কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২১. (হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭২৯
(হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
৪৪৮. পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেওয়া সম্পর্কে।
৩৬৮৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিনি বনু সুলায়মের অন্তর্ভুক্তি ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতার নিকট আগমন করেন। তিনি তাঁর সামনে খাবার পেশ করলে, তিনি হায়সার কথা বলাতে, তাও তাঁর সামনে হাযির করেন। এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর সামনে শরবত পেশ করেন, যা তিনি পান করেন এবং অবশিষ্ট পানীয় ডান দিকে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে দেন। পরে তিনি খেজুর খেয়ে তার আটি তর্জনী এবং মধ্যমা আঙ্গুলের উপর রাখেন। অবশেষে তিনি চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালে, আমার পিতাও দাঁড়ান এবং তিনি তাঁর বাহনের লাগাম ধরে বলেনঃ আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন। আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের উপর রহম করুন।
كتاب الأشربة
باب فِي النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، - مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ - قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي فَنَزَلَ عَلَيْهِ فَقَدَّمَ إِلَيْهِ طَعَامًا فَذَكَرَ حَيْسًا أَتَاهُ بِهِ ثُمَّ أَتَاهُ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ فَنَاوَلَ مَنْ عَلَى يَمِينِهِ وَأَكَلَ تَمْرًا فَجَعَلَ يُلْقِي النَّوَى عَلَى ظَهْرِ أُصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى فَلَمَّا قَامَ قَامَ أَبِي فَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ لِي . فَقَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এধরণের হাদীসগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যেভাবে খানাপিনার পর আল্লাহ তা'আলার স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করা দরকার, ঠিক তেমনি যখন আল্লাহর কোন বান্দা পানাহারে আপ্যায়িত করে, তখন তার জন্যেও দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত সাদ (রা)-এর বাড়িতে পানাহার শেষে তাঁর জন্যে যে দু'আ করেন, যার বর্ণনা হযরত আনাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ (রা)-এর দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ (রা)-এর দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)