল, অন্য কোন বিষয়ে মন মশগুল রেখে কেউ যেন নামাযে না দাঁড়ায়। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মনে কোন চিন্তা বা ব্যস্ততা রেখে আমরা নামাযে দাঁড়াই না।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ভাষ্যকারগণ লিখেছেন, কারো যদি তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হয় এবং সামনে খানা পরিবেশন করা হয় এমতাবস্থায় যদি সে খাবার গ্রহণ না করে সালাতে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তার মনে সালাতের মধ্যে খানার কথা স্মরণ হবে। এজন্য এহেন অবস্থায় শরী'আতের বিধানের অনিবার্য দাবি হলো প্রথমত খাবার শেষ করে তারপর সালাত আদায় করা।
কখনও কখনও হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তাঁর সামনে খানা পরিবশেন করা হচ্ছিল, ওদিকে সালাতেরও ইকামাত চলছিল।
এমতাবস্থায় তিনি আহার করে নিতেন অথচ ইমামের কিরা'আত তাঁর কানে ঝংকৃত হত। কিন্তু তিনি খাবার শেষ করে সালাত আদায় করে নিতেন। উল্লেখ্য, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) শরী'আত ও সুন্নাতের একজন অনন্য অনুসারী বরং প্রেমিক ছিলেন। তিনি একাজ মূলত উপরে বর্ণিত হাদীসের আলোকেই করেছিলেন।
কখনও কখনও হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তাঁর সামনে খানা পরিবশেন করা হচ্ছিল, ওদিকে সালাতেরও ইকামাত চলছিল।
এমতাবস্থায় তিনি আহার করে নিতেন অথচ ইমামের কিরা'আত তাঁর কানে ঝংকৃত হত। কিন্তু তিনি খাবার শেষ করে সালাত আদায় করে নিতেন। উল্লেখ্য, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) শরী'আত ও সুন্নাতের একজন অনন্য অনুসারী বরং প্রেমিক ছিলেন। তিনি একাজ মূলত উপরে বর্ণিত হাদীসের আলোকেই করেছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)