আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৫- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৫৬
- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
১৭১৮. যখন কেউ কোন কিছু ওয়াক্‌ফ করে এবং তা অন্যের হাওয়ালা না করে, তবুও তা জায়েয। কেননা, উমর(রাযিঃ)এই রকম ওয়াক্‌ফ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মুতাওয়াল্লীর জন্য তা থেকে কিছু খেতে দোষ নেই। তিনি নিজে মুতাওয়াল্লী হবেন না অন্য কেউ তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি। নবী (ﷺ)আবু তালহা(রাযিঃ)-কে বলেন, আমার অভিমত এই যে, তুমি তা (তোমার সাদ্‌কাকৃত বাগানটি) নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দাও। আবু তালহা(রাযিঃ)বলেন, আমি তা-ই করব। তারপর তিনি তাঁর নিকটাত্মীয় ও চাচাত ভাইদের মধ্যে তা বন্টন করে দেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭১৯. যদি কেউ বলে যে, আমার ঘরটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাদ্‌কা এবং ফকীর বা অন্য কারো কথা উল্লেখ না করে তবে তা জায়েয। সে তা আত্মীয়দের মধ্যে কিংবা যাদের ইচ্ছা দান করতে পারে। আবু তালহা(রাযিঃ)যখন বললেন যে, আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হল বায়রূহা বাগানটি এবং আমি তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাদ্‌কা করলাম। তখন নবী(ﷺ)তা জায়েয রেখেছেন। কোন কোন ফকীহ বলেছেন, যতক্ষণ না কারো জন্য তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা জায়েয হবে না। কিন্তু প্রথম অভিমতটি অধিকতর সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ১৭২০. যদি কেউ বলে যে, আমার এই জমিটি কিংবা বাগানটি আমার মায়ের পক্ষ থেকে আল্লাহর ওয়াস্তে সাদ্‌কা তবে তা জায়েয, যদিও তা কার জন্য তা ব্যক্ত না করে
২৫৬৯। মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা‘দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ)-এর মা মারা গেলেন এবং তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে (সা‘দ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা আমার অনুপস্থিতিতে মারা যান। আমি যদি তার পক্ষ থেকে কিছু সাদ্‌কা করি, তা হলে তা কি তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সা‘দ (রাযিঃ) বললেন, ‘তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করছি আমার মিখ্‌রাফ নামক বাগানটি তাঁর জন্য সাদ্‌কা করলাম।
كتاب الوصايا
بَابُ إِذَا وَقَفَ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى غَيْرِهِ فَهُوَ جَائِزٌ لِأَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَوْقَفَ، وَقَالَ: «لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهُ أَنْ يَأْكُلَ، وَلَمْ يَخُصَّ إِنْ وَلِيَهُ عُمَرُ أَوْ غَيْرُهُ» قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي طَلْحَةَ: «أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ» فَقَالَ: أَفْعَلُ، فَقَسَمَهَا فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ
بَابُ إِذَا قَالَ: دَارِي صَدَقَةٌ لِلَّهِ، وَلَمْ يُبَيِّنْ لِلْفُقَرَاءِ أَوْ غَيْرِهِمْ، فَهُوَ جَائِزٌ، وَيَضَعُهَا فِي الأَقْرَبِينَ أَوْ حَيْثُ أَرَادَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي طَلْحَةَ حِينَ قَالَ: أَحَبُّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ، فَأَجَازَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلِكَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: «لاَ يَجُوزُ حَتَّى يُبَيِّنَ لِمَنْ وَالأَوَّلُ أَصَحُّ»
بَابُ إِذَا قَالَ أَرْضِي أَوْ بُسْتَانِي صَدَقَةٌ عَنْ أُمِّي. فَهُوَ جَائِزٌ، وَإِنْ لَمْ يُبَيِّنْ لِمَنْ ذَلِكَ
2756 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَعْلَى، أَنَّهُ سَمِعَ عِكْرِمَةَ، يَقُولُ: أَنْبَأَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا، أَيَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِيَ المِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে একথাটি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, দান-সদাকা ইত্যাদি যেসব নেক আমল কোন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা হয় অর্থাৎ, এর সওয়াব তাকে পৌঁছানো হয়, এগুলো তার জন্য উপকারী হয়ে থাকে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌছে। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে এ দুনিয়াতে এক ব্যক্তি তার উপার্জিত টাকা-পয়সা আল্লাহর অন্য কোন বান্দাকে দান করে তার সেবা ও সাহায্য করতে পারে এবং সেই বান্দা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে, তেমনিভাবে যদি কোন ঈমানদার বান্দা তার পিতা-মাতা অথবা অন্য কোন মু'মিন বান্দার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করে তাকে আখেরাতে উপকৃত করতে এবং তার খেদমত করতে চায়, তাহলে এসব হাদীস দৃষ্টে বুঝা যায় যে, এটা হতে পারে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর দরজা খোলা রয়েছে।

সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ্ তা'আলার কি বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ যে, এ পথে আমরা আমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের খেদমত তাদের মৃত্যুর পরেও করে যেতে পারি এবং নিজেদের হাদিয়া-উপঢৌকন সর্বদা তাদের কাছে পাঠাতে পারি।

এ মাসআলাটি হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত এবং এর উপর উম্মতের ইমামদের ইজমা ও ঐকমত্যও রয়েছে। আমাদের যুগের এমন কিছু লোক- যারা হাদীসকে কুরআনের পর শরী‘আতের দ্বিতীয় ভিত্তিমূল হিসাবেও স্বীকার করে না এবং এটাকে দ্বীনের দলীল হিসাবে মানতেও নারায, তারা এ মাসআলাটি অস্বীকার করে। এ অধম সংকলক এখন থেকে প্রায় বিশ বছর আগে এ বিষয়ের উপর একটি পৃথক পুস্তিকা লিখেছিল। এতে এ মাসআলার প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে এবং সংশয়বাদীদের প্রতিটি সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ। পুস্তিকাটি এ বিষয়ের জ্ঞানার্জনের জন্য যথেষ্ট।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)