কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৯. জিহাদের বিধানাবলী

হাদীস নং: ২৭৭২
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৮১
জিহাদের বিধানাবলী
৭৩. সফর থেকে ফেরার পর নামায আদায় করা।
২৭৭২. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াক্কিল আসকালানী ও হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন সফর হতে আসতেন, তখন দিনের বেলায় আসতেন। রাবী হাসান (রাযিঃ) বলেনঃ দ্বি-প্রহরের সময় আসতেন। আর যখন তিনি সফর হতে আসতেন, তখন মসজিদে গিয়ে দু‘রাকআত নামায আদায়ের পর সেখানে বসতেন।
كتاب الجهاد
باب فِي الصَّلاَةِ عِنْدَ الْقُدُومِ مِنَ السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، وَعَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِمَا، كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَقْدِمُ مِنْ سَفَرٍ إِلاَّ نَهَارًا . قَالَ الْحَسَنُ فِي الضُّحَى فَإِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছ দ্বারা জানা যাচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং দু'রাকাত নামায পড়তেন। তিনি এটা সবরকম সফরের ক্ষেত্রেই করতেন, তা হজ্জের সফর হোক বা জিহাদের সফর। হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত-

إنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حِينَ أَقْبَلَ مِنْ حَجَّتِهِ دَخَلَ الْمَدِينَةَ فَأَنَاخَ عَلَى بَابِ مَسْجِدِهِ، ثُمَّ دخلَهُ فَرَكَعَ فِيْهِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَيْنِهِ.

'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ্জ থেকে ফিরে আসেন, তখন মদীনায় প্রবেশ করে মসজিদের দরজায় উট বসান। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকাত নামায পড়েন। তারপর ঘরে যান। (সুনানে আবূ দাউদ: ২৭৮২; মুসনাদে আহমাদ: ৬১৩০)

এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য খাস নয়: আমাদের জন্যও অনুসরণীয়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় হযরত জাবির রাযি.-এর বর্ণিত একটি হাদীছ দ্বারা। তিনি বলেন, আমি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। যখন মদীনায় ফিরে আসলাম, তিনি আমাকে বললেন, মসজিদে প্রবেশ করো এবং দু'রাকাত নামায পড়ে নাও। (সহীহ বুখারী: ৩০৮৭; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৮৫৮৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ : ২৭৬৭)

এটা ইসলামের এক মহান শিক্ষা। মানুষ সাধারণত সফর থেকে ফেরার পর সোজা নিজ ঘরে ঢুকে যায়। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো প্রথমে আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করো। নিরাপদে ফেরার জন্য তাঁর শোকর আদায় করো। তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করো। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হলে তোমার জন্য সব কল্যাণের দুয়ার খুলে যাবে। তারপর যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহর পক্ষ হতে খায়র ও বরকতের অধিকারী হতে পারবে। আল্লাহর সঙ্গে তোমার সম্পর্ক যত গভীর হবে, তোমার ঘর ততই শান্তিপূর্ণ হবে। মসজিদ আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের এক বড় মাধ্যম। মসজিদমুখিতা ঈমানের পরিচায়ক। যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে, হাশরের ময়দানে সে আরশের ছায়ায় জায়গা পাবে। সফর থেকে ফিরে আসার পর নিজ ঘরে প্রবেশের আগে মসজিদে প্রবেশ করাটা মসজিদের সঙ্গে অন্তর ঝুলন্ত থাকার পরিচায়ক। তাই প্রত্যেক মুসাফিরেরই এ হাদীছের উপর আমল করা উচিত।

প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করার দ্বারা ঘরের লোকদেরও প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যার প্রতি অন্যান্য হাদীছে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

আলোচ্য হাদীছ দ্বারা সফর থেকে ফিরে আসার পর যেমন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করা সুন্নত বলে জানা গেল, তেমনি দু'রাকাত নামায পড়ার শিক্ষাও পাওয়া গেল। এমনিতেও মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া মুস্তাহাব।
আলোচ্য হাদীছটি দ্বারা সফর থেকে ফিরে আসার পর এ নামাযের প্রতি অধিকতর উৎসাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ নামায মসজিদেই পড়া মুস্তাহাব। কোনও হাদীছ দ্বারা ঘরে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। মসজিদে প্রবেশের এ বিধান কেবল পুরুষদের বেলায়ই প্রযোজ্য। কোনও হাদীছে মহিলাদের এরূপ হুকুম দেওয়া হয়নি যে, তারা সফর থেকে ফেরার পর প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করবে। কাজেই তাদের জন্য এটা অনুসরণীয় নয়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

সফর থেকে ফেরার পর নিজ ঘরে প্রবেশের আগে মসজিদে প্রবেশ করা ও দু'রাকাত নফল নামায পড়া মুস্তাহাব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)