আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ৮৭
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
বমি ও নাকসিরের কারণে উযু।
৮৭. আবু উবাইদা ইবনে আবিস সাফার ও ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... মা‘দান ইবনে আবী তালহার সনদে আবুদ-দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল (ﷺ) এর বমি হল। পরে তিনি উযু করলেন। মা‘দান ইবনে আবী তালহা বরেন, দামিশক মসজিদে ছাওবান (রাযিঃ) এর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলে তাঁর কাছে আবুদ -দারদা (রাযিঃ) এর এই রিওয়ায়াতটির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন আবুদ-দারদা সত্য বলোছেন। তখন আমিই নবী (ﷺ) কে উযুর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।
أبواب الطهارة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ
حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ فَتَوَضَّأَ . فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَابْنُ أَبِي طَلْحَةَ أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنَ التَّابِعِينَ الْوُضُوءَ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَدْ جَوَّدَ حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ هَذَا الْحَدِيثَ . وَحَدِيثُ حُسَيْنٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ . وَرَوَى مَعْمَرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَوْزَاعِيَّ وَقَالَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَإِنَّمَا هُوَ مَعْدَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসহাক ইবনে মানসূল (রাহঃ) ও (রাবীর নাম) মা‘দান ইবনে তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনে আবী তালহা অধিকতর সহীহ। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈগণের একধিক আলিম ও ফকীহ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে অযু করার বিধান দিয়েছেন। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনে মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এরও এই অভিমত। আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেনঃ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে অযুর দরকার নেই। ইমাম মালিক ও শাফিঈও এই মত পোষণ করেন হুসাইন আল-মুআল্লিম এই হাদিসটি উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে হুসাইন বর্ণিত হাদিসটই সর্বাধিক সহীহ। ইয়হইয়া ইবনে আবী কাছীরের সূত্রে মা‘মারও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে ভুল করে ফেলেছেন এবং ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ-খালিদ ইবনে মা‘দান-আবুদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদের উল্লেখ করেছেন। এতে আল-আওযাই (রাহঃ)-র উল্লেখ করেননি। তিনি খালিদ ইবনে মা‘দান বলেছেন, অথচ ইনি হলেন মা‘দান ইবনে আবী তালহা।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে অযু ভেঙ্গে যায়। মানুষের শরীর থেকে নাপাক বের হওয়ার স্বাভাবিক স্থান হলো পায়খানা এবং পেশাবের রাস্তা। এ দু’টির বাইরে নাক থেকে রক্ত বের হলে অযু ভাঙ্গা দ্বারা আরো প্রমাণিত হয় যে, পায়খানা এবং পেশাবের রাসত্মা ব্যতীত শরীরের ভিন্ন কোন স্থান থেকে রক্ত বের হলেও অযু ভেঙ্গে যাবে। এ বিষয়ে সহীহ সনদে হযরত ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, নামাযের মধ্যে কারো নাক দিয়ে রক্ত বের হলে বা বমি বেরিয়ে আসলে অথবা মজী দেখলে সে ব্যক্তি নামায থেকে সরে গিয়ে অযু করবে। অতঃপর ফিরে এসে ছুটে যাওয়া নামায পুরো করবে যতক্ষণ কথা না বলে। (আব্দুর রাযযাক: ৩৬০৯) হযরত আলী রা. থেকে হাসান সনদে বর্ণিত আছে যে, তোমাদের কেউ যখন তার পেটে (বায়ুজনিত) পীড়া অথবা নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া বা বমি লক্ষ্য করে, সে যেন নাকে হাত দিয়ে বের হয়ে গিয়ে অযু করে নেয়। (আব্দুর রাযযাক: ৩৬০৭)
বর্ণনাকারী: