কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৫. হজ্ব আদায়ের নিয়মাবলীর বিবরণ
হাদীস নং: ২০৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ২০৪২
হজ্ব আদায়ের নিয়মাবলীর বিবরণ
৯৫. কবর যিয়ারত।
২০৩৮. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা তেমাদের গৃহকে কবরে (অর্থাৎ আল্লাহর যিক্র বা নামায হতে খালি) পরিণত করো না। আর তোমরা আমার কবরকে ঈদের স্থানে পরিণত করো না। বরং তোমরা আমার উপর সালাম পেশ করবে। কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের নামায ও সালাম আমার নিকট পৌঁছে থাকে।
كتاب المناسك
باب زِيَارَةِ الْقُبُورِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا وَلاَ تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا وَصَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে তিনটি হিদায়াত দেওয়া হয়েছে:
১. নিজেদের ঘরসমূহকে কবর বানিয়ে ফেলিয়ো না। এর অর্থ মুহাদ্দিসগণ এরূপ করেছেন যে, যেরূপ কবরে মুর্দাগণ যিকর ও ইবাদত করেন না এবং কবরসমূহ যিকর ও ইবাদত-বন্দেগী থেকে শূন্য থাকে, তোমরা তোমাদের বাসস্থানসমূহকে সেরূপ বানিয়ে তোল না যেন। বরং তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা আবাদ রাখবে। এর দ্বারা জানা গেল যে, যে ঘরে ইবাদত-বন্দেগী হয় না। সেটা জীবিতদের ঘর বলে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, বরং মৃতদের বাসস্থান বা কবরস্তান শব্দটি এমন ঘরসমূহের জন্যেই প্রযোজ্য।
২. দ্বিতীয় হিদায়াতটি হচ্ছে, আমার কবরকে মেলার স্থল বা তীর্থস্থানে পরিণত করো না। অর্থাৎ যেভাবে বছরের কোন এক বিশেষ সময়ে মেলাসমূহে লোকসমাগম ঘটে, তেমন কোন মেলা যেন আমার কবরে তোমরা বানিয়ে না দাও!
বুযুর্গানে দ্বীন ও ওলী আল্লাহগণের মাযারসমূহে উরসের নামে যেসব মেলা বসে থাকে, তা থেকে অনুধান করা চলে যে, আল্লাহ না করুন এমন কোন মেলা যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাযারকে কেন্দ্র করে বসতো তাহলে তাঁর পবিত্র আত্মা তাতে কতই না ব্যথিত ও দুঃখিত হতো!
৩. তৃতীয় যে হিদায়াতটি করা হয়েছে তা হলো তোমরা জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে১ যেখানেই অবস্থান করো না কেন, পাশ্চাত্যে থাকো অথবা প্রাচ্যেই থাকো, তোমাদের প্রেরিত সালাত-সালাম সেখান থেকেই আমার কাছে পৌঁছে যাবে।
ঐ একই বক্তব্য প্রায় কাছাকাছি শব্দমালা যোগে তাবারানী তাঁর নিজ সনদে হযরত হাসান ইব্ন আলী (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তাঁর শব্দমালা হচ্ছে:
حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلٰوتَكُمْ تَبْلُغُنِي
আল্লাহ তা'আলা তাঁর যে সব নেক বান্দাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে হৃদয়ের সম্পর্কের কিছুটাও দান করেছেন, তাঁদের জন্যে এটা কতবড় খোশখবরী ও সান্ত্বনা বাণী যে, চাই হাজার হাজার মাইল দূর থেকেই হোক না কেন, তাঁদের সালাত ও সালাম তাঁর দরবারে অবশ্যই পৌঁছে যাবে।
قرب جانی چو بودے بعد مکانی سهل است
রূহের নৈকট্য যদি রয় স্থানের দূরত্ব কিছু নয়।
[তাই তো বাঙালী কবি গেয়ে উঠেছেন:
"পঙ্গু আমি আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন করি?"
