কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১১. নামায শুরু করার অধ্যায়

হাদীস নং: ১০১০
আন্তর্জাতিক নং: ১০১০
নামায শুরু করার অধ্যায়
বার বার এক আয়াত পাঠ করা।
১০১৩। নূহ ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ভোর পর্যন্ত একটি আয়াত দিয়েই নামায আদায় করলেন। আর সে আয়াতখানা হলো মহান আল্লাহর বাণীঃ

إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
كتاب الافتتاح
أَخْبَرَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا قُدَامَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَتْنِي جَسْرَةُ بِنْتُ دَجَاجَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ بِآيَةٍ وَالآيَةُ (إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একবার একরাতে নবী কারীম ﷺ তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ান এবং এক বিশেষ অবস্থায় একটি আয়াত বারবার পাঠ করতে থাকেন এমনকি সকাল হয়ে যায়। আয়াতটি হল এই- إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর এক গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে হযরত ঈসা (আ)-এর উযর পেশের অংশ বিশেষ। সূরা মায়িদার শেষ রুকূতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বীদের উপর দলীল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বলবেন, তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত আমাকে ও আমার মাকে ইলাহরূপ গ্রহণ কর? হযরত ঈসা (আ) এ ব্যাপারে নিজের সম্পর্কহীনতার বিষয়টি পরিষ্কার করে বলবেন, তোমার কাছে তো কোন কিছু গোপন নেই। তুমি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। তুমি ভালভাবে অবগত আছ যে, আমি তাদের তাওহীদের প্রতি আহবান করেছিলাম। আমাকে উত্তোলিত করে নেয়ার পরই তারা শিরকে জড়িয়ে পড়েছিল। তারপর হযরত ঈসা (আ)-এর জবাবের একটি অংশ হল এই আয়াত إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّكَ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ অর্থাৎ যদি তাদের এ অপরাধের জন্য শাস্তি দাও তবে তোমার এ অধিকার আছে আর ক্ষমা করে দেওয়াও তোমার ইখতিয়ার। তোমার সিদ্ধান্ত তোমার ইচ্ছা ও হিকমতের ভিত্তিতেই হবে কারো চাপে না। রাত থেকে শুরু করে ফজর পর্যন্ত এই আয়াত পাঠের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে কতিপয় ভাষ্যকার লিখেছেনঃ এই আয়াত পর্যন্ত পৌছার পর নবী কারীম ﷺ সম্ভবত তাঁর উম্মাতের কথা মনে পড়ে যে পূর্ববর্তী উম্মাতের ন্যায় আকীদা বিশ্বাস ও কাজে তাঁর উম্মাতের মধ্যেও বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই তিনি হযরত ঈসা (আ)-এর আকুতিপূর্ণ বাণী আল্লাহ্ দরবারে বারবার পাঠ করতে থাকেন। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান