কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১৫. কর-খাজনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংক্রান্ত

হাদীস নং: ২৯৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৮৬
১৫৮. ঐ পঞ্চমাংশ, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের মাল হতে নিতেন, কোথায় কোথায় তা বন্টন করতেন এবং নিকটাত্নীয়দের হক সম্পর্কে।
২৯৭৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের গনিমতের মাল হতে আমার ভাগে একটা মোটাতাজা উট পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুমুস হতেও আমাকে একটি হৃষ্টপুষ্ট উট প্রদান করেন। অতঃপর আমি যখন ফাতিমা (রাযিঃ) এর সঙ্গে বাসর যাপনের ইচ্ছা করি, তখন আমি একজন কর্মকারের সাথে, যিনি বনু কায়নুকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এ ওয়াদা করি যে, সে আমার সাথে যাবে এবং আমি তার কাছে ইযখির (এক ধরনের সুগন্ধ যুক্ত ঘাস) বিক্রয় করব, যাতে আমি আমার নব-পরিণীতা স্ত্রীর ওয়ালীমার ব্যবস্থা করতে পারি।

বস্তুত এ উদ্দেশ্যে যখন আমি আমার উটের জন্য পালান, ঘাস ও রশির যোগাড়ে ব্যস্ত ছিলাম, তখন আমার উট দুটি এক আনসার সাহাবীর হুজরার পাশে বসা ছিল। এরপর এদের জন্য যা প্রয়োজন ছিল, তা সংগ্রহ করে যখন আমি ফিরে আসি, তখন দেখি যে, তাদের কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, কোমর ফেড়ে ফেলা হয়েছে এবং কলিজা বের করা হয়েছে। এ অবস্থা দেখে আমি আমার অশ্রু সম্বরণ করতে অক্ষম হই।

তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এ কাজ কে করলো? তখন লোকেরা বললোঃ হামযা ইবনে আব্দিল মুত্তালিব এ কাজ করেছে। যিনি কয়েকজন আনসার সাহাবীর সঙ্গে এ ঘরে আছেন, যারা শরাব পান করেছেন[১] এবং জনৈকা গায়িকা তাঁর ও তাঁর সাথীদের সামনে এরূপ গান গাইছেঃ

’’হে হামযা! উঠ, এবং যে মোটাতাজা উট উঠানে বাধা আছে, ওর হলকুমে ছুরি চালিয়ে ওকে হত্যা করে ফেল এবং ওর পবিত্র অংশ (অর্থাৎ কুঁজ ও কলিজা) ডেগে পাকিয়ে বা ভুনা করে শরাব পানকারীদের জন্য জলদি তৈরী করে দাও।”

হামযা এ গান শুনে তখনই তরবারি দিয়ে ওদের কুঁজ কেটেছে এবং ওদের পেট ফেড়ে ওদের কলিজা বের করে ফেলেছে। আলী (রাযিঃ) বলেনঃ এ খবর জেনে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই। তখন যায়দ ইবনে হারিছা (রাযিঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চেহারা দেখে আমার অবস্থা বুঝতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজকের মত কোন অবস্থা আমার জীবনে আর আসেনি। হামযা আমার উটের উপর এরূপ অত্যাচার করেছে যে, ওদের কুঁজ ফেড়ে ফেলেছে এবং পেট কেটে ফেলেছে। আর সে শরাবীদের সাথে এ ঘরে উপস্থিত আছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাদর চান এবং তা গায়ে চড়িয়ে রওয়ানা হন। আমি এবং যায়দ ইবনে হারিছা তাঁর অনুসরণ করতে থাকি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই ঘরের কাছে পৌঁছান, যেখানে হামযা (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ভিতরে ঢুকে দেখতে পান যে, সবাই শরাব পান করে মাতাল অবস্থায় আছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হামযাকে এ কাজের জন্য ভর্ৎসনা করতে থাকেন। তিনি দেখতে পান যে, সে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে এবং তার দুটি চোখ নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে লাল হয়ে গেছে। হামযা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে চেয়ে দেখেন, তারপর চোখ উঠিয়ে তাঁর নাভির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। সবশেষে চোখ উঠিয়ে তাঁর চেহারার প্রতি তাকান এবং বলেনঃ তোমরা তো আমার বাবার গোলাম মাত্র।[২] এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুধাবন করতে পারেন যে, হামযা নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান হতে পেছনে ফিরে আসেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসি।

[১] এ সময় শরাব পান হারাম হয়ান।
[২] কেননা, হামযা (রাযিঃ) ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আলী (রাযিঃ)-এর দাদা ছিলেন । আর হারিছ ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোলাম। এজন্য হামযা (রাযিঃ) এরূপ উক্তি করেন।
ভিন্নমতে, আরবের রীতি অনুযায়ী দাদাকে সায়্যেদ বলা হতো। এদিক হতে হামযা (রাযিঃ) শরাবে বুঁদ হয়ে থাকার কারণে সকলকে আমার বাবার গোলাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
باب فِي بَيَانِ مَوَاضِعِ قَسْمِ الْخُمُسِ وَسَهْمِ ذِي الْقُرْبَى
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ يَوْمَ بَدْرٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ يَوْمَئِذٍ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْنِيَ بِفَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ أَنْ يَرْتَحِلَ مَعِي فَنَأْتِيَ بِإِذْخِرٍ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ مِنَ الصَّوَّاغِينَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَىَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ - وَشَارِفَاىَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ - أَقْبَلْتُ حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ فَإِذَا بِشَارِفَىَّ قَدِ اجْتُبَّتْ أَسْنِمَتُهُمَا وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَىَّ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ فَقُلْتُ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالُوا فَعَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَنَّتْهُ قَيْنَةٌ وَأَصْحَابَهُ فَقَالَتْ فِي غِنَائِهَا أَلاَ يَا حَمْزُ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَوَثَبَ إِلَى السَّيْفِ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَأَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا . قَالَ عَلِيٌّ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ قَالَ فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي لَقِيتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَىَّ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَهَا هُوَ ذَا فِي بَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ فَارْتَدَاهُ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ حَتَّى جَاءَ الْبَيْتَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ ثَمِلٌ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ حَمْزَةُ وَهَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ثَمِلٌ فَنَكَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى فَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ .
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)