কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
১২. লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ২২৩৮
লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়
সকাল বেলা বরকতময় হওয়া প্রসঙ্গে
২২৩৮। ইয়াকুব ইবন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ).... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেনঃ 'ইয়া আল্লাহ! দিনের শুরুতে আমার উম্মাতের জন্য বরকত দাও'।
أبواب التجارات
بَاب مَا يُرْجَى مِنْ الْبَرَكَةِ فِي الْبُكُورِ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْجُدْعَانِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দুআ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআ করেন, যেন তাঁর উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখা হয়। ভোরবেলায় বরকত রাখার অর্থ এ সময় যে কাজ করা হবে তা যেন বরকতপূর্ণ ও কল্যাণময়। সে কাজটি যেন তার কর্তার পক্ষে উপকারী হয় এবং কোনওরূপ ক্ষতির কারণ না হয়। হযরত সাখ্র ইবন ওয়াদা'আ রাযি. একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। অন্যসব সাহাবীর মতো তিনিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা অনুসরণে যত্নবান ছিলেন। ফলে তিনি এ হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ অনুযায়ী তার ব্যবসায়িক কাজকর্ম ভোরবেলায় শুরু করতেন। কোথাও পণ্য পাঠাতে হলে সকালবেলা পাঠাতেন। এতে করে তাঁর ব্যবসায় খুব লাভ হতো। একপর্যায়ে তিনি বেশ সম্পদশালী হয়ে ওঠেন।
সাহাবায়ে কেরাম তো খুব গুরুত্বের সঙ্গে হাদীছটির উপর আমল করতেন। কিন্তু আমরা বড় গাফেল। আলোচ্য এ হাদীছটির অনুসরণ আমাদের মধ্যে খুবই কম। মানুষ অনেক রাত করে ঘুমায়। ফলে ভোরেও তার ঘুম ধরে। তাই দেখা যায় নামাযী মানুষও ফজরের নামায পড়ার পর লম্বা সময় ঘুমিয়ে থাকে। ফলে তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যে সময়ে কাজ করলে বরকত পাওয়া যেত, সে সময়টা তাদের ঘুমের মধ্যেই চলে যায়।
এ হাদীছটিতে বিশেষ কোনও কাজের বিষয়ে বরকতের দুআ করা হয়নি। বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে দুআ করেছেন যে, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখুন। বোঝা গেল যে-কোনও কাজই ভোরবেলায় করলে বরকত লাভ হবে, যদি সে কাজ এ সময়ে করা সম্ভব হয়। যেমন পড়াশোনা করা, যিকির ও তিলাওয়াত করা, অজিফা আদায় করা, কৃষিকার্য করা, সফর করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা, কোনও নির্মাণকার্য শুরু করা, বিবাহের আকদ করা, পারস্পরিক যে-কোনও চুক্তি সম্পাদন করা ইত্যাদি।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভোরবেলায় কোনও কাজ করলে সে কাজে বরকত পাওয়া যায়।
খ. বরকত একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা। কোনও ঈমানদার ব্যক্তির তা অস্বীকার করা উচিত নয়।
গ. উম্মতের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল অপরিসীম, যে কারণে তিনি তাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করেছেন এবং সে দুআর ভেতর দিয়ে তাদেরকে কল্যাণলাভের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরাম তো খুব গুরুত্বের সঙ্গে হাদীছটির উপর আমল করতেন। কিন্তু আমরা বড় গাফেল। আলোচ্য এ হাদীছটির অনুসরণ আমাদের মধ্যে খুবই কম। মানুষ অনেক রাত করে ঘুমায়। ফলে ভোরেও তার ঘুম ধরে। তাই দেখা যায় নামাযী মানুষও ফজরের নামায পড়ার পর লম্বা সময় ঘুমিয়ে থাকে। ফলে তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যে সময়ে কাজ করলে বরকত পাওয়া যেত, সে সময়টা তাদের ঘুমের মধ্যেই চলে যায়।
এ হাদীছটিতে বিশেষ কোনও কাজের বিষয়ে বরকতের দুআ করা হয়নি। বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে দুআ করেছেন যে, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখুন। বোঝা গেল যে-কোনও কাজই ভোরবেলায় করলে বরকত লাভ হবে, যদি সে কাজ এ সময়ে করা সম্ভব হয়। যেমন পড়াশোনা করা, যিকির ও তিলাওয়াত করা, অজিফা আদায় করা, কৃষিকার্য করা, সফর করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা, কোনও নির্মাণকার্য শুরু করা, বিবাহের আকদ করা, পারস্পরিক যে-কোনও চুক্তি সম্পাদন করা ইত্যাদি।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভোরবেলায় কোনও কাজ করলে সে কাজে বরকত পাওয়া যায়।
খ. বরকত একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা। কোনও ঈমানদার ব্যক্তির তা অস্বীকার করা উচিত নয়।
গ. উম্মতের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল অপরিসীম, যে কারণে তিনি তাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করেছেন এবং সে দুআর ভেতর দিয়ে তাদেরকে কল্যাণলাভের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)