কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮২
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
৩২০. ঠেকায় পড়ে বিক্রি করা।
৩৩৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অদূর ভবিষ্যতে মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন একজন অপর জনকে দাঁত দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করবে। এ সময় সম্পদশালী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদ দান করতে চাইবে না, অথচ তাদের এরূপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় নি। যেমন আল্লাহর বাণীঃ
وَلاَ تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ
অর্থাৎ তোমরা পরম্পর পরস্পরের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে ভুলবে না।
অথচ তারা একে অন্যের নিকট ঠেকায় পড়ে বিক্রি করবে। আর নবী (ﷺ) ঠেকায় পড়ে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন। একই রূপে তিনি ধোকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং ফল পাকার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
وَلاَ تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ
অর্থাৎ তোমরা পরম্পর পরস্পরের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে ভুলবে না।
অথচ তারা একে অন্যের নিকট ঠেকায় পড়ে বিক্রি করবে। আর নবী (ﷺ) ঠেকায় পড়ে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন। একই রূপে তিনি ধোকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং ফল পাকার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب البيوع
باب فِي بَيْعِ الْمُضْطَرِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا صَالِحُ أَبُو عَامِرٍ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ مُحَمَّدٌ - حَدَّثَنَا شَيْخٌ، مِنْ بَنِي تَمِيمٍ قَالَ خَطَبَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ - أَوْ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ قَالَ ابْنُ عِيسَى هَكَذَا حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - قَالَ سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ عَضُوضٌ يَعَضُّ الْمُوسِرُ عَلَى مَا فِي يَدَيْهِ وَلَمْ يُؤْمَرْ بِذَلِكَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ( وَلاَ تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ) وَيُبَايَعُ الْمُضْطَرُّونَ وَقَدْ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمُضْطَرِّ وَبَيْعِ الْغَرَرِ وَبَيْعِ الثَّمَرَةِ قَبْلَ أَنْ تُدْرِكَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানুষ দারিদ্র্যে ও উপবাস কিংবা কোন বিপদের কারণে অথবা কোন আকস্মিক পেরেশানীতে পতিত হয়ে নিজের কোন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য অথবা খাদ্য দ্রব্য ইত্যাদি কোন জিনিস ক্রয় করার জন্য অতিশয় অপারগতা ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় কঠিন হৃদয় ব্যবসায়ী সে লোকের অপারগ ও ব্যাকুলতা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠাতে পারে। হাদীসে এটাকেই (অপারগের বিক্রয়) বলা হয়েছে এবং এটা নিষেধ করা হয়েছে।
ইহা নিষিদ্ধের কারণ এই যে, এরূপ অপারগ ও অসহায় লোকের সাথে ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত ব্যবসায়িক লেন-দেন করা যাবে না। বরং ঐ ভাইয়ের সেবা ও সাহায্য করবে। আলোচ্য হাদীসে দ্বিতীয় যে বিষয় নিষেধ করা হয়েছে, বাইয়ে গারার অর্থাৎ এমন জিনিসের বিক্রয়, যা বিক্রেতার হাতে বর্তমান নেই, আর তা পাওয়াও নিশ্চিত নয়। যেমন কোন বনের হরিণ, পানি অথবা সমুদ্রের মাছ এ আশায় বিক্রি করা যে, শিকার করে তা সরবরাহ করব। এটাকে বাইয়ে গারার বলে, এটা নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, বিক্রয়যোগ্য জিনিস না বিক্রেতার নিকট মওজুদ আর না তা পাওয়া নিশ্চিত। আর যদি পাওয়াও যায়, তবে রকমের ব্যাপারে মনোমালিন্য ও মতভেদের আশংকা রয়েছে। আলোচ্য হাদীসে তৃতীয় যে বিষয় নিষেধ করা হয়েছে, পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে ফল ফলাদি বিক্রি করা।
ইহা নিষিদ্ধের কারণ এই যে, এরূপ অপারগ ও অসহায় লোকের সাথে ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত ব্যবসায়িক লেন-দেন করা যাবে না। বরং ঐ ভাইয়ের সেবা ও সাহায্য করবে। আলোচ্য হাদীসে দ্বিতীয় যে বিষয় নিষেধ করা হয়েছে, বাইয়ে গারার অর্থাৎ এমন জিনিসের বিক্রয়, যা বিক্রেতার হাতে বর্তমান নেই, আর তা পাওয়াও নিশ্চিত নয়। যেমন কোন বনের হরিণ, পানি অথবা সমুদ্রের মাছ এ আশায় বিক্রি করা যে, শিকার করে তা সরবরাহ করব। এটাকে বাইয়ে গারার বলে, এটা নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, বিক্রয়যোগ্য জিনিস না বিক্রেতার নিকট মওজুদ আর না তা পাওয়া নিশ্চিত। আর যদি পাওয়াও যায়, তবে রকমের ব্যাপারে মনোমালিন্য ও মতভেদের আশংকা রয়েছে। আলোচ্য হাদীসে তৃতীয় যে বিষয় নিষেধ করা হয়েছে, পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে ফল ফলাদি বিক্রি করা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)