কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা

হাদীস নং: ৪২০৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২০৩
যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
রিয়াও খ্যাতি
৪২০৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার, হারূন ইব্‌ন আব্দুল্লাহ হাম্মাল ও ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ)...... আবু সা'দ ইব্‌ন আবু ফাযালা আনসারী (রাযিঃ) (তিনি একজন সাহাবী ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে কিয়ামতের দিনে একত্রিত করবেন, যে দিনের ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেঃ যে ব্যক্তি কোন আমলে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করেছে, সে যেন তার আমলের সাওয়াব আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের কাছে প্রত্যাশা করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা শরীকের অংশীদারীত্ব থেকে অমুখাপেক্ষী।
كتاب الزهد
بَاب الرِّيَاءِ وَالسُّمْعَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي سَعْدِ بْنِ أَبِي فَضَالَةَ الأَنْصَارِيِّ، - وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ لِيَوْمٍ لاَ رَيْبَ فِيهِ نَادَى مُنَادٍ مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمَلَهُ لِلَّهِ فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উভয় হাদীসের সার ও মূল পয়গাম হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা কেবল ঐ আমলকেই গ্রহণ করেন এবং এর উপরই প্রতিদান দেন, যা ইখলাসের অনুভূতি নিয়ে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টি ও রহমতের কামনায় করা হয় এবং আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে এতে শরীক না করা হয়। এর বিপরীত যে আমলের দ্বারা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অথবা এর দ্বারা কোন প্রকার স্বার্থসিদ্ধি উদ্দেশ্য হয়, আল্লাহ্ তা'আলা সেটা কখনো কবুল করেন না। কেননা, তিনি অংশীদারিত্ব থেকে মুক্ত এবং শিরকের সংমিশ্রণ থেকেও অসন্তুষ্ট।

এ পরিণাম তো হচ্ছে ঐসব আমলের, যেগুলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে নিয়্যতের মধ্যে পূর্ণ ইখলাস ও একনিষ্ঠতা থাকে না; বরং কোন না কোনভাবে এতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো অংশ এসে যায়। কিন্তু যেসব নেক আমল কেবল রিয়ার সাথেই করা হয়, যেগুলো দ্বারা শুধু নাম-যশ, লোক দেখানো, খ্যাতিলাভ এবং মানুষের ভক্তি অর্জনই উদ্দেশ্য হয়, সেগুলো শুধু প্রত্যাখ্যান করে এসব আমলকারীর মুখেই ছুঁড়ে মারা হবে না; বরং এসব রিয়াকার মানুষ নিজেদের এসব আমলের কারণে জাহান্নামেও নিক্ষিপ্ত হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান