কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৮. পানীয় দ্রব্যাদীর বিধান

হাদীস নং: ৩৩৮০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮০
পানীয় দ্রব্যাদীর বিধান
শরাবের উপর দশ প্রকারে লা'নত করা হয়েছে
৩৩৮০। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শরাবের উপর দশ প্রকারে লানত করা হয়েছেঃ স্বয়ং শরাব (অভিশপ্ত) তা উৎপাদনকারী, যে তা উৎপাদন করায়, তা বিক্রেতা, তা ক্রেতা, তা বহণকারী, তা যার জন্য বহন করা হয়, এর মূল্য ভক্ষণকারী, তা পানকারী ও তা পরিবেশনকারী (এরা সবাই অভিশপ্ত)।
كتاب الأشربة
بَاب لُعِنَتْ الْخَمْرُ عَلَى عَشْرَةِ أَوْجُهٍ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْغَافِقِيِّ، وَأَبِي، طُعْمَةَ مَوْلاَهُمْ أَنَّهُمَا سَمِعَا ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لُعِنَتِ الْخَمْرُ عَلَى عَشَرَةِ أَوْجُهٍ بِعَيْنِهَا وَعَاصِرِهَا وَمُعْتَصِرِهَا وَبَائِعِهَا وَمُبْتَاعِهَا وَحَامِلِهَا وَالْمَحْمُولَةِ إِلَيْهِ وَآكِلِ ثَمَنِهَا وَشَارِبِهَا وَسَاقِيهَا ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

লা'নত ও অভিসম্পাতের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর রহমত ও তাঁর কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকার বদদু‘আ করা। এ হিসাবে হাদীসের মর্ম এই হল যে, যে ব্যক্তি মদের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখে- চাই সে প্রস্তুতকারী হোক অথবা প্রস্তুতের নির্দেশ দানকারী, পানকারী অথবা পরিবেশনকারী, ক্রয়কারী হোক অথবা বিক্রয়কারী, কাউকে উপহার দানকারী হোক অথবা কারো কাছে বহনকারী- এদের সবার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদদু‘আ করেছেন যে, এরা আল্লাহর, রহমত ও কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকুক। প্রায় এ বিষয় বস্তুরই একটি হাদীস মুসনাদে আহমাদ ও আবু দাউদ শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ ধরনের বক্তব্য ও শিক্ষা সাহাবায়ে কেরামকে মদের ব্যাপারে কতটুকু কঠোর মনোভাবাপন্ন বানিয়ে দিয়েছিল, এর অনুমান নিম্নের এ একটি ঘটনা থেকে করা যেতে পারে। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর আঙ্গুরের অনেক বাগান ছিল। একবার এগুলোতে প্রচুর ফল আসল। তখন এগুলোর দেখাশুনায় নিয়োজিত তাঁরই নিযুক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী ও তত্ত্বাবধায়ক লোকটি তাঁর কাছে পত্র লিখল যে, এ মওসুমে আঙ্গুরের ফলন প্রচুর হয়েছে। আমার আশংকা যে, সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না করলে এগুলো বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনি ভালো মনে করলে আমি এসব আঙ্গুর থেকে রস সংগ্রহ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি। হযরত সা'দ রাযি. এর উত্তরে পত্র লিখলেন: إذا جاءك كتابي هذا فاعتزل ضيعتي فوالله لا أئتمنك على شيء بعده أبدا অর্থাৎ, যখন তোমার নিকট আমার এ পত্র পৌঁছবে, তখন তুমি আমার বাগান থেকে পৃথক হয়ে যাও। কেননা, আমি এরপর কোন বিষয়ে তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না। -নাসায়ী

যাহোক, হযরত সা'দ রাযি. এ বাগানরক্ষীকে কেবল এ কারণে পৃথক ও চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে দিলেন যে, সে আঙ্গুর থেকে রস বের করে এটা সংরক্ষণ করার কথা চিন্তা করে ছিল, যার দ্বারা মদ তৈরী হতে পারত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান