কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩২. যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা
হাদীস নং: ৪২৯২
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩৪৩
যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা
১৭. আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে।
৪২৯২. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে সমবেত ছিলাম। সে সময় তিনি একটি ফিতনার বিষয় উল্লেখ করে বলেনঃ যখন তোমরা লোকদের আমানতে খিয়ানত, ওয়াদা খেলাফী এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখবেঃ এ সময় তিনি তার হাতের আঙ্গুল একত্রিত করার পর বিচ্ছিন্ন করেন।
রাবী বলেনঃ এ সময় আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করিঃ তখন আমাদের করণীয় কি? আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বলেনঃ সে সময় তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখবে, তোমার বিবেচনায় যা ভাল মনে করবে, তা-ই করবে এবং যা খারাপ মনে করবে, তা পরিহার করবে। সে সময় তুমি সকলের কথা চিন্তা না করে, নিজের চিন্তাই করবে।
রাবী বলেনঃ এ সময় আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করিঃ তখন আমাদের করণীয় কি? আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বলেনঃ সে সময় তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখবে, তোমার বিবেচনায় যা ভাল মনে করবে, তা-ই করবে এবং যা খারাপ মনে করবে, তা পরিহার করবে। সে সময় তুমি সকলের কথা চিন্তা না করে, নিজের চিন্তাই করবে।
كتاب الملاحم
باب الأَمْرِ وَالنَّهْىِ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ أَبِي الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ " الْزَمْ بَيْتَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
حثالة অর্থ-ভূষি। এখানে এ শব্দের অর্থ এমন লোক, যে বাহ্যিক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মনুষত্বের নৈপুণ্য থেকে সম্পূর্ণ শূন্য। তার মধ্যে কোন যোগ্যতা নেই। যে ভাবে ভূষিতে যোগ্যতা নেই। সামনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এরূপ অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের চুক্তি ও লেন-দেনে ধোঁকা-প্রতারণা, কূট-কৌশল, আর পরস্পর ঝগড়া-কলহ তাদের ব্যস্ততার কাজ হবে।
অল্প বয়স্ক সাহাবা কিরামের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস (রা) প্রাকৃতিকভাবে খুবই কল্যাণপসন্দ, মুত্তাকী ও ইবাদতকারী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, যখন এরূপ সময় এসে যাবে-এ জাতীয় অকেজো মন্দ কাজ সম্পাদনকারী ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকারী ব্যক্তিগণ বাকি থাকবে, তখন তোমার কর্ম পদ্ধতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি তাঁর থেকে দিকনির্দেশনা চাইবেন, ফলে তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাপদ্ধতি ছিল। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তরের মোট কথা হচ্ছে, যখন এরূপ লোকদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যারা মনুষত্বের সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং উত্তম জিনিস গ্রহণ করার যোগ্যতাই তাদের থাকেনি, তখন মু'মিনগণের উচিত এমন লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।
এখানে এ কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদেরকে যে দিকনির্দেশনা দিতে চাচ্ছিলেন, সাহাবা কিরামকেই তার সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ বানাতেন। সেই সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারীগণকে আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম পুরস্কার দান করুন। যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এসব দিকনির্দেশ পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, এবং হাদীসের ইমামগণ সেগুলো গ্রন্থসমূহে সংরক্ষিত করেছেন।
অল্প বয়স্ক সাহাবা কিরামের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস (রা) প্রাকৃতিকভাবে খুবই কল্যাণপসন্দ, মুত্তাকী ও ইবাদতকারী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, যখন এরূপ সময় এসে যাবে-এ জাতীয় অকেজো মন্দ কাজ সম্পাদনকারী ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকারী ব্যক্তিগণ বাকি থাকবে, তখন তোমার কর্ম পদ্ধতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি তাঁর থেকে দিকনির্দেশনা চাইবেন, ফলে তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাপদ্ধতি ছিল। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তরের মোট কথা হচ্ছে, যখন এরূপ লোকদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যারা মনুষত্বের সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং উত্তম জিনিস গ্রহণ করার যোগ্যতাই তাদের থাকেনি, তখন মু'মিনগণের উচিত এমন লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।
এখানে এ কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদেরকে যে দিকনির্দেশনা দিতে চাচ্ছিলেন, সাহাবা কিরামকেই তার সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ বানাতেন। সেই সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারীগণকে আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম পুরস্কার দান করুন। যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এসব দিকনির্দেশ পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, এবং হাদীসের ইমামগণ সেগুলো গ্রন্থসমূহে সংরক্ষিত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)