কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

৩৪. উমরা আকারে দান করা

হাদীস নং: ৩৭৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৫৮
উমরা আকারে দান করা
স্বামীর বিনা অনুমতিতে স্ত্রীর দান
৩৭৫৯. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আলকামা (রাযিঃ) বলেন, সাকাফী গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়, তখন তাদের হাতে কিছু হাদিয়া ছিল। তিনি বললেনঃ এটা হাদিয়া না সাদ্‌কা? যদি তা হাদিয়া হয়, তবে এর দ্বারা তো আল্লাহর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন এবং উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার বাসনা হয়ে থাকে। আর যদি তা সাদ্‌কা হয়, তবে তা মহান মহীয়ান আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ করা উদ্দেশ্য।

তারা বললেনঃ না, ইহা হাদিয়া। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের এই হাদিয়া গ্রহণ করলেন। আর তিনি তাদের সাথে উপবেশন করলেন এবং তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন (তাদের প্রশ্ন করতে লাগলেন এবং তারাও তাকে প্রশ্ন করতে) লাগলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরের নামায আদায় করলেন আসরের নামাযের সঙ্গে।
كتاب العمرى
عَطِيَّةُ الْمَرْأَةِ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ هَانِئٍ عَنْ أَبِي حُذَيْفَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلْقَمَةَ الثَّقَفِّيِّ قَالَ قَدِمَ وَفْدُ ثَقِيفٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُمْ هَدِيَّةٌ فَقَالَ أَهَدِيَّةٌ أَمْ صَدَقَةٌ فَإِنْ كَانَتْ هَدِيَّةٌ فَإِنَّمَا يُبْتَغَى بِهَا وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَضَاءُ الْحَاجَةِ وَإِنْ كَانَتْ صَدَقَةٌ فَإِنَّمَا يُبْتَغَى بِهَا وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالُوا لَا بَلْ هَدِيَّةٌ فَقَبِلَهَا مِنْهُمْ وَقَعَدَ مَعَهُمْ يُسَائِلُهُمْ وَيُسَائِلُونَهُ حَتَّى صَلَّى الظُّهْرَ مَعَ الْعَصْرِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন ব্যক্তিকে গরীব ও অভাবী মনে করে তার সাহায্য-সহযোগিতা হিসাবে সওয়াবের নিয়্যতে যাকিছু দান করা হয়, এটাকে শরী‘আতের পরিভাষায় সদাকা বলা হয়। চাই এটা ফরয-ওয়াজিব হোক- যেমন, যাকাত অথবা ফিতরা কিংবা নফল হোক- যাকে সাধারণত আমরা সাহায্য ও খয়রাত বলে থাকি। তবে হাদিয়া বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। ভক্তি ভালবাসা ও সম্পর্কের কারণে নিজের কোন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্যক্তির সামনে কোন কিছু পেশ করাকে হাদিয়া বলে।

সদাকাদাতার অবস্থান উপরে থাকে, আর গ্রহীতার নীচে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রকার সদাকা গ্রহণ করতেন না। আর হাদিয়াদাতা যেহেতু এর মাধ্যমে ভক্তি-শ্রদ্ধা, সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রকাশ ঘটায় এবং এটাকে নিজের আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে, এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা খুশী মনে গ্রহণ করতেন। হাদিয়া দাতাকে দু‘আ দিতেন এবং অনেক সময় নিজের পক্ষ থেকে তাকে হাদিয়া দিয়ে এর বদলা দিতেন। কিন্তু কেউ যদি সদাকা হিসাবে কিছু নিয়ে আসত, তাহলে তিনি এটা এর হকদারদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান