কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২৪. হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ

হাদীস নং: ৩০১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০১৬
হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ
আরাফায় অবস্থান করা ফরয
৩০১৯. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ামুর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে কয়েকজন লোক এসে তাকে হজ্জ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ হজ্জ হলো আরাফায়। অতএব যে ব্যক্তি আরাফার রাত পেয়েছে মুযদালাফার রাতের পূর্বে, তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।[১]

[১] অর্থাৎ তাঁকে হজ্জ কাযা করতে হবে না, তবে তার ফরয তাওয়াফ অবশিষ্ট রয়েছে। তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। নাসাঈ শরীফের পাদটীকা। অনুবাদক
كتاب مناسك الحج
فَرْضُ الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْمَرَ قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَاهُ نَاسٌ فَسَأَلُوهُ عَنْ الْحَجِّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَجُّ عَرَفَةُ فَمَنْ أَدْرَكَ لَيْلَةَ عَرَفَةَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ مِنْ لَيْلَةِ جَمْعٍ فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যেহেতু ওকূফে আরাফার উপর হজ্ব নির্ভর করে, তাই এর মধ্যে এতটুকু সুযোগ রাখা হয়েছে যে, কেউ যদি ৯ই যিলহজ্ব দিনের বেলা আরাফায় পৌঁছতে না পারে, (যা হচ্ছে ওকূফের আসল সময়,) সে যদি পরবর্তী রাতের কোন অংশেও সেখানে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ওকূফ আদায় হয়ে যাবে এবং সে হজ্ব থেকে বঞ্চিত গণ্য হবে না।

আরাফার দিনের পরের দিনটি অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্ব হচ্ছে কুরবানীর দিন। এ দিন একটি জামরায় রমী, কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় এবং এ দিনেই মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হয়। তারপর মিনায় বেশীর চেয়ে বেশী তিন দিন আর কমপক্ষে দু'দিন অবস্থান করে তিনটি জামরাতেই পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোন ব্যক্তি যদি ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে তার উপর কোন গুনাহ্ বর্তাবে না। আর কেউ যদি ১৩ তারিখও অবস্থান করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে নেয়, তাহলে এটাও জায়েয।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান