কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২২. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২১২৭
আন্তর্জাতিক নং: ২১২৭
রোযার অধ্যায়
মনসুর (রাহঃ) কর্তৃক রিবয়ী হিরাশ (রাহঃ) সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনায় সনদের পার্থক্য বর্ণনা
২১৩১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমযানের রোযা পালন করবে না। এরপর তোমরা রমযানের রোযা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমযান মাস ত্রিশ দিন হবে।
كتاب الصيام
باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مَنْصُورٍ فِي حَدِيثِ رِبْعِيٍّ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ حَتَّى تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ أَوْ تَرَوُا الْهِلاَلَ ثُمَّ صُومُوا وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ " . أَرْسَلَهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসলামী শরী‘আত বিশেষ আমল ও ইবাদতসমূহের জন্য যে বিশেষ সময় অথবা দিন তারিখ অথবা সময়কাল নির্ধারণ করেছে, এগুলো নির্ধারণ করার সময় এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে, এ সময় অথবা দিন অথবা সময়কালকে জানার জন্য যেন কোন বিদ্যা, কোন দর্শন অথবা কোন যন্ত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন না হয়; বরং একজন সাধারণ ও নিরক্ষর গ্রাম্য মানুষও চোখে দেখে যেন এটা জেনে নিতে পারে। এ জন্যই নামায ও রোযার সময় ও ওয়াক্ত সূর্যের হিসাব দ্বারা নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন, ফজরের ওয়াক্ত সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যুহরের ওয়াক্ত সূর্য মধ্য গগণ থেকে ঢলে পড়ার পর থেকে এক মিছাল অথবা দুই মিছাল (সদৃশ) ছায়া পর্যন্ত এবং আসরের ওয়াক্ত এরপর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অনুরূপভাবে মাগরিবের ওয়াক্ত সূর্যাস্তের পর থেকে 'শফক' বাকী থাকা পর্যন্ত এবং ইশার ওয়াক্ত শফক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর বলা হয়েছে। তদ্রূপভাবে রোযার সময় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

একথা স্পষ্ট যে, এ সময়গুলো জানার জন্য কোন বিদ্যা, কোন দর্শন অথবা কোন যন্ত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না; বরং প্রতিটি মানুষ নিজের প্রত্যক্ষ দর্শন দ্বারা এগুলো জেনে নিতে পারে। আর যেভাবে সাধারণ মানুষের সুবিধার লক্ষ্যে নামায ও রোযার এ ওয়াক্তসমূহের জন্য সূর্যের উদয়-অস্ত ও উঠানামাকে মাপকাঠি ও চিহ্ন সাব্যস্ত করা হয়েছে, তেমনিভাবে যাকাত, রোযা এবং হজ্বের মত আমল ও ইবাদতের জন্য- যেগুলোর সম্পর্ক মাস অথবা বছরের সাথে চাঁদকে মাপকাঠি ধরা হয়েছে এবং সৌরবর্ষ ও সৌরমাসের স্থলে চান্দ্রবর্ষ ও চান্দ্রমাসকে স্থির করা হয়েছে। কেননা, সাধারণ মানুষ নিজেদের চোখে দেখে চান্দ্রমাসকেই ধরতে পারে, সৌরমাসের আগমনের উপর এমন কোন আলামত ও লক্ষণ আসমানে অথবা যমীনে প্রকাশ পায় না, যা দেখে প্রত্যেক মানুষই বুঝে নিতে পারে যে, এখন আগের মাস শেষ হয়ে আরেকটি মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, চান্দ্র মাস যেহেতু চাঁদের উদয় দ্বারা শুরু হয়, এ জন্য একজন নিরক্ষর মানুষও আকাশে নতুন চাঁদ দেখে বুঝে নেয় যে, গত মাস শেষ হয়ে এখন নতুন মাস শুরু হয়ে গিয়েছে।

যাহোক, ইসলামী শরী‘আত মাস ও বছরের বেলায় চাঁদের হিসাবের যে নিয়ম প্রবর্তন করেছে, এর একটি বিশেষ রহস্য ও হেকমত সাধারণ মানুষের এ সহজবোধ্যতাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মাহে রমযানের রোযার ফরযিয়াতের বিধান শুনালেন, তখন এটাও বলে দিলেন যে, রমযানের শুরু অথবা সমাপ্তির নিয়ম ও মাপকাঠি কি। তিনি বলে দিলেন যে, শা'বানের ২৯ দিন পূর্ণ হওয়ার পর যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে রমযানের রোযা শুরু করে দাও। আর যদি ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করে রোযা শুরু কর এবং এভাবে রোযা ২৯ অথবা ৩০টি রাখ। তারপর তিনি বিভিন্ন সময় চাঁদ দেখা সম্পর্কে অন্যান্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: