কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২২. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৩১৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৩১৪
রোযার অধ্যায়
যে ব্যক্তি রমযান মাস ব্যতীত অবস্থানকালে রোযা শুরু করে তারপর সফর শুরু করে, তার জন্য রোযা ভঙ্গ করার অনুমতি
২৩১৬। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সফর করছিলেন এবং রোযা শুরু করে উসফান নামক স্থানে পৌছলেন। তারপর একটি পাত্র চেয়ে নিয়ে দিনের বেলায়ই পান করলেন যাতে লোকজন দেখতে পায়। অতঃপর রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে রমযান মাসে মক্কা বিজয় করে ফেললেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালীন অবস্থায় রোযা শুরু করে তারপর তা ভঙ্গ করে ফেলেছিলেন। তাই যার ইচ্ছা হয় সে রোযা পালন করবে আর যার ইচ্ছা হয় সে রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে।
كتاب الصيام
باب الرُّخْصَةِ فِي الإِفْطَارِ لِمَنْ حَضَرَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَصَامَ ثُمَّ سَافَرَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ نَهَارًا لِيَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى دَخَلَ مَكَّةَ فَافْتَتَحَ مَكَّةَ فِي رَمَضَانَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে মক্কার যে সফরের উল্লেখ রয়েছে এটা মক্কা বিজয়ের সময়কার সফর ছিল- যা অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে হয়েছিল। এতে তিনি প্রথমে রোযা রাখতে থাকলেন, কিন্তু যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলেন, (যা মক্কা মুকাররমা থেকে ৩৫/৩৬ মাইল সম্মুখে একটি ঝর্ণা ছিল।) এবং সেখান থেকে মক্কা কেবল দুই মনযিলের দূরত্ব রয়ে গেল, আর এ আশংকা দেখা দিল যে, নিকটবর্তী সময়েই কোন প্রতিরোধ অথবা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তাই তিনি তখন রোযা রাখা উপযোগী মনে করলেন না এবং নিজেই রোযা ছেড়ে দিলেন এবং অন্যদেরকে দেখিয়ে পানি পান করে নিলেন- যাতে কারো জন্য রোযা ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে না হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাস্তব কর্ম দ্বারা জানা গেল যে, যে পর্যন্ত রোযা ছেড়ে দেওয়ার তেমন কোন কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা না থাকে, সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাওয়াই উত্তম। এ জন্যই তিনি 'উসফান' পর্যন্ত রোযা রেখে গিয়েছেন। কোন বিশেষ কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা ছাড়াও যদি সফরে রোযা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হত, তাহলে তিনি সফরের শুরু থেকেই রোযা ছেড়ে দিতেন।

এ ঘটনা সম্পর্কেই হযরত জাবের রাযি. থেকেও একটি বর্ণনা মুসলিম শরীফে এসেছে। সেখানে এ অতিরিক্ত সংযোজনও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এভাবে ঘোষণা দিয়ে রোযা ছেড়ে দেওয়ার পর এবং সবাইকে দেখিয়ে পানি পান করার পরও কিছু লোক রোযা অব্যাহত রাখল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন বললেন: 'এরা হচ্ছে অবাধ্য ও গুনাহগার'। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ার পরও এর বিপরীত কাজ করেছে- যদিও না জেনে অথবা ভুল বুঝাবুঝির কারণে করেছে। কেননা, নৈকট্যশীলদের সামান্য ভুলও অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)