কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৯. জিহাদের বিধানাবলী

হাদীস নং: ২৫১৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৫২৪
জিহাদের বিধানাবলী
৩০০. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
২৫১৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... উবাইদ ইবনে খালিদ আস সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দু‘ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়ে দিয়েছিলেন। তাদের একজন প্রথমে শহীদ হন আর অপরজন তার পরে কোন জুমআর দিনে অথবা এমন কোন দিনে মারা যান। আমরা তার জানাযা আদায় করি। এরপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা এ ব্যক্তির ব্যাপারে কীরূপ দুআ করলে? আমরা বললাম, আমরা তার মাগফিরাতের জন্য দুআ করেছি আর বলেছি, হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর এবং তার সঙ্গী ভাইয়ের সাথে মিলন ঘটিয়ে দাও। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তাহলে (প্রথম ব্যক্তির পরে) এ ব্যক্তি (জীবিত থেকে) যে সকল নামায, রোযা ও আমল (তার চাইতে অধিক পরিমাণে) করেছে, তা কোথায় যাবে? (প্রকৃতপক্ষে) তাদের উভয়ের মধ্যে আকাশপাতাল ব্যবধান রয়েছে।
كتاب الجهاد
باب
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُبَيِّعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ : آخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا وَمَاتَ الآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا، فَصَلَّيْنَا عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَا قُلْتُمْ " . فَقُلْنَا : دَعَوْنَا لَهُ، وَقُلْنَا : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَأَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " فَأَيْنَ صَلاَتُهُ بَعْدَ صَلاَتِهِ وَصَوْمُهُ بَعْدَ صَوْمِهِ " . شَكَّ شُعْبَةُ فِي صَوْمِهِ : " وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ إِنَّ بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। শাহাদাতের মাধ্যমে এ সুমহান মর্যাদা লাভ করার জন্য সর্বদা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। শাহাদাতের কামনা মনে থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে আশা করা যায় আল্লাহ তার নেক নিয়্যতের জন্য তাকে শাহাদাতের সওয়াব দান করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেসব নেক কাজ করেছেন, সে সবের জন্য তাকে বর্ধিত সওয়াব দান করা হবে।

নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যখন শুনতে পেলেন যে, তাঁরা শহীদ ব্যক্তির কাছে শেষে মৃত্যুবরণকারীকে পৌছানোর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে যা বলেছিলেন তার অর্থ হল, প্রথম ব্যক্তির শাহাদাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময় দুনিয়াতে বেঁচেছিলেন। সে সময়ের মধ্যে নামায-রোযা এবং সৎকর্ম এমন আন্তরিকতার সাথে করেছিলেন যে, আল্লাহ তার উপর প্রীত ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে শহীদ ব্যক্তির চেয়েও বেশি মর্যাদা দান করেছেন। ফলে উভয়ের মর্যাদার মধ্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ব্যক্তিকে শাহাদাতের সওয়াব দান করা হয়েছে, তাতে তাকে কোনরূপ কম দেয়া হয়নি। কিন্তু শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী যাহিদ ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা সহকারে যে নেক আমল করেছিলেন, সে নেক আমলের দরুন তিনি তার শহীদ বন্ধুর চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই প্রত্যেক নেক কাজে ইখলাস থাকা উচিত এবং ইখলাসের সাথে সামান্য সময়ের মধ্যেও যে ইবাদত-বন্দেগী করা হয়, তার ফল এত বিরাট ও মহান যে, তা আমরা সহজে ধারণাও করতে পারি না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: