কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
হাদীস নং: ৪২৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৪৩
যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
গুনাহ-এর উল্লেখ
৪২৪৩। আবু বাকর ইব্ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আয়েশা! তুমি সে সব গুনাহ থেকে দূরে থাক যেগুলো তোমার কাছে ছোট বলে মনে হয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা সেগুলোর জন্যও পাকড়াও করবেন। গুনাহ থেকে সর্বাবস্থায় বেঁচে থাকা চাই- তা বড় হোক কিংবা ছোট।
كتاب الزهد
بَاب ذِكْرِ الذُّنُوبِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ بَانَكَ، قَالَ سَمِعْتُ عَامِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ : حَدَّثَنِي عَوْفُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ : " يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الأَعْمَالِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচবার জন্য চেষ্টা করা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সগীরা (ছোট) গুনাহ সম্পর্কে কোন খেয়াল করা হয় না এবং তা থেকে বাঁচবার জন্যও চেষ্টা করা হয় না। কিন্তু তার পরিণাম খুবই খারাপ। সগীরা গুনাহ সম্পর্কে কোন খেয়াল না করার কারণে অজ্ঞাতসারে মানুষ গুনাহ করতে থাকে এবং আমলনামা গুনাহতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন মানুষের সামনে যখন আমলনামা খোলা হবে, তখন দেখতে পাবে যে, ছোট থেকে ছোট গুনাহও আমলনামা থেকে বাদ পড়েনি। প্রত্যেককে তার ছোট-বড় গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে এবং তার শাস্তি প্রদান করা হবে।
সূরা যিলযালে এ হাকীকতের উপর আলোকপাত করা হয়েছে:
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"এবং যে অণু পরিমাণ মন্দকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।"
মুসনাদে আহমদে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন: সাবধান! ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা মানুষের উপর আপতিত হবে এবং তাকে ধ্বংস করে দিবে।
কবীরা গুনাহর তুলনায় সগীরা গুনাহ ছোট। কিন্তু প্রত্যেক গুনাহ আল্লাহর হুকুমের নাফরমানী বিধায় আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবে। তাই সগীরা গুনাহ ছোট অপরাধ হলেও সে সম্পর্কে মোটেই উদাসীন থাকা উচিত নয়। কবীরা ও সগীরা গুনাহর তুলনা হচ্ছে অতি বিষাক্ত এবং অল্প বিষাক্ত সাপের মত। যেরূপ উভয় ধরনের সাপের দংশন থেকে আমরা আত্মরক্ষা করতে চাই, সেরূপ গুনাহ বড় হোক আর ছোট হোক, তা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
যদিও নবী করীম ﷺ আয়েশা (রা)-কে উদ্দেশ্য করে উক্ত উপদেশ ও সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু আসলে উম্মতে মুহাম্মদীর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যেই তা প্রযোজ্য।
সূরা যিলযালে এ হাকীকতের উপর আলোকপাত করা হয়েছে:
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"এবং যে অণু পরিমাণ মন্দকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।"
মুসনাদে আহমদে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন: সাবধান! ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা মানুষের উপর আপতিত হবে এবং তাকে ধ্বংস করে দিবে।
কবীরা গুনাহর তুলনায় সগীরা গুনাহ ছোট। কিন্তু প্রত্যেক গুনাহ আল্লাহর হুকুমের নাফরমানী বিধায় আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবে। তাই সগীরা গুনাহ ছোট অপরাধ হলেও সে সম্পর্কে মোটেই উদাসীন থাকা উচিত নয়। কবীরা ও সগীরা গুনাহর তুলনা হচ্ছে অতি বিষাক্ত এবং অল্প বিষাক্ত সাপের মত। যেরূপ উভয় ধরনের সাপের দংশন থেকে আমরা আত্মরক্ষা করতে চাই, সেরূপ গুনাহ বড় হোক আর ছোট হোক, তা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
যদিও নবী করীম ﷺ আয়েশা (রা)-কে উদ্দেশ্য করে উক্ত উপদেশ ও সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু আসলে উম্মতে মুহাম্মদীর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যেই তা প্রযোজ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)