কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫. নামাযের আদ্যোপান্ত বর্ণনা এবং সুন্নাতসমূহ

হাদীস নং: ১১৯৫
আন্তর্জাতিক নং: ১১৯৫
নামাযের আদ্যোপান্ত বর্ণনা এবং সুন্নাতসমূহ
বিতরের সালাতের পর বসে দুই রাক'আত সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
১১৯৫। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) ........ উম্মু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বিতরের পরে বসে দুই রাক'আত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন।
أبواب إقامة الصلوات والسنة فيها
بَاب مَا جَاءَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْوِتْرِ جَالِسًا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ مُوسَى الْمَرَئِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْوِتْرِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিতরের সালাতের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক দুই রাক'আত নফল সালাত বসে আদায় করার বর্ণনা হযরত উম্মু সালামা (রা) ছাড়াও হযরত আয়েশা ও হযরত আবূ উমামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে কিছু সংখ্যক আলিম বলেছেন: বিতরের পর দুই রাক'আত সালাত বসে আদায় করাই উত্তম। কিন্তু অপরাপর আলিমগণ বলেছেনঃ এ বিষয়ে সাধারণ উম্মাতকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে তুলনা করার অবকাশ নেই। সহীহ্ মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বসে সালাত আদায় করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বরাতে এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, বসে সালাত আদায়ে রয়েছে দাঁড়ান অবস্থায় সালাত আদায়ের চেয়ে অর্ধেক সাওয়াব, অথচ আপনি বসে সালাত আদায় করছেন? তিনি বললেন: মাস'আলাও ঠিক আছে (বসে আদায় করলে দাঁড়ানোর অর্ধেক সাওয়াব) কিন্তু এ ব্যাপারে আমি তোমাদের মত নই। আমার সাথে আল্লাহর রয়েছে তোমাদের তুলনায় ভিন্নধর্মী সম্পর্ক, অর্থাৎ আমার বসে সালাত আদায়েও রয়েছে পূর্ণ সাওয়াব। এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ আলিম বলেছেন: বিতরের পর দুই রাক'আত নফলের ব্যাপারে পৃথক কোন নিয়ম নেই। বরং সাধারণ বিধান বসে সালাত আদায়ে রয়েছে দাঁড়ান অবস্থায় সালাত আদায়ের চেয়ে অর্ধেক সাওয়াব কার্যকর হবে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।

বিতর সম্পর্কে অন্য হাদীসে আছে যে, "বিতর রাতের সর্বশেষ সালাত হওয়া চাই।" তবে বিতরের পর দুই রাক'আত সালাত আদায় ওই হাদীসের পরিপন্থী নয়। কেননা এই দুই রাক'আতও বিতরের অনুগামী। এর পৃথক কোন অবস্থান নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)