কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৮. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৪৪৫
রোযার অধ্যায়
২৫৬. ৯ মুহাররামের দিন আশুরা হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
২৪৩৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... আবু গিতফান (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, নবী করীম (ﷺ) যখন আশুরার দিন রোযা রাখেন, তখন আমাদেরকেও ঐ দিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন। সাহবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! এ তো এমন দিন, যাকে ইয়াহুদী ও নাসারাগণ সম্মান করে থাকে। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যখন আগামী বছর এ সময় আসবে, তখন আমরা ৯ই মুহাররমসহ রোযা রাখব। কিন্তু পরবর্তী বছর আগমনের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন।
كتاب الصوم
باب مَا رُوِيَ أَنَّ عَاشُورَاءَ الْيَوْمُ التَّاسِعُ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ أُمَيَّةَ الْقُرَشِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا غَطَفَانَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حِينَ صَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَنَا بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ " . فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরামের আপত্তি পেশ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাতের কিছুকাল পূর্বে এ কথাটি বলেছিলেন। এতটুকু পূর্বে যে, এর পর তাঁর জীবদ্দশায় মুহাররম মাস আর আসেই নাই, আর এজন্য এ নতুন সিদ্ধান্তের উপর আমল করা আর হুযুর (ﷺ)-এর জীবনে সম্ভব হয়নি। কিন্তু উম্মত পথনির্দেশ পেয়ে গেল যে, এ ধরনের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকা চাই। যেমন তিনি এ উদ্দেশ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে, ইন্‌শাআল্লাহ্ আগামী বছর আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব।

মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)