কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬২৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৫
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর (অন্তিম) রোগের বর্ণনা প্রসঙ্গে
১৬২৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....উম্মু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অন্তিম শয্যায় থাকা কালে বলতেন; "সালাত এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস/দাসী"। এ বলার সময় তাঁর যবান মুবারক জড়িয়ে যায়।
أبواب الجنائز
بَاب مَا جَاءَ فِي ذِكْرِ مَرَضِ رَسُولِ اللهِ ﷺ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ سَفِينَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى مَا يَفِيضُ بِهَا لِسَانُهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এ দুনিয়া থেকে এবং আপন উম্মত থেকে চির বিদায়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে বিশেষভাবে দু'টি বিষয়ের তাকীদ ও ওসিয়্যত করেছিলেন। একটি এই যে, নামাযের প্রতি যত্নবান থাকবে, এতে যেন উদাসীনতা ও ত্রুটি না হয়। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং বান্দার উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক। দ্বিতীয়টি এই যে, দাস-দাসীদের সাথে আচরণের সময় ঐ মহা প্রতাপশালী আল্লাহকে ভয় করবে, যার আদালতে সবাইকে হাযির হতে হবে এবং মযলুমকে যালেম থেকে বদলা দেওয়া হবে। দাস-দাসী ও অধীনস্থদের বেলায় এটা কত বড় মর্যাদার কথা যে, রহমতের নবী (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সর্বশেষ বাক্য আল্লাহর হকের সাথে তাদের হক আদায় ও তাদের সাথে উত্তম আচরণের ওসিয়্যত করেছেন।

এ হাদীস অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর মুখ থেকে সর্বশেষ যে বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল و(اتقوا الله فيما) ملكت أيمانكم আর হযরত আয়েশা রাযি.-এর এক বর্ণনা দ্বারা যা বুখারী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে, জানা যায় যে, সর্বশেষ বাক্য যা হুযুর (ﷺ)-এর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মহান বন্ধু! হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ দু'টি হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় বিধান করেছেন যে, উম্মতকে সম্বোধন করে তিনি ওসিয়্যত হিসাবে শেষকথা তো সেটাই বলেছিলেন, যা হযরত আলী রাযি.-এর উপরের হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। আর এরপরে আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে শেষ বাক্য ওটাই বলেছিলেন, যা হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)