কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১২. তাত্ববীক্ব [রুকুতে দুইহাত হাঁটুদ্বয়ের মাঝে রাখা] এবং অবশিষ্ট নামাযের বিবরণ

হাদীস নং: ১১৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৫
তাত্ববীক্ব [রুকুতে দুইহাত হাঁটুদ্বয়ের মাঝে রাখা] এবং অবশিষ্ট নামাযের বিবরণ
তাশাহহুদের অন্য প্রকার।
১১৭৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তাশাহ্‌হুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (তিনি বলতেন)

بِسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ
كتاب التطبيق
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَيْمَنَ، - وَهُوَ ابْنُ نَابِلٍ - يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ " بِسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবা কিরামকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিতেন। অনুরূপভাবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর হাত তাঁর দুই হাতের মধ্যে চেপে ধরার বিষয়টিও ছিল এমনিতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহাভী শরীফে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক এক শব্দ করে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দেন যেমনিভাবে কোন শিশুকে বা অশিক্ষিত ব্যক্তিকে কোন বস্তু স্মরণ রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম ﷺ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে এই তাশাহহুদ শিক্ষা দেন এবং তাকে এই মর্মে নির্দেশ দেন, যে, তিনি যেন তা অপরকে শিক্ষা দেন। তাশাহ্হুদ সম্পর্কিত হাদীস হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) ছাড়াও হযরত উমর, আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস, আয়েশা (রা) সহ আরো কতিপয় সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। এ বর্ণনাসমূহে কেবল দু' একটি শব্দের পার্থক্য রয়েছে মাত্র। কিন্তু সনদ ও রিওয়ায়াত উভয় দিক থেকে হাদীস বিশারদগণের মতে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণিত তাশাহহুদের রিওয়ায়াতটি প্রাধান্য পাবার দাবি রাখে যদিও অপরাপর বর্ণনা বিশুদ্ধ এবং সে সকল রিওয়ায়াতের তাশাহহুদ ও সালাতে পাঠ করা যেতে পারে।

কতিপয় ভাষ্যকারের মতে, এই তাশাহ্হুদ মূলত নবী কারীম ﷺ এর মি'রাজকালীন আল্লাহর সাথে কথোপকথন উল্লেখ্য, যখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র হুযূরে উপস্থিত হন তখন এ বলে বন্দেগীর নযরানা পেশ করেন التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوتُ وَالطَّيِّبَاتُ আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবে বলা হলঃالسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ নবী কারীম ﷺ জবাবে বললেন:السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ এরপর তিনি ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বললেন: أشهد أن لا اله الا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
ভাষ্যকারগণ লিখেন, সালাতে এই কথোপকথন মূলতঃ মি'রাজের রাতের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ- এতে নবী কারীম ﷺ এর প্রতি সম্বোধনের সর্বনাম অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সহীহ বুখারী ও অপরাপর গ্রন্থে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাশাহ্হুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনকালে السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ বলার সময় আমরা অনুভব করতাম যে তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান আছেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন থেকে আমরা السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ বলা শুরু করি।

কিন্তু জমহুর উম্মাতের আমল থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাতকে যে শব্দমালা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ ইন্তিকালের পরও স্মৃতি হিসেবে তা বহাল রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে রাসূল-প্রেমিকদের এক বিশেষ অনুভূতি নিহিত। তবে এ শব্দগুচ্ছের আলোকে যে সব লোক নবী কারীম ﷺ কে হাযির নাযির (সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী) এর আকীদা পোষণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তারা শিরক প্রীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)