"তবেও আরব সাগরের হাওয়া,
আমার সালামখানি পৌঁছে দিস্ তুই
নবীজীর রওজায়।"
"দূর আরবের স্বপ্ন দেখি,
বাংলাদেশের কুবীর হতে......।"
ইত্যাদি ইত্যাদি। অনুবাদক।
টিকা ১. জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে জাতীয় বাগধারা উর্দু ভাষায় প্রচলিত না থাকলেও বাংলায় এর প্রচলন আছে এবং বাস্তবেও এখন লক্ষ লক্ষ লোক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অহরহ আকাশ ভ্রমণে লিপ্ত থাকেন। তাঁদের দরূদও এ হাদীসের মর্মের আওতাধীন। কেননা, হাদীছে স্পষ্ট আছে। এ জন্যে মওলানা নু'মানী রহিমাহুল্লাহ 'অন্তরীক্ষে' শব্দার্থ ব্যবহার না করা সত্ত্বেও আমরা তা করেছি।
- অনুবাদক
১. নিজেদের ঘরসমূহকে কবর বানিয়ে ফেলিয়ো না। এর অর্থ মুহাদ্দিসগণ এরূপ করেছেন যে, যেরূপ কবরে মুর্দাগণ যিকর ও ইবাদত করেন না এবং কবরসমূহ যিকর ও ইবাদত-বন্দেগী থেকে শূন্য থাকে, তোমরা তোমাদের বাসস্থানসমূহকে সেরূপ বানিয়ে তোল না যেন। বরং তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা আবাদ রাখবে। এর দ্বারা জানা গেল যে, যে ঘরে ইবাদত-বন্দেগী হয় না। সেটা জীবিতদের ঘর বলে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, বরং মৃতদের বাসস্থান বা কবরস্তান শব্দটি এমন ঘরসমূহের জন্যেই প্রযোজ্য।
২. দ্বিতীয় হিদায়াতটি হচ্ছে, আমার কবরকে মেলার স্থল বা তীর্থস্থানে পরিণত করো না। অর্থাৎ যেভাবে বছরের কোন এক বিশেষ সময়ে মেলাসমূহে লোকসমাগম ঘটে, তেমন কোন মেলা যেন আমার কবরে তোমরা বানিয়ে না দাও!
বুযুর্গানে দ্বীন ও ওলী আল্লাহগণের মাযারসমূহে উরসের নামে যেসব মেলা বসে থাকে, তা থেকে অনুধান করা চলে যে, আল্লাহ না করুন এমন কোন মেলা যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাযারকে কেন্দ্র করে বসতো তাহলে তাঁর পবিত্র আত্মা তাতে কতই না ব্যথিত ও দুঃখিত হতো!
৩. তৃতীয় যে হিদায়াতটি করা হয়েছে তা হলো তোমরা জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে১ যেখানেই অবস্থান করো না কেন, পাশ্চাত্যে থাকো অথবা প্রাচ্যেই থাকো, তোমাদের প্রেরিত সালাত-সালাম সেখান থেকেই আমার কাছে পৌঁছে যাবে।
ঐ একই বক্তব্য প্রায় কাছাকাছি শব্দমালা যোগে তাবারানী তাঁর নিজ সনদে হযরত হাসান ইব্ন আলী (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তাঁর শব্দমালা হচ্ছে:
حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلٰوتَكُمْ تَبْلُغُنِي
আল্লাহ তা'আলা তাঁর যে সব নেক বান্দাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে হৃদয়ের সম্পর্কের কিছুটাও দান করেছেন, তাঁদের জন্যে এটা কতবড় খোশখবরী ও সান্ত্বনা বাণী যে, চাই হাজার হাজার মাইল দূর থেকেই হোক না কেন, তাঁদের সালাত ও সালাম তাঁর দরবারে অবশ্যই পৌঁছে যাবে।
قرب جانی چو بودے بعد مکانی سهل است
রূহের নৈকট্য যদি রয় স্থানের দূরত্ব কিছু নয়।
[তাই তো বাঙালী কবি গেয়ে উঠেছেন:
"পঙ্গু আমি আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন করি?"
"তবেও আরব সাগরের হাওয়া,
আমার সালামখানি পৌঁছে দিস্ তুই
নবীজীর রওজায়।"
"দূর আরবের স্বপ্ন দেখি,
বাংলাদেশের কুবীর হতে......।"
ইত্যাদি ইত্যাদি। অনুবাদক।
টিকা ১. জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে জাতীয় বাগধারা উর্দু ভাষায় প্রচলিত না থাকলেও বাংলায় এর প্রচলন আছে এবং বাস্তবেও এখন লক্ষ লক্ষ লোক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অহরহ আকাশ ভ্রমণে লিপ্ত থাকেন। তাঁদের দরূদও এ হাদীসের মর্মের আওতাধীন। কেননা, হাদীছে স্পষ্ট আছে। এ জন্যে মওলানা নু'মানী রহিমাহুল্লাহ 'অন্তরীক্ষে' শব্দার্থ ব্যবহার না করা সত্ত্বেও আমরা তা করেছি।
- অনুবাদক
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)