মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
নবী করীম (ﷺ)-এর আহলে বাইত তথা পুণ্যবতী স্ত্রী ও সন্তানদের ফযীলত ও মর্যাদা

এটা এক বাস্তব সত্য- যাতে কোন সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই যে, আহলে বাইত শব্দটি কুরআন মজীদে নবী পত্রীদের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে। সূরা আহযাবের চতুর্থ রুকুতে নবী পত্রীদেরকে বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়ার পর বলা হয়েছে:

إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت ويطهركم تطهيرا

যার অর্থ এই যে, হে আমার নবী পত্নীগণ। তোমাদেরকে যে এই বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এগুলোর দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্য ঝামেলা ও কষ্টে ফেলা নয়; বরং আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা এসব দিকনির্দেশনা দ্বারা এই যে, তোমাদেরকে সর্বপ্রকার জাহেরী ও বাতেনী পংকিলতা থেকে তিনি মুক্ত রাখবেন। আরবী ভাষা সম্পর্কে যে ব্যক্তি সামান্য জ্ঞানও রাখে, সে সূরা আহযাবের এ পূর্ণ রুকূটি পাঠ করার পর সামান্য সন্দেহও পোষণ করবে না যে, এখানে 'আহলে বাইত' শব্দটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পুণ্যবতী স্ত্রীদের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এটা কেমন আশ্চর্য কথা যে, কুরআনের প্রতি ঈমান পোষণকারী আমাদের মুসলমানদের অবস্থা আজ এই যে, 'আহলে বাইত' শব্দটি শুনে আমাদের মন-মস্তিষ্ক নবী-পত্নীদের দিকে মোটেও যায় না; বরং হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা রাযি. ও তাঁর স্বামী হযরত আলী রাযি. এবং এ দু'জনের সন্তানাদির দিকেই ধাবিত হয়।

'আহলে বাইত' শব্দটি কুরআন মজীদে সূরা আহযাব ছাড়া কেবল এক স্থানে সূরা হুদের ষষ্ঠ রুকুতেও এসেছে। যেখানে এ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন বার্ধক্যের এ বয়সে উপনীত হয়ে গিয়েছিলেন, যখন প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের আশা করা যায় না এবং তখনও তিনি নিঃসন্তান ছিলেন, তখন আল্লাহ তা'আলার প্রেরিত ফিরিশতাদের একটি দল এসে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী হযরত সারাকে একটি পুত্র সন্তান জন্মের সুসংবাদ দিলেন। হযরত সারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন:

أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهٰذَا بَعْلِي شَيْخًا

(আমি নিজেও বৃদ্ধা, আর আমার স্বামীও বুড়ো হয়ে গিয়েছেন। তাই এখন আমি সন্তান জন্ম দিব?) এর উত্তরে ফিরিশতারা বললেন:

اَتَعۡجَبِیۡنَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ رَحۡمَتُ اللّٰہِ وَبَرَکٰتُہٗ عَلَیۡکُمۡ اَہۡلَ الۡبَیۡتِ ؕ اِنَّہٗ حَمِیۡدٌ مَّجِیۡدٌ

(আপনি আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতী ফায়সালার উপর আশ্চর্যবোধ করছেন। আপনাদের আহলে বাইত-এর উপর তো আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত রয়েছে।) স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে, এ আয়াতেও 'আহলে বাইত' দ্বারা হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর স্ত্রী হযরত সারাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

আরবী ভাষা ও বাকপদ্ধতি সম্পর্কে যাদের ধারণা রয়েছে এমন প্রতিটি ব্যক্তিই জানে যে, কোন ব্যক্তির আহলে বাইতের প্রয়োগস্থল তার স্ত্রীই হয়ে থাকে। তদ্রূপভাবে ফারসী ভাষায় 'আহলে খানাহ্' এবং উর্দু ভাষায় 'ঘরওয়ালা' অথবা 'ঘরওয়ালী' স্ত্রীকেই বলা হয়। মা, বোন, কন্যা, জামাতা ও তাদের সন্তানদের জন্য আহলে বাইত, আহলে খানাহ এবং ঘরওয়ালে শব্দ ব্যবহার করা হয় না। সারকথা, এতে কোন সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই যে, কুরআন মজীদে আহলে বাইত শব্দটি নবী-পত্রীদের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁরাই এর প্রথম প্রয়োগস্থল। তবে এ কথা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, যখন সূরা আহযাবের উপরোল্লিখিত আয়াত:

اِنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰہُ لِیُذۡہِبَ عَنۡکُمُ الرِّجۡسَ اَہۡلَ الۡبَیۡتِ وَیُطَہِّرَکُمۡ تَطۡہِیۡرًا ۚ

নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন কন্যা হযরত ফাতেমা যাহরা, তাঁর দু'পুত্র হযরত হাসান ও হুসাইন এবং তাদের সাথে তাঁর চাচাতো ভাই ও স্বামী হযরত আলী রাযি.-কে একটি কম্বলে নিজের সাথে নিয়ে এ দু‘আ করলেন:

اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلُ بَيْتِي فَأَذْهِبْ عَنْهُمُ الرِّجْسَ وَطَهِّرْهُمْ تَطْهِيرًا

(হে আল্লাহ্। এরাও আমার আহলে বাইত, সুতরাং তাদের থেকেও অপবিত্রতা দূর করে দিয়ে তাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র করে দাও।) নিঃসন্দেহে হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আ কবুল হয়েছে এবং সূরা আহযাবে নবী পত্রীগণকে আহলে বাইত শব্দ দ্বারা উল্লেখ করে তাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলার যে বিশেষ অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে তারাও শামিল হয়ে গেলেন। এর ভিত্তিতে তারাও 'আহলে বাইত'-এর সঠিক