আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৬৭
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
এই বিষয়ে আর একটি অনুচ্ছেদ।
২৬৭. ইসহাক ইবনে মুসা আল আনসারী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন ইমাম যখন বলবে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) তখন তোমরা বলবে (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) ফিরিশতাদের এই দুআর অনুরূপ যার দুআ পাঠ হবে তাঁর পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب آخَرُ مِنْهُ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ . فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ أَنْ يَقُولَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ . وَيَقُولُ مَنْ خَلْفَ الإِمَامِ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ . وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ وَغَيْرُهُ يَقُولُ مَنْ خَلْفَ الإِمَامِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ . مِثْلَ مَا يَقُولُ الإِمَامُ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَإِسْحَاقُ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিমদের কেউ কেউ এই হাদিস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন তাঁরা বলেনঃ ইমাম বলবে (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) আর মুক্তদিরা বলবে (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) ইমাম আহমদ (রাহঃ) এর মতও এ-ই। ইবনে সিরীন প্রমুখ বলেনঃ ইমামের মত তাঁর পিছনের মুক্তদিরাও একই দুআ পাঠ করবেঃ (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) ইমাম শাফিঈ ও ইসহাক (রাহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইমাম যখন রুকু থেকে উঠার সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে, তখন ফিরিশতাকুল 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হাম্দ' বলেন। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইমামের পেছনের মুক্তাদীদের এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারাও যেন এই বাক্যটি বলে। তিনি আরো বলেন যার এই বাক্যটি ফিরিশতাগণের ন্যায় হবে তার পূববর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে। তাদের অনুরূপ হওয়ার মর্ম হলো, আগে পরে না করে তাঁদের সাথে সাথে বলা।
মা'আরিফুল হাদীসের বিভিন্ন স্থানে আমি (গ্রন্থকার) একথা বার বার লিখেছি যে সব হাদীসে বিশেষ কোন কাজের বরকতে গুনাহ ক্ষমা করার সুসংবাদ শুনান হয়েছে তাতে মূলত: সাগীরা গুনাহ বুঝানো হয়েছে। কাবীরা গুনাহের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্ সূত্রে জানা যায় যে, এ গুনাহ থেকে ক্ষমা পাবার পথ হলো তাওবা। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে আল্লাহর পূর্ণ ইখতিয়ার। তিনি নিজ দয়ায় যাকে ইচ্ছা তার বড় বড় গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
মা'আরিফুল হাদীসের বিভিন্ন স্থানে আমি (গ্রন্থকার) একথা বার বার লিখেছি যে সব হাদীসে বিশেষ কোন কাজের বরকতে গুনাহ ক্ষমা করার সুসংবাদ শুনান হয়েছে তাতে মূলত: সাগীরা গুনাহ বুঝানো হয়েছে। কাবীরা গুনাহের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্ সূত্রে জানা যায় যে, এ গুনাহ থেকে ক্ষমা পাবার পথ হলো তাওবা। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে আল্লাহর পূর্ণ ইখতিয়ার। তিনি নিজ দয়ায় যাকে ইচ্ছা তার বড় বড় গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)