কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
২৬. বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮৪
বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
কন্যাকে গৃহাস্থালীর আসবাবপত্র (জাহীয) দেয়া
৩৩৮৭. নাসির ইবনে ফারাজ (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতিমা (রাযিঃ)-কে যাহিয দান করেছিলেন- একখানা চাদর। একটা পানির পাত্ৰ (মশক) আর একটা বালিশ, যার ভিতরে ছিল ইযখির নামক তৃণ।
كتاب النكاح
جِهَازُ الرَّجُلِ ابْنَتَهُ
أَخْبَرَنَا نَصِيرُ بْنُ الْفَرَجِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ زَائِدَةَ قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةٍ حَشْوُهَا إِذْخِرٌ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আমাদের দেশের অধিকাংশ আলিম আলোচ্য হাদীসের অর্থ এটাই বুঝেন ও বর্ণনা করেন যে, এসব জিনিস (চাদর, মশক, বালিশ) রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় কন্যা সাইয়িদা ফাতিমা (রা)-এর বিবাহকালে جهيز (উপঢৌকন) হিসাবে দিয়েছিলেন। তবে যাচাইকৃত কথা হচ্ছে, তখন আরবদেশে বিয়ের সময় কন্যাকে 'উপঢৌকন' হিসাবে কিছু প্রদানের প্রথা ছিল না, বরং চিন্তাও করা হত না এবং উপঢৌকন শব্দও ব্যবহৃত হত না। সে সময়ের বিয়েসমূহের ধারাবাহিকতায় কখনো এর উল্লেখ থাকত না। সাইয়িদা ফাতিমা (রা) ছাড়া হুজুর ﷺ-এর অন্যান্য কন্যাগণের বিবাহের ধারাবাহিকতায় কোথাও কোন প্রকার উপঢৌকনের উল্লেখ আসেনি। হাদীসের শব্দ جهيز এর অর্থ পরিভাষাগত উপঢৌকন নয়, বরং অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের ব্যবস্থা ও বন্দোবস্ত করে দেয়া। আর হযরত ফাতিমা (রা)-এর জন্য হুজুর ﷺ এসব জিনিসের বন্দোবস্ত হযরত আলী (রা)-এর অভিভাবক হিসাবে নিজের পক্ষ হতে এবং নিজেরই পয়সায় করেছিলেন। কেননা এই সব প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তাঁর ঘরে ছিল না। বর্ণনাসমূহ থেকে ইহা পূর্ণরূপে বিস্তারিত অবগত হওয়া যায়। বস্তুত সেটা পরিভাষাগত উপঢৌকন (যৌতুক) ছিল না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)