কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
৩১. বিশেষ প্রকারের দান
হাদীস নং: ৩৬৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৮১
বিশেষ প্রকারের দান
’নাহল’ সম্পর্কিত নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ
৩৬৮২. মুসা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... নুমান ইবনে বশীর আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার মাতা, রাওয়াহার কন্যা তার পিতার কাছে তার মাল হতে তার পুত্রের জন্য কিছু দান দাবি করলেন। তিনি এক বছর পর্যন্ত এ ব্যাপারে টালবাহানা করতে লাগলেন। পরে ভাল মনে হলে তিনি তাকে দান করলেন। তিনি (নুমানের মা) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবে না।
এরপর তিনি (নুমানের পিতা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর মা রওয়াহার কন্যা একে কিছু দান করার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করায় আমি তাকে দান করেছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ ও বললেনঃ তুমি এই ছেলেকে যেরূপ দান করেছ, সেরূপ তাদের সকলকে দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।
এরপর তিনি (নুমানের পিতা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর মা রওয়াহার কন্যা একে কিছু দান করার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করায় আমি তাকে দান করেছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ ও বললেনঃ তুমি এই ছেলেকে যেরূপ দান করেছ, সেরূপ তাদের সকলকে দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।
كتاب النّحل
ذِكْرُ اخْتِلَافِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ فِي النُّحْلِ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ أُمَّهُ ابْنَةَ رَوَاحَةَ سَأَلَتْ أَبَاهُ بَعْضَ الْمَوْهِبَةِ مِنْ مَالِهِ لِابْنِهَا فَالْتَوَى بِهَا سَنَةً ثُمَّ بَدَا لَهُ فَوَهَبَهَا لَهُ فَقَالَتْ لَا أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ هَذَا ابْنَةَ رَوَاحَةَ قَاتَلَتْنِي عَلَى الَّذِي وَهَبْتُ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا بَشِيرُ أَلَكَ وَلَدٌ سِوَى هَذَا قَالَ نَعَمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَكُلُّهُمْ وَهَبْتَ لَهُمْ مِثْلَ الَّذِي وَهَبْتَ لِابْنِكَ هَذَا قَالَ لَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا تُشْهِدْنِي إِذًا فَإِنِّي لَا أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)