কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫৬৫
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
৩৮২. ধার হিসাবে গৃহীত বস্তুর ক্ষতিপূরণের যিম্মাদারী।
৩৫২৭. আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা হকদার ব্যক্তিকে পূর্ণ হক প্রদান করেছেন। কাজেই এখন ওয়ারিছদের জন্য ওসীয়ত করা ঠিক নয়। কোন স্ত্রী যেন তার ঘরের কোন জিনিস, তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে খরচ না করে। তখন তাঁকে কেউ জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্য-দ্রব্যও নয় কি? তিনি বলেনঃ খাদ্য-দ্রব্যই তো আমাদের মালের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ। এরপর তিনি বলেনঃ ধার হিসাবে যা গ্রহণ করা হয়, তা পরিশোধ করতে হবে। দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান করা শেষ হলে তা ফেরত দিতে হবে, দেনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে এবং কেউ যদি কোন জিনিসের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে তাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
كتاب البيوع
باب فِي تَضْمِينِ الْعَارِيَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ وَلاَ تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الطَّعَامَ قَالَ " ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا " . ثُمَّ قَالَ " الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে শরী'আতের চারটি নির্দেশ বর্ণনা করা হয়েছে।
১. যদি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কারো কোন জিনিস কর্জ হিসাবে গ্রহণ করা হয় তবে তা ফেরত প্রদান অবশ্যম্ভাবী। এতে আলস্য না করা উচিত।
২. দ্বিতীয় নির্দেশ এই যে, ‘মিনহা’ ফেরত প্রদান আবশ্যক। আরবে প্রচলন ছিল যে, সম্পদশালী প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী লোকজন নিজের কর্তৃত্বাধীন কোন জিনিস উপকৃত হওয়ার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে দিত। যেমন আরোহণের জন্য উট অথবা দুধ পানের জন্য উটনী ও ছাগী এ শর্তে দিত যে, এটা নিজের নিকট রেখে একে পানাহার করায়ে উপকৃত হও। কিম্বা ফল খাওয়ার জন্য নিজের বাগান বা কৃষি কাজের জন্য জমি বিনিময় ছাড়াই দিত। এটাকে 'মিনহা' বলা হত। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে 'মিনহা' হিসাবে কোন জিনিস দেওয়া হয় সে তা নিজের মনে করবে না, বরং প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী উপকৃত হওয়ার পর প্রকৃত মালিককে ফেরত প্রদান করবে। নিঃসন্দেহে এ প্রচলন খুবই কল্যাণকর ছিল। কিছুদিন পূর্বে আমাদের অঞ্চলেও এ প্রথা ছিল। বর্তমানে এ জাতীয় সব বৈশিষ্ট্য ও উত্তম প্রথা বিলীন হতে চলছে। এখন ব্যক্তিস্বার্থ ও নিজে বাঁচ যুগ চলেছে। অভিযোগ কেবল আল্লাহর নিকটই।
(১৯৮০ সালেও অনুবাদকের এলাকায় দুধ খাওয়ার জন্য গাভী এবং হাল চাষের জন্য বলদ গরীব আত্মীয়স্বজনকে ফেরত প্রদানের শর্তে দেওয়া হত)।
৩. এ হাদীসে তৃতীয় নির্দেশ এই করা হয়েছে যে, কেউ যদি কারো নিকট থেকে কর্জ গ্রহণ করে তা পরিশোধে সে সচেষ্ট হবে। (কর্জ পরিশোধের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শক্ত তাকিদ ও ভীতিপূর্ণ বাণী এ মা'আরিফুল হাদীসেরই কর্জ অধ্যায়ের অধীনে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে)।
৪. চতুর্থ নির্দেশ এই বর্ণনা করা হয়েছে, কারো জিম্মায় যদি অন্য কারো কর্জ অথবা কোন প্রকার আর্থিক দাবি থাকে এবং কেউ এর যামিনদার হয় তবে আদায়ের ব্যাপারে সে জিম্মাদার। অর্থাৎ যদি প্রকৃত কর্জ গ্রহীতা পরিশোধ না করে তবে যামিনদারকে পরিশোধ করতে হবে।
১. যদি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কারো কোন জিনিস কর্জ হিসাবে গ্রহণ করা হয় তবে তা ফেরত প্রদান অবশ্যম্ভাবী। এতে আলস্য না করা উচিত।
২. দ্বিতীয় নির্দেশ এই যে, ‘মিনহা’ ফেরত প্রদান আবশ্যক। আরবে প্রচলন ছিল যে, সম্পদশালী প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী লোকজন নিজের কর্তৃত্বাধীন কোন জিনিস উপকৃত হওয়ার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে দিত। যেমন আরোহণের জন্য উট অথবা দুধ পানের জন্য উটনী ও ছাগী এ শর্তে দিত যে, এটা নিজের নিকট রেখে একে পানাহার করায়ে উপকৃত হও। কিম্বা ফল খাওয়ার জন্য নিজের বাগান বা কৃষি কাজের জন্য জমি বিনিময় ছাড়াই দিত। এটাকে 'মিনহা' বলা হত। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে 'মিনহা' হিসাবে কোন জিনিস দেওয়া হয় সে তা নিজের মনে করবে না, বরং প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী উপকৃত হওয়ার পর প্রকৃত মালিককে ফেরত প্রদান করবে। নিঃসন্দেহে এ প্রচলন খুবই কল্যাণকর ছিল। কিছুদিন পূর্বে আমাদের অঞ্চলেও এ প্রথা ছিল। বর্তমানে এ জাতীয় সব বৈশিষ্ট্য ও উত্তম প্রথা বিলীন হতে চলছে। এখন ব্যক্তিস্বার্থ ও নিজে বাঁচ যুগ চলেছে। অভিযোগ কেবল আল্লাহর নিকটই।
(১৯৮০ সালেও অনুবাদকের এলাকায় দুধ খাওয়ার জন্য গাভী এবং হাল চাষের জন্য বলদ গরীব আত্মীয়স্বজনকে ফেরত প্রদানের শর্তে দেওয়া হত)।
৩. এ হাদীসে তৃতীয় নির্দেশ এই করা হয়েছে যে, কেউ যদি কারো নিকট থেকে কর্জ গ্রহণ করে তা পরিশোধে সে সচেষ্ট হবে। (কর্জ পরিশোধের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শক্ত তাকিদ ও ভীতিপূর্ণ বাণী এ মা'আরিফুল হাদীসেরই কর্জ অধ্যায়ের অধীনে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে)।
৪. চতুর্থ নির্দেশ এই বর্ণনা করা হয়েছে, কারো জিম্মায় যদি অন্য কারো কর্জ অথবা কোন প্রকার আর্থিক দাবি থাকে এবং কেউ এর যামিনদার হয় তবে আদায়ের ব্যাপারে সে জিম্মাদার। অর্থাৎ যদি প্রকৃত কর্জ গ্রহীতা পরিশোধ না করে তবে যামিনদারকে পরিশোধ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: