আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৭
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
নামাযের কথা ভুলে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে।
১৭৭. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, লোকেরা রাসূল (ﷺ) এর নিকট নামাযের কথা ভুলে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন নিদ্রার বেলায় কোন গুনাহ নেই, গুনাহ হল জাগ্রত থাকার বেলায়। তোমাদের কেউ যদি নামায আদায় করতে ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে তবে যে সময়ই মনে পড়বে তা আদায় করে নিবে।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي النَّوْمِ عَنِ الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ ذَكَرُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَوْمَهُمْ عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ صَلاَةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي مَرْيَمَ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَأَبِي جُحَيْفَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ وَذِي مِخْبَرٍ وَيُقَالُ ذِي مِخْمَرٍ وَهُوَ ابْنُ أَخِي النَّجَاشِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الرَّجُلِ يَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ يَنْسَاهَا فَيَسْتَيْقِظُ أَوْ يَذْكُرُ وَهُوَ فِي غَيْرِ وَقْتِ صَلاَةٍ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ أَوْ عِنْدَ غُرُوبِهَا . فَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَلِّيهَا إِذَا اسْتَيْقَظَ أَوْ ذَكَرَ وَإِنْ كَانَ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ أَوْ عِنْدَ غُرُوبِهَا . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَالشَّافِعِيِّ وَمَالِكٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, আবু মারয়াম, ইমরান, ইবনে হুসাইন, জুবাইর ইবনে মুতইম, আবু জুহায়ফা, আবু সাঈদ, আমর ইবনে উমায়্যা আয যামরী এবং যূ-মিখবার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। যূ-মিখবারকে যূ-মিখমারও বলা হয়। তিনি হলেন নাজাশীর ভ্রাতুষ্পুত্র। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিসটি হাসান ও সহীহ। যদি নামাযের আগে ঘুমিয়ে যায় বা তা আদায় করতে ভুলে যায় পরে সে যদি ঠিক সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের বেলায় অর্থাৎ এমন সময় জাগ্রত হয় বা নামাযের কথা তাঁর স্মরণ হয় যে সময়টি নামাযের ওয়াক্ত নয়, তবে সে ব্যাক্তিকে কি করতে হবে এই বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় হলেও যে সময়ই সে ব্যাক্তি জাগরিত হবে বা নামাযের কথা তাঁর মনে পড়বে সে সময়ই সে তা আদায় করে নিবে। ইমাম আহমদ, ইসহাক, শাফিঈ ও মালিক (রাহঃ) এর অভিমতও এ-ই। অপর একদল বলেন সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত পূর্ণভাবে না হওয়া পর্যন্ত সে নামায পড়বে না।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন ব্যক্তি যদি (ওয়াক্ত যাওয়ার পর) ঘুম থেকে উঠে কিংবা সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। এমতাবস্থায় তার সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হবে-কাযার গুনাহ হবে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন কোন সফরে এমন ঘটনা সংঘটিত হয়। গভীর রাতে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পথ চলতেন। এরই মাঝে একটু অবসাদ কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আরাম করতে যেয়ে শুয়ে পড়েন এবং হযরত বিলাল (রা) জেগে থাকার ও সবাইকে ফজরের জন্য ঘুম থেকে ওঠানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু আল্লাহরই অসীম কুদরত, সুবহে সাদিকের সময় স্বয়ং হযরত বিলাল (রা) ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্য ওঠে যায়। সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ চোখ খোলেন। তারপর সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন। সবার সালাত কাযা হওয়ায় প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আযান দানের ব্যবস্থা করে সালাতের ইমামতি করেন এবং বলেন, নিদ্রাজনিত কারণে সালাতের সময় গড়িয়ে গেলে তাতে গুনাহ নেই। বরং জাগ্রত থেকে যদি কেউ সালাত কাযা করে, তবে তার জন্য রয়েছে গুনাহ। (মুসলিমের সংক্ষিপ্ত সার)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন কোন সফরে এমন ঘটনা সংঘটিত হয়। গভীর রাতে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পথ চলতেন। এরই মাঝে একটু অবসাদ কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আরাম করতে যেয়ে শুয়ে পড়েন এবং হযরত বিলাল (রা) জেগে থাকার ও সবাইকে ফজরের জন্য ঘুম থেকে ওঠানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু আল্লাহরই অসীম কুদরত, সুবহে সাদিকের সময় স্বয়ং হযরত বিলাল (রা) ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্য ওঠে যায়। সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ চোখ খোলেন। তারপর সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন। সবার সালাত কাযা হওয়ায় প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আযান দানের ব্যবস্থা করে সালাতের ইমামতি করেন এবং বলেন, নিদ্রাজনিত কারণে সালাতের সময় গড়িয়ে গেলে তাতে গুনাহ নেই। বরং জাগ্রত থেকে যদি কেউ সালাত কাযা করে, তবে তার জন্য রয়েছে গুনাহ। (মুসলিমের সংক্ষিপ্ত সার)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)