কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৯. জিহাদের বিধানাবলী
হাদীস নং: ২৫৪১
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৪৯
জিহাদের বিধানাবলী
৩১৭. পশু-পক্ষীদের তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে যে সকল নির্দেশ রয়েছে।
২৫৪১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে জা‘ফর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তাঁর খচ্চরের পিঠে তাঁর পেছনে বসালেন। তারপর তিনি আমাকে গোপন একটি কথা বললেন, এবং তিনি বললেনঃ কাউকেও বলবে না। প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য রাসূল (ﷺ) এর দু‘টি স্থান খুবই পছন্দনীয় ছিল, ১. কোন উঁচু স্থান অথবা ২. গাছের ঝাড়। একবার তিনি একজন আনসারীর বাগানে প্রবেশ করলেন। তখন হঠাৎ একটি উট দেখা গেল। সেটি নবী করীম (ﷺ) কে দেখার সঙ্গে হিঁ হিঁ শব্দে আওয়ায করে কাঁদতে লাগলো। দু‘চোখ হতে অশ্রুধারা বইতে লাগলো।
নবী করীম (ﷺ) তার কাছে গেলেন এবং তার মাথার পেছন দিকে হাত রেখে দু‘কানের গোড়া পর্যন্ত মুছে দিলেন। তাতে সে চুপ করে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ উটটি কার? এর মালিক কে? আনসার সম্প্রদায়ের এক যুবক বের হয়ে এসে উত্তর দিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি আমার উট। মহানবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ যে তোমাকে এ চতুষ্পদ জন্তুটির মালিক করেছেন, তুমি কি এর তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? সে আমার নিকট তোমার বিরূদ্ধে অভিযোগ করলো যে, তুমি তাকে অভুক্ত রাখ এবং তাকে কষ্ট দাও।
নবী করীম (ﷺ) তার কাছে গেলেন এবং তার মাথার পেছন দিকে হাত রেখে দু‘কানের গোড়া পর্যন্ত মুছে দিলেন। তাতে সে চুপ করে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ উটটি কার? এর মালিক কে? আনসার সম্প্রদায়ের এক যুবক বের হয়ে এসে উত্তর দিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি আমার উট। মহানবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ যে তোমাকে এ চতুষ্পদ জন্তুটির মালিক করেছেন, তুমি কি এর তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? সে আমার নিকট তোমার বিরূদ্ধে অভিযোগ করলো যে, তুমি তাকে অভুক্ত রাখ এবং তাকে কষ্ট দাও।
كتاب الجهاد
باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الْقِيَامِ عَلَى الدَّوَابِّ وَالْبَهَائِمِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ : أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَسَرَّ إِلَىَّ حَدِيثًا لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ هَدَفًا أَوْ حَائِشَ نَخْلٍ . قَالَ : فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَإِذَا جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَنَّ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ ذِفْرَاهُ فَسَكَتَ، فَقَالَ : " مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلِ، لِمَنْ هَذَا الْجَمَلُ " . فَجَاءَ فَتًى مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ : لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ : " أَفَلاَ تَتَّقِي اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَّكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا، فَإِنَّهُ شَكَى إِلَىَّ أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْئِبُهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তাঁর নবীকে পশুপাখির কথাবার্তা উপলব্ধি করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের মধ্যে হযরত সুলায়মান (আ)-কেও পাখির কথা বুঝবার শক্তি দান করা হয়েছিল বলে কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ মেহেরবানী। দীনি পরিভাষায় একে মু'জিযা বা অলৌকিক ব্যাপার বলা হয়।
পশুপাখি তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু মানুষের মত তাদেরও সুখ-দুঃখের অনুভূতি রয়েছে। সুখ পেলে তারা খুশি হয়, দুঃখ পেলে ব্যথিত হয়। তাই জন্তু, জানোয়ারের ব্যাপারেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজন মোতাবিক তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা উচিত। তাদের উপর কাজের এমন কোন বোঝা চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়, যা তারা বহন করতে সক্ষম নয়। অন্যথায় তারা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করবে। জন্তু-জানোয়ারের প্রতি যুলম ও নির্যাতন আল্লাহ তা'আলা খুব অপসন্দ করেন। এ ধরনের আচরণ 'সূউল খুলক' বা মন্দ আখলাকের অন্তর্গত এবং মন্দ আখলাক মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে। যারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী, তারা যেন সর্বাবস্থায় জন্তু-জানোয়ারের প্রতি সদয় থাকেন।
পশুপাখি তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু মানুষের মত তাদেরও সুখ-দুঃখের অনুভূতি রয়েছে। সুখ পেলে তারা খুশি হয়, দুঃখ পেলে ব্যথিত হয়। তাই জন্তু, জানোয়ারের ব্যাপারেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজন মোতাবিক তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা উচিত। তাদের উপর কাজের এমন কোন বোঝা চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়, যা তারা বহন করতে সক্ষম নয়। অন্যথায় তারা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করবে। জন্তু-জানোয়ারের প্রতি যুলম ও নির্যাতন আল্লাহ তা'আলা খুব অপসন্দ করেন। এ ধরনের আচরণ 'সূউল খুলক' বা মন্দ আখলাকের অন্তর্গত এবং মন্দ আখলাক মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে। যারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী, তারা যেন সর্বাবস্থায় জন্তু-জানোয়ারের প্রতি সদয় থাকেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)