কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৬০
পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
বরফ দ্বারা ওযু করা
৬০। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করার পর অল্পক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক; তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী নীরবতার সময় আপনি কি পড়েন? তিনি বলেন, আমি তখন পড়িঃ
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ
“হে আল্লাহ! পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে আপনি যেমন দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন তেমনিও আমার অপরাধসমূহের মধ্যে দুরত্ব করে দিন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে ধৌত করে দিন বরফ, পানি এবং শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা”।
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ
“হে আল্লাহ! পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে আপনি যেমন দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন তেমনিও আমার অপরাধসমূহের মধ্যে দুরত্ব করে দিন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে ধৌত করে দিন বরফ, পানি এবং শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা”।
كتاب الطهارة
باب الوضوء بالثلج
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ سَكَتَ هُنَيْهَةً فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَقُولُ فِي سُكُوتِكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ قَالَ " أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ যদিও যাবতীয় পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে পূতঃ পবিত্র ছিলেন। তথাপি আল্লাহর পরম নৈকট্য লাভের পরম আগ্রহ এবং মানবিক বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে সর্বতোভাবে সংরক্ষিত থাকার লক্ষ্যে যাতে উত্তম মর্যাদার পরিপন্থী কিছু সংঘটিত না হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ না ঘটে সে জন্য সদা সতর্ক থাকতেন। তাই তো বলা হয় قريبا را بیش بود حیرانی এবং جن کے رتبے ہیں سوا ان کو سوا مشکل ہے মর্যাদা যত বেশী, তার পেরেশানী তত বেশী। মোটকথা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিভিন্ন দু'আয় যে خطايا অথবা ذنوب শব্দ এসেছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য এরূপ মানবিক পদস্খলন ও বিচ্যুতি। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
আলোচ্য হাদীসে যে দু'আ উল্লিখিত হয়েছে তার মূলকথা হচ্ছে এই যে, হে আল্লাহ্! প্রথমত তুমি আমাকে পাপাচার থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখ যতদূর ব্যবধান রয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমের এবং পশ্চিম থেকে পূর্বের। মানবিক দুর্বলতা বশতঃ যদি আমার হতে কোন প্রকার ত্রুটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তবে তুমি তা ক্ষমা করে দিয়ে তার দাগ এ ভাবে দূর করে দাও যেভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করে ধবধবে সাদা করা হয়। আর নিজ রহমতের শীতল পানি দ্বারা আমার অভ্যন্তর ভাগ ধুয়ে দাও যাতে ত্রুটি-বিচ্যুতির ফলে সৃষ্ট তোমার ক্রোধের আগুন শীতল হয়ে যায় এবং তার স্থলে আমার অন্তরে তোমার সন্তুষ্টির শীতলতা ও প্রশান্তি নসীব হয়।
এই হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকবীরে তাহরীমা ও কিরা'আত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো এই দু'আ পাঠ করতেন।
আলোচ্য হাদীসে যে দু'আ উল্লিখিত হয়েছে তার মূলকথা হচ্ছে এই যে, হে আল্লাহ্! প্রথমত তুমি আমাকে পাপাচার থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখ যতদূর ব্যবধান রয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমের এবং পশ্চিম থেকে পূর্বের। মানবিক দুর্বলতা বশতঃ যদি আমার হতে কোন প্রকার ত্রুটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তবে তুমি তা ক্ষমা করে দিয়ে তার দাগ এ ভাবে দূর করে দাও যেভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করে ধবধবে সাদা করা হয়। আর নিজ রহমতের শীতল পানি দ্বারা আমার অভ্যন্তর ভাগ ধুয়ে দাও যাতে ত্রুটি-বিচ্যুতির ফলে সৃষ্ট তোমার ক্রোধের আগুন শীতল হয়ে যায় এবং তার স্থলে আমার অন্তরে তোমার সন্তুষ্টির শীতলতা ও প্রশান্তি নসীব হয়।
এই হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকবীরে তাহরীমা ও কিরা'আত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো এই দু'আ পাঠ করতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)