আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৯
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
নিফাস[১] বিশিষ্ট মহিলাকে কত দিন নামায ও রোযা থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৩৯. নসর ইবনে আলী আল জাহযামী (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) এর যুগে নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ চল্লিশ দিন নামায ও রোযা থেকে বিরত থাকতেন। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে কালোাভ হয়ে যেত বলে আমরা তখন চেহারায় হলুদ বর্ণের ওয়ারস পত্রের প্রলেপ ব্যবহার করতাম।
[১] সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মায়ের জরায়ু থেকে নির্গত হওয়া রক্ত
[১] সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মায়ের জরায়ু থেকে নির্গত হওয়া রক্ত
أبواب الطهارة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَمْ تَمْكُثُ النُّفَسَاءُ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ أَبُو بَدْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَكُنَّا نَطْلِي وُجُوهَنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَاسْمُ أَبِي سَهْلٍ كَثِيرُ بْنُ زِيَادٍ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ثِقَةٌ وَأَبُو سَهْلٍ ثِقَةٌ . وَلَمْ يَعْرِفْ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ . وَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ عَلَى أَنَّ النُّفَسَاءَ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا إِلاَّ أَنْ تَرَى الطُّهْرَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي . فَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ فَإِنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ تَدَعُ الصَّلاَةَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَيُرْوَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ إِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ خَمْسِينَ يَوْمًا إِذَا لَمْ تَرَ الطُّهْرَ . وَيُرْوَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَالشَّعْبِيِّ سِتِّينَ يَوْمًا .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। আবু সাহল মুসসা আল আযদিয়া উম্মু সলামা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্র ব্যতীত অন্য কেন সূত্রে এই হাদিসটি আমাদের জানা নাই। আবু সাহলের নাম হল কাছীর ইবনে যিয়াদ। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল বুখারী (রাহঃ) বলেন আলী ইবনে আবদিল আলা ও আবু সাহল রাবী হিসাবে নির্ভরযোগ্য। আবু সাহলের সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এই হাদিসটির কথা ইমাম মুহাম্মাদ আল বুখারী জানেন না।
সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের আলিমদের সকলেই একমত যে, নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ নামায থেকে চল্লিশ দিন বিরত থাকবে। তবে এর পূর্বেই যদি পাক হয়ে যায় তবে গোসল করে যথারীতি নামায আদায় করতে থাকবে। চল্লিশ দিনের পরও যদি রক্ত নির্গত হতে দেখে তবে অধিকাংশ আলিমের মতে সে আর সালাত ত্যাগ করতে পারবে না। অধিকাংশ ফকীহের অভিমত এ-ই। ইমাম (আবু হানীফা) সুফিয়ান, ছাওরী, ইবনে মুবারক শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই মত ব্যক্ত করেছেন। হাসান বসরী থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি পাক না হয় তবে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত সে নামায থেকে বিরত থকবে। আতা ‘ইবনে আবী রাবাহ এবং শা’বী থেকে বর্ণিত আছে যে, ষাট দিন পর্যন্ত সে নামায ও রোযা থেকে বিরত থাকবে।
সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের আলিমদের সকলেই একমত যে, নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ নামায থেকে চল্লিশ দিন বিরত থাকবে। তবে এর পূর্বেই যদি পাক হয়ে যায় তবে গোসল করে যথারীতি নামায আদায় করতে থাকবে। চল্লিশ দিনের পরও যদি রক্ত নির্গত হতে দেখে তবে অধিকাংশ আলিমের মতে সে আর সালাত ত্যাগ করতে পারবে না। অধিকাংশ ফকীহের অভিমত এ-ই। ইমাম (আবু হানীফা) সুফিয়ান, ছাওরী, ইবনে মুবারক শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই মত ব্যক্ত করেছেন। হাসান বসরী থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি পাক না হয় তবে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত সে নামায থেকে বিরত থকবে। আতা ‘ইবনে আবী রাবাহ এবং শা’বী থেকে বর্ণিত আছে যে, ষাট দিন পর্যন্ত সে নামায ও রোযা থেকে বিরত থাকবে।