কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২২. খাদ্যদ্রব্য-পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৮০০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৪৪
খাদ্যদ্রব্য-পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
৪৯৯. খাবারে মাছি পড়লে সে সম্পর্কে।
৩৮০০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন খাবার পাত্রে মাছি পড়ে, তখন তোমরা তাকে পাত্রের মাঝে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে দেবে। কেননা, তার এক ডানায় রোগ এবং অপর ডানায় শিফা থাকে। আর মাছি খাবারে পতিত হওয়ার সময় ঐ ডানা নিক্ষেপ করে, যাতে রোগ-জীবাণু থাকে। কাজেই তোমরা তাকে পাত্রের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে।
كتاب الأطعمة
باب فِي الذُّبَابِ يَقَعُ فِي الطَّعَامِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَامْقُلُوهُ فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الآخَرِ شِفَاءً وَإِنَّهُ يَتَّقِي بِجَنَاحِهِ الَّذِي فِيهِ الدَّاءُ فَلْيَغْمِسْهُ كُلَّهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটি ঐসব হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, যা বর্তমান যুগের অনেক মানুষের ঈমানী পরীক্ষার কারণ হয়ে যায়। অথচ যদি প্রকৃতির রহস্য, হেকমতের নীতিমালা ও অভিজ্ঞতার আলোকে চিন্তা করা হয়, তাহলে এতে এমন কোন বিষয় নেই, যা যুক্তিবিরুদ্ধ অথবা অসম্ভব; বরং যা বলা হয়েছে, মূলত এটাই হেকমতের কথা।
এটা এক সুবিদিত ও সর্বজনস্বীকৃত বাস্তবতা যে, অন্যান্য পোকামাকড়ের ন্যায় মাছির মধ্যেও এমন উপকরণ থাকে, যার দ্বারা রোগ ব্যাধি সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি প্রাণীর প্রকৃতি ও স্বভাবে এ বিষয়টি রেখে দিয়েছেন যে, তার মধ্যে যে মন্দ ও বিষাক্ত উপকরণ সৃষ্টি হয়, সূক্ষ্ম স্বভাব এটাকে বাইরের অঙ্গসমূহের দিকে নিক্ষেপ করে দেয়। এজন্য এটা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত যে, মাছির ভিতরকার এই অনিষ্টকর উপাদানটি তার স্বভাব নিজের ডানার দিকে নিক্ষেপ করে দেয়। কেননা, এটাই তার বাইরের অঙ্গ। আর দু'টি ডানার মধ্য থেকেও বিশেষ করে ঐ ডানার দিকে নিক্ষেপ করে, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও কম কর্মক্ষম। যেমন, আমাদের ডান হাতের তুলনায় বাম হাত।
আর প্রতিটি প্রাণীর এটাও এক স্বভাব যে, যখন তার কোন বিপদ আসে, তখন সে বেশী কর্মক্ষম ও উত্তম অঙ্গটিকে তা থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করে। এজন্য এটাও যুক্তির কথা যে, মাছি যখন কোথাও পড়ে, তখন সে ঐ ডানাটি বাঁচাবার চেষ্টা করে, যা অনিষ্টমুক্ত ও তুলনামূলকভাবে উত্তম।
যেসব লোক আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টজীবের অবস্থাদি ও ঐগুলোর সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর অপার হেকমতের উপর চিন্তা করেছে, তারা অনেক সময় এটাই দেখেছে যে, যেখানে রোগের উপকরণ রয়েছে, সেখানেই এর চিকিৎসার উপকরণও রয়েছে। এজন্য এটাও যুক্তির অনুকূল যে, মাছির এক ডানায় যদি ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপকরণ থাকে, তাহলে অপর ডানায় এর প্রতিষেধক ও আরোগ্যের উপকরণ থাকবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা হেকমতের নীতির সম্পূর্ণ অনুকূলে। বরং মূলত তাঁর এ শিক্ষার সম্পর্ক অন্যান্য অনেক দিকনির্দেশনার ন্যায় স্বাস্থ্য রক্ষার অধ্যায়ভুক্ত। এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, এ হাদীসে যাকিছু বলা হয়েছে, এটা কোন ফরয, ওয়াজিব বিষয় নয় যে, এর উপর আমল না করলে গুনাহ হবে; বরং এক ধরনের চিকিৎসাগত দিকনির্দেশনা।
[এখানে হাদীসের ব্যাখ্যায় যা লিখা হয়েছে, এটা মূলত 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' থেকে সংগৃহীত]
এটা এক সুবিদিত ও সর্বজনস্বীকৃত বাস্তবতা যে, অন্যান্য পোকামাকড়ের ন্যায় মাছির মধ্যেও এমন উপকরণ থাকে, যার দ্বারা রোগ ব্যাধি সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি প্রাণীর প্রকৃতি ও স্বভাবে এ বিষয়টি রেখে দিয়েছেন যে, তার মধ্যে যে মন্দ ও বিষাক্ত উপকরণ সৃষ্টি হয়, সূক্ষ্ম স্বভাব এটাকে বাইরের অঙ্গসমূহের দিকে নিক্ষেপ করে দেয়। এজন্য এটা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত যে, মাছির ভিতরকার এই অনিষ্টকর উপাদানটি তার স্বভাব নিজের ডানার দিকে নিক্ষেপ করে দেয়। কেননা, এটাই তার বাইরের অঙ্গ। আর দু'টি ডানার মধ্য থেকেও বিশেষ করে ঐ ডানার দিকে নিক্ষেপ করে, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও কম কর্মক্ষম। যেমন, আমাদের ডান হাতের তুলনায় বাম হাত।
আর প্রতিটি প্রাণীর এটাও এক স্বভাব যে, যখন তার কোন বিপদ আসে, তখন সে বেশী কর্মক্ষম ও উত্তম অঙ্গটিকে তা থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করে। এজন্য এটাও যুক্তির কথা যে, মাছি যখন কোথাও পড়ে, তখন সে ঐ ডানাটি বাঁচাবার চেষ্টা করে, যা অনিষ্টমুক্ত ও তুলনামূলকভাবে উত্তম।
যেসব লোক আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টজীবের অবস্থাদি ও ঐগুলোর সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর অপার হেকমতের উপর চিন্তা করেছে, তারা অনেক সময় এটাই দেখেছে যে, যেখানে রোগের উপকরণ রয়েছে, সেখানেই এর চিকিৎসার উপকরণও রয়েছে। এজন্য এটাও যুক্তির অনুকূল যে, মাছির এক ডানায় যদি ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপকরণ থাকে, তাহলে অপর ডানায় এর প্রতিষেধক ও আরোগ্যের উপকরণ থাকবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা হেকমতের নীতির সম্পূর্ণ অনুকূলে। বরং মূলত তাঁর এ শিক্ষার সম্পর্ক অন্যান্য অনেক দিকনির্দেশনার ন্যায় স্বাস্থ্য রক্ষার অধ্যায়ভুক্ত। এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, এ হাদীসে যাকিছু বলা হয়েছে, এটা কোন ফরয, ওয়াজিব বিষয় নয় যে, এর উপর আমল না করলে গুনাহ হবে; বরং এক ধরনের চিকিৎসাগত দিকনির্দেশনা।
[এখানে হাদীসের ব্যাখ্যায় যা লিখা হয়েছে, এটা মূলত 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' থেকে সংগৃহীত]
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)