কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়;নামাযের ওয়াক্তের বিবরণ
হাদীস নং: ৬৮২
আন্তর্জাতিক নং: ৬৮২
নামাযের অধ্যায়;নামাযের ওয়াক্তের বিবরণ
আসরের সালাতের ওয়াক্ত
৬৮২। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ) ….. আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূর্য উপরে পূর্ণ উজ্জ্বল থাকাকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আসরের সালাত আদায় করতেন। এরপর সালাত শেষে কোন গমনকারী তার আওয়ালী নামক বাসস্থানে যেত, অথচ তখনও সূর্য উপরে থাকত।
كتاب الصلاة أبواب مواقيت الصلاة
بَاب وَقْتِ صَلَاةِ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আনাস (রা) দীর্ঘজীবি ছিলেন। তিনি হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে ইন্তিকাল করেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগের অবসানের পর উমায়্যা খিলাফতের প্রায় পঁচিশ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় বনু উমায়্যার অনেক শাসক আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করত। হযরত আনাস (রা) এ কাজকে ভুল এবং সুন্নাত পরিপন্থী মনে করতেন এবং সময়-সুযোগমত তিনি এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করতেন। এই হাদীস বর্ণনার মূলে তাঁর এ উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এত বিলম্বে কখনো আসরের সালাত আদায় করতেন না। তিনি যখন আসরের সালাত আদায় করতেন তখন সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকত। দীপ্তিও অপরিবর্তিত থাকত। এমনকি তাঁর সাথে সালাত আদায় করে যদি কেউ মদীনার উপকণ্ঠে যেত তখনো সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে দীপ্তিমানই প্রতিভাত হতো। 'আওয়ালী' মদীনার নিকটবর্তী উপকণ্ঠকে বলা হয়। এটি মদীনা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এসবের মধ্যে যেটি অদূরে সেটির ব্যবধান দুই মাইল আর যা দূরে তার দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় মাইল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)