কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৫. কর-খাজনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংক্রান্ত
হাদীস নং: ২৯৫১
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৬১
কর-খাজনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংক্রান্ত
১৫৬. দানপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা।
২৯৫১. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আদী কিনদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) এ মর্মে একটা লিখিত নির্দেশ জারী করেন যে, যে ব্যক্তি জানতে চায় যে, গনিমতের মাল কোথায় খরচ করতে হবে, সে যেন জেনে রাখে, (তা ঐ সব স্থানে ব্যয় করতে হবে), যে স্থানে উমর ইবনে খাওাব (রাযিঃ) ব্যয় করতে হুকুম দিয়েছিলেন। কেননা মুসলমানরা তার নির্দেশকে নবী (ﷺ)-এর হুকুম অনুযায়ী ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখেছেন। আল্লাহ তাআলা হক বা সত্যকে উমর (রাযিঃ)-এর যবান ও হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন। বস্তুত তিনি দানের খাত নির্ধারিত করেন, জিযিয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শান্তি ও নিরাপওার যিম্মাদারী গ্রহণ করেন। এতে তিনি খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নির্ধারিত করেন নি এবং একে গনিমতের মালের মধ্যেও শামিল করেন নি।
كتاب الخراج والإمارة والفىء
باب فِي تَدْوِينِ الْعَطَاءِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنِي فِيمَا، حَدَّثَهُ ابْنٌ لِعَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ الْكِنْدِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، كَتَبَ إِنَّ مَنْ سَأَلَ عَنْ مَوَاضِعِ الْفَىْءِ، فَهُوَ مَا حَكَمَ فِيهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه فَرَآهُ الْمُؤْمِنُونَ عَدْلاً مُوَافِقًا لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " جَعَلَ اللَّهُ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ " . فَرَضَ الأَعْطِيَةَ وَعَقَدَ لأَهْلِ الأَدْيَانِ ذِمَّةً بِمَا فُرِضَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْجِزْيَةِ لَمْ يَضْرِبْ فِيهَا بِخُمُسٍ وَلاَ مَغْنَمٍ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত উমরের ব্যাপারে বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে যেসব বিশেষ নেয়ামতে ভূষিত করেছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, তাঁর অন্তরে যা কিছু আসে এবং যা কিছু তিনি মুখে বলেন, তা হক ও সত্যই হয়ে থাকে। তিনি হকই চিন্তা করেন এবং হকই বলেন। এর মর্ম অবশ্য এই নয় যে, তাঁর পক্ষ থেকে ইজতেহাদী ভুলও হয় না। হযরত উমর রাযি. থেকেও কখনো কখনো ইজতেহাদী ভুল হয়ে যেত; কিন্তু হক প্রকাশ হওয়ার পর তিনি এ থেকে ফিরে যেতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের ব্যাপারে এবং তেমনিভাবে যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ও লড়াইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর যে অভিমত ছিল, এটা ইজতেহাদী ভুলই ছিল। পরে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি আপন মত থেকে ফিরে আসেন এবং হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করে নেন। যাহোক, ইজতেহাদী ভুলের এ জাতীয় কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া (যেগুলোতে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজ মত থেকে ফিরে আসেন,) তিনি যা চিন্তা করেছেন ও বুঝেছেন এবং যেসব বিধান জারী করেছেন, এগুলো সব সঠিক ও হক ছিল। নিঃসন্দেহে এটা তাঁর প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: