আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৩১- চাষাবাদ ও বর্গাচাষের অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৩২৪
- চাষাবাদ ও বর্গাচাষের অধ্যায়
১৪৪৮. হাল-চাষের কাজে গরু ব্যবহার করা
২১৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর সওয়ার ছিল, তখন গরুটি সে ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করে বলল, আমাকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। আমাকে চাষাবাদ তথা ক্ষেতের কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নবী (ﷺ) বললেন, আমি আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) এটা বিশ্বাস করি। তিনি আরও বললেন, এক নেকড়ে বাঘ একটি বকরী ধরেছিলো, রাখাল তাকে ধাওয়া করল। নেকড়ে বাঘটা তাকে বলল, সেদিন হিংস্র জন্তুর প্রাধান্য হবে, যেদিন আমি ছাড়া কেউ তার রাখাল থাকবে না, সেদিন কে তাকে রক্ষা করবে? নবী (ﷺ) বললেন, আমি আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) এটা বিশ্বাস করি। আবু সালামা (রাযিঃ) বলেন, তারা দু’জন (আবু বকর ও উমর রাযিঃ) সেদিন মজলিসে হাযির ছিলেন না।
كتاب المزارعة/ أبواب الحرث والمزارعة وما جاء فيه
باب اسْتِعْمَالِ الْبَقَرِ لِلْحِرَاثَةِ
2324 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ [ص:104] رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " بَيْنَمَا رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى بَقَرَةٍ التَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: لَمْ أُخْلَقْ لِهَذَا، خُلِقْتُ لِلْحِرَاثَةِ "، قَالَ: " آمَنْتُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَأَخَذَ الذِّئْبُ شَاةً فَتَبِعَهَا الرَّاعِي، فَقَالَ لَهُ الذِّئْبُ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لاَ رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي "، قَالَ: «آمَنْتُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: وَمَا هُمَا يَوْمَئِذٍ فِي القَوْمِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঈমানের হাকীকত এই যে, আল্লাহর পয়গাম্বর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সংবাদ পেয়ে যা কিছু বলবেন, এর উপর ঈমান আনতে হবে এবং এটাকে কোন সংশয়-সন্দেহ ছাড়া হক ও সত্য বলে মেনে নিতে হবে-যদিও দুনিয়ার সাধারণ অবস্থার দৃষ্টিতে ঐ বিষয়টি বোধগম্য না হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলদ ও বাঘের কথা বলার যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, এটা এ ধরনের বিষয়ই ছিল। এ কারণেই উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তখন হুযুর (ﷺ) বললেন যে, আমার ঈমান এই যে, এটা সত্য ও বাস্তব। তিনি নিজের সাথে আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. নাম নিয়েও বললেন যে, তাঁদের দু'জনেরও ঈমান রয়েছে যে, এটা সত্য ও বাস্তব। বর্ণনাকারী বলেন যে, একথা তিনি এমন সময় বললেন, যখন তাঁদের দু'জনের একজনও সেখানে বর্তমান ছিলেন না। এ জন্য এ সন্দেহও করা যায় না যে, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে কিংবা তাঁদেরকে খুশী করার জন্য তিনি এ কথা বলেছেন। এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পবিত্র যবানে হযরত আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. পরিপূর্ণ ঈমান, ঈমানী অবস্থায় হুযুর (ﷺ)-এর অতি নিকটবর্তী হওয়া এবং এক্ষেত্রে তাঁদের বৈশিষ্ট্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ দু'জনের সাথে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ আচরণেরও এটা একটি উদাহরণ, হযরত আলী রাযি.-এর উক্তিতে পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক ক্ষেত্রে নিজের সাথে এ দু'জনের উল্লেখও তাঁদের নাম নিয়ে করতেন। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَ وَأَرْضَاهُمَ
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)