কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
১৩. নামাযে সাহু তথা ভূলের বিধান
হাদীস নং: ১২৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২৯৮
নামাযে সাহু তথা ভূলের বিধান
নবী (ﷺ) এর উপর দরুদ পাঠ করার পর দু'আ নির্ধারণের ব্যাপারে স্বাধীনতা।
১৩০১। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী ও আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায়কালে বসলাম, তখন বললাম, আল্লাহর উপর সালাম আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ থেকে আর অমুক অমুকের উপর সালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আল্লাহর উপর সালাম বলো না, কেননা, আল্লাই স্বয়ং সালাম, তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় কালে বসে তখন সে যেন বলেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
কেননা যখন তোমরা এ তাশাহহুদ পড়বে আসমান এবং যমীনের সকল নেক বান্দার রুহে পৌছবে। أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর যে দু'আ ইচ্ছা হয় সে দু'আ পাঠ করবে।
কেননা যখন তোমরা এ তাশাহহুদ পড়বে আসমান এবং যমীনের সকল নেক বান্দার রুহে পৌছবে। أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর যে দু'আ ইচ্ছা হয় সে দু'আ পাঠ করবে।
كتاب السهو
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ وَلَكِنْ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ ذَلِكَ أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ لْيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعَاءِ بَعْدُ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ يَدْعُو بِهِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবা কিরামকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিতেন। অনুরূপভাবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর হাত তাঁর দুই হাতের মধ্যে চেপে ধরার বিষয়টিও ছিল এমনিতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহাভী শরীফে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক এক শব্দ করে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দেন যেমনিভাবে কোন শিশুকে বা অশিক্ষিত ব্যক্তিকে কোন বস্তু স্মরণ রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম ﷺ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে এই তাশাহহুদ শিক্ষা দেন এবং তাকে এই মর্মে নির্দেশ দেন, যে, তিনি যেন তা অপরকে শিক্ষা দেন। তাশাহ্হুদ সম্পর্কিত হাদীস হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) ছাড়াও হযরত উমর, আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস, আয়েশা (রা) সহ আরো কতিপয় সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। এ বর্ণনাসমূহে কেবল দু' একটি শব্দের পার্থক্য রয়েছে মাত্র। কিন্তু সনদ ও রিওয়ায়াত উভয় দিক থেকে হাদীস বিশারদগণের মতে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণিত তাশাহহুদের রিওয়ায়াতটি প্রাধান্য পাবার দাবি রাখে যদিও অপরাপর বর্ণনা বিশুদ্ধ এবং সে সকল রিওয়ায়াতের তাশাহহুদ ও সালাতে পাঠ করা যেতে পারে।
কতিপয় ভাষ্যকারের মতে, এই তাশাহ্হুদ মূলত নবী কারীম ﷺ এর মি'রাজকালীন আল্লাহর সাথে কথোপকথন উল্লেখ্য, যখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র হুযূরে উপস্থিত হন তখন এ বলে বন্দেগীর নযরানা পেশ করেন التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوتُ وَالطَّيِّبَاتُ আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবে বলা হলঃالسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ নবী কারীম ﷺ জবাবে বললেন:السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ এরপর তিনি ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বললেন: أشهد أن لا اله الا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
ভাষ্যকারগণ লিখেন, সালাতে এই কথোপকথন মূলতঃ মি'রাজের রাতের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ- এতে নবী কারীম ﷺ এর প্রতি সম্বোধনের সর্বনাম অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সহীহ বুখারী ও অপরাপর গ্রন্থে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাশাহ্হুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনকালে السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ বলার সময় আমরা অনুভব করতাম যে তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান আছেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন থেকে আমরা السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ বলা শুরু করি।
কিন্তু জমহুর উম্মাতের আমল থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাতকে যে শব্দমালা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ ইন্তিকালের পরও স্মৃতি হিসেবে তা বহাল রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে রাসূল-প্রেমিকদের এক বিশেষ অনুভূতি নিহিত। তবে এ শব্দগুচ্ছের আলোকে যে সব লোক নবী কারীম ﷺ কে হাযির নাযির (সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী) এর আকীদা পোষণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তারা শিরক প্রীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
কতিপয় ভাষ্যকারের মতে, এই তাশাহ্হুদ মূলত নবী কারীম ﷺ এর মি'রাজকালীন আল্লাহর সাথে কথোপকথন উল্লেখ্য, যখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র হুযূরে উপস্থিত হন তখন এ বলে বন্দেগীর নযরানা পেশ করেন التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوتُ وَالطَّيِّبَاتُ আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবে বলা হলঃالسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ নবী কারীম ﷺ জবাবে বললেন:السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ এরপর তিনি ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বললেন: أشهد أن لا اله الا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
ভাষ্যকারগণ লিখেন, সালাতে এই কথোপকথন মূলতঃ মি'রাজের রাতের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ- এতে নবী কারীম ﷺ এর প্রতি সম্বোধনের সর্বনাম অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সহীহ বুখারী ও অপরাপর গ্রন্থে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাশাহ্হুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনকালে السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ বলার সময় আমরা অনুভব করতাম যে তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান আছেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন থেকে আমরা السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ বলা শুরু করি।
কিন্তু জমহুর উম্মাতের আমল থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাতকে যে শব্দমালা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ ইন্তিকালের পরও স্মৃতি হিসেবে তা বহাল রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে রাসূল-প্রেমিকদের এক বিশেষ অনুভূতি নিহিত। তবে এ শব্দগুচ্ছের আলোকে যে সব লোক নবী কারীম ﷺ কে হাযির নাযির (সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী) এর আকীদা পোষণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তারা শিরক প্রীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)