কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
হাদীস নং: ৪১৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৯৮
যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
আমল কবুল না হওয়ার ভয়
৪১৯৮। আবু বাকর (রাহঃ)........ আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল!
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ
-এ আয়াত দ্বারা কি সে লোককে বুঝানো হয়েছে, যে ব্যভিচার করে, চুরি করে এবং সূরা পান করে? তিনি বললেনঃ না, হে আবু বকর তনয়া (অথবা তিনি বলেছেনঃ হে সিদ্দীকের কন্যা)। বরং এর দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে সিয়াম পালন করে, দান খয়রাত করে, সালাত আদায় করে, আর সে এই ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে যে, তার ইবাদত কবুল করা হবে না।
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ
-এ আয়াত দ্বারা কি সে লোককে বুঝানো হয়েছে, যে ব্যভিচার করে, চুরি করে এবং সূরা পান করে? তিনি বললেনঃ না, হে আবু বকর তনয়া (অথবা তিনি বলেছেনঃ হে সিদ্দীকের কন্যা)। বরং এর দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে সিয়াম পালন করে, দান খয়রাত করে, সালাত আদায় করে, আর সে এই ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে যে, তার ইবাদত কবুল করা হবে না।
كتاب الزهد
بَاب التَّوَقِّي عَلَى الْعَمَلِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ (وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ) أَهُوَ الرَّجُلُ الَّذِي يَزْنِي وَيَسْرِقُ وَيَشْرَبُ الْخَمْرَ قَالَ " لاَ يَا بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ - أَوْ يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ - وَلَكِنَّهُ الرَّجُلُ يَصُومُ وَيَتَصَدَّقُ وَيُصَلِّي وَهُوَ يَخَافُ أَنْ لاَ يُتَقَبَّلَ مِنْهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবী ভাষায় أتى শব্দ শুধু সম্পদ বা পার্থিব জিনিস দান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একাধিক অর্থে তা ব্যবহার করা হয়। যেমন أتى الأمر ‘সে কোন কাজ করল’ أتى الجرم 'সে অপরাধ করল'। তাই আয়েশা (রা)-এর মনে সন্দেহ হয়েছিল, হয়ত يؤتون ما آتوا এর অর্থ, 'তারা যা করার তা করল' অর্থাৎ চুরি করার বা শরাব পান করার পর তাদের মনে আল্লাহর ভয় উদিত হল এবং এ কারণে তারা নেকীর কাজে অগ্রগামীদের অন্তর্গত হল। নবী ﷺ তাঁর ভুল ধারণা নিরসন করে দিয়ে বললেন। নেক কাজে দ্রুত ধাবমান এবং অগ্রগামীরা নামায, রোযা ও দান-খয়রাত করার পরও ভয় করে থাকে যে, তাদের এসব ইবাদত কবুল করা হবে না। সূরা মু'মিনুনে মু'মিন বান্দার এ গুণের উল্লেখ রয়েছে। বলা বাহুল্য, আল্লাহর খাঁটি বান্দারা আল্লাহর পথে দিনরাত মেহনত করে ও আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য নিজের প্রাণ ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়েও ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন। তাঁরা গর্ববোধ করেন না। তাই সারা জীবন ইসলামের অতুলনীয় খিদমত করার পরও মৃত্যুকালে উমর (রা) অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। তিনি আখিরাতের হিসেব-নিকাশকে ভীতির চোখে দেখতেন এবং আফসোস করে বলতেন যে, তিনি যদি পশু-পাখি হয়ে জন্ম নিতেন, তাহলে কোনরূপ হিসেব দিতে হতো না। এ ব্যাপারে ইমাম হাসান বসরী (র) অত্যন্ত সুন্দর বলেছেনঃ "মু'মিন ইবাদত করেও সন্ত্রস্ত থাকে এবং মুনাফিক অপরাধ করেও ভয়শূন্য থাকে।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)