কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৩৫. সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৬৮০
আন্তর্জাতিক নং: ৪৭৫৫
সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়
২৭. মীযান বা পাল্লা সম্পর্কে।
৪৬৮০. ইয়া’কূব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? তিনি বলেনঃ জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আমি কাঁদছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবার-পরিজনের কথা মনে রাখবেন? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তিনটি স্থান এমন আছে, যেখানে কেউ কারো কথা স্মরণ করবে না। যথা-

১। মীযান বা মাপের সময়, যতক্ষণ না কেউ জানতে পারবে, তার পাল্লা ভারী- না হালকা,

২। কিতাব বা আমলনামা পাওয়ার সময়, যখন বলা হবেঃ দৌড়ে এসো এবং নিজ নিজ আমলনামা পাঠ কর। যতক্ষণ কেউ জানতে পারবে না যে, তা কোন দিক থেকে আসে- ডান, বাম না পেছনের দিক থেকে এবং

৩। সে সময়- যখন সে পুল-সিরাতের উপর থাকবে এবং তা জাহান্নামের উপর রাখা হবে।
كتاب السنة
باب فِي ذِكْرِ الْمِيزَانِ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَا يُبْكِيكِ " . قَالَتْ : ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَمَّا فِي ثَلاَثَةِ مَوَاطِنَ فَلاَ يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا : عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُّ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ ( هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ) حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَىْ جَهَنَّمَ " . قَالَ يَعْقُوبُ : عَنْ يُونُسَ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরের সারাংশ হল এই যে, তিনটি সময় এমন সংকটময় হবে যে, সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে এবং কেউ কারো সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারবে না।
(১) আমল ওজন করার সময়, যে পর্যন্ত এর ফলাফল জানা না যাবে।
(২) যে সময় সবাই আমলনামার অপেক্ষায় থাকবে এবং সবাই এ চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে যে, আমলনামা কি ডান হাতে দেওয়া হবে, না বাম হাতে এবং সে কি মাগফেরাত ও রহমতের অধিকারী হবে, না অভিশাপ ও আযাবের যোগ্য হবে।
(৩) সে সময়টি, যখন জাহান্নামের উপর পুলছিরাত স্থাপন করা হবে এবং এর উপর দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এ তিনটি সময় এমন সংকটময় হবে যে, সবার মুখেই কেবল নাফসী নাফসী উচ্চারিত হবে, সবাই নিজের চিন্তায় ডুবে থাকবে এবং কেউ কারো খোঁজ-খবর নিতে পারবে না।
এ হাদীসটির সারবত্তা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীর উদ্দেশ্য এটাই যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই যেন আখেরাতের চিন্তা করে এবং কেউ যেন অন্য কারো ভরসায় বসে না থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)