কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
১২. লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৪১
আন্তর্জাতিক নং: ২১৪১
লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়
উপার্জনের প্রতি উৎসাহ দান
২১৪১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ ইবন খুবায়বের চাচা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একবার এক মজলিসে বসাছিলাম। এমন সময় নবী (ﷺ) এলেন। তাঁর মাথায় পানির চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে বললঃ আপনাকে আমরা আজ খুব প্রফুল্ল দেখছি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর মজলিসের লোকজন ধন-সম্পদের আলোচনায় মনোযোগ দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকওয়ার অধিকারী লোকদের ধন-সম্পদের মালিক হওয়াতে কোন দোষ নেই। আর একজন মুত্তাকীর জন্য ধন-সম্পদ থেকে সুস্থতা অধিক উত্তম। আর মনের প্রফুল্লতা এক বিশেষ নিয়ামত।
أبواب التجارات
بَاب الْحَثِّ عَلَى الْمَكَاسِبِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ كُنَّا فِي مَجْلِسٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَعَلَى رَأْسِهِ أَثَرُ مَاءٍ فَقَالَ لَهُ بَعْضُنَا نَرَاكَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ . فَقَالَ " أَجَلْ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ " . ثُمَّ أَفَاضَ الْقَوْمُ فِي ذِكْرِ الْغِنَى فَقَالَ " لاَ بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى وَطِيبُ النَّفْسِ مِنَ النِّعَمِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যারা আল্লাহকে ভয় করেন তারা নিজেদের ধন-দৌলত ভুল-পথে খরচ করেন না। মুত্তাকী ব্যক্তি দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতের ভোগ-বিলাসকে অগ্রাধিকার দেন। তাই তিনি ধন-দৌলতকে এমন সব কাজে ব্যয় করেন যার প্রতিফল আল্লাহ তাকে আখিরাতের জীবনে দান করবেন। আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তিগণ অসৎ ও অন্যায় উপায়ে অর্থ উপার্জনে করেন না; সম্পদ উপার্জনের জন্য নিজের যাবতীয় যোগ্যতাও নিয়োজিত করেন না। মুসলমান হিসেবে তাদের অবশ্য পালনীয় যে সব যিম্মাদারী রয়েছে, তা সম্পাদন করার ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জন বাধা সৃষ্টি করলে তা তারা উপেক্ষা করে দীনের যিম্মাদারী পালন করেন। সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও তারা খুব সতর্ক থাকেন। তারা সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করেন। প্রয়োজন মোতাবিক খরচ করেন। খরচের ব্যাপারে কার্পণ্য করেন না আবার ইসরাফ বা অতিব্যয়ও করেন না। তাই আল্লাহর নবী তাকওয়া ও আল্লাহ-ভীতির সাথে ধন-দৌলতকে আপত্তিকর মনে করেননি।
নবী করীম ﷺ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে তার সম্পদের চেয়েও উত্তম জ্ঞান করেছেন। কারণ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তি দিন-রাত আখিরাতের চিন্তা করেন এবং আখিরাত যাতে সুন্দর ও সুখকর হয়, তার জন্য আমলও করেন। তাই তিনি ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হলে আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয়ে বেশি সময় ও শ্রম কুরবান করে আল্লাহর কুরবত বা নৈকট্য হাসিল করতে পারবেন। অধিকন্ত আল্লাহ-ভীরু মালদার ব্যক্তিকে আখিরাতের যিন্দেগীতে হিসাব-নিকাশের যে ঝামেলা পোহাতে হবে, আল্লাহ-ভীরু স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে তা পোহাতে হবে না। সম্পদ যেরূপ আল্লাহর নিয়ামত, মনের প্রফুল্লতাও সেরূপ আল্লাহর নিয়ামত। সম্পদের দ্বারা মনের প্রফুল্লতা হাসিল করা যায় না। বস্তুত আল্লাহর যিকিরে মনের শান্তি ও প্রফুল্লতা রয়েছে।
নবী করীম ﷺ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে তার সম্পদের চেয়েও উত্তম জ্ঞান করেছেন। কারণ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তি দিন-রাত আখিরাতের চিন্তা করেন এবং আখিরাত যাতে সুন্দর ও সুখকর হয়, তার জন্য আমলও করেন। তাই তিনি ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হলে আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয়ে বেশি সময় ও শ্রম কুরবান করে আল্লাহর কুরবত বা নৈকট্য হাসিল করতে পারবেন। অধিকন্ত আল্লাহ-ভীরু মালদার ব্যক্তিকে আখিরাতের যিন্দেগীতে হিসাব-নিকাশের যে ঝামেলা পোহাতে হবে, আল্লাহ-ভীরু স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে তা পোহাতে হবে না। সম্পদ যেরূপ আল্লাহর নিয়ামত, মনের প্রফুল্লতাও সেরূপ আল্লাহর নিয়ামত। সম্পদের দ্বারা মনের প্রফুল্লতা হাসিল করা যায় না। বস্তুত আল্লাহর যিকিরে মনের শান্তি ও প্রফুল্লতা রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: