আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৬০
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৫৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৭৮৭. ঘোড়া ও গাধার নামকরণ
২৬৬০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক সময় মদীনায় ভীতি ছড়িয়ে পড়লে নবী (ﷺ) আমদের মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন। পরে তিনি বললেন, ভীতির কোন কারণ তো আমি দেখতে পেলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্র স্রোতের ন্যায় (দ্রুতগামী) পেয়েছি।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ اسْمِ الفَرَسِ وَالحِمَارِ
2857 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ فَزَعٌ بِالْمَدِينَةِ، فَاسْتَعَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا لَنَا يُقَالُ لَهُ مَنْدُوبٌ، فَقَالَ: «مَا رَأَيْنَا مِنْ فَزَعٍ وَإِنْ وَجَدْنَاهُ لَبَحْرًا»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, প্রয়োজনীয় সেই সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু তালহার ঘোড়া কর্জ গ্রহণ করে তাতে আরোহণ করেছিলেন। বস্তুত এ ঘটনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বীরত্ব ও জিম্মাদারীর অনুভূতির বৈশিষ্ট্য আমাদের সামনে আসে যে, বিপদকালে সত্য উদঘাটন ও যাচাই বাছাইয়ের জন্যে একাকী তিনি চলে গেলেন। তারপর প্রত্যাবর্তন করে লোকজনকে নির্ভয় করলেন, যাতে তারা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়। আনুষঙ্গিক রূপে এটাও জানা গেল যে, হযরত আবু তালহার ঘোড়াটি অত্যন্ত ধীরগতির ও অলস ছিল বলে লোকে তার নামই দিয়েছিল ‘মানদুব’ (মন্থর গামী)। কিন্তু ঘোড়াটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যানবাহন হয়ে এরূপ তেজী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়ে উঠল যে, তিনি স্বয়ং সেটিকে ‘প্রবহমান সমুদ্র’ (বিশাল গতিময়) বলে অভিহিত করলেন। অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়াকে بحر বলা হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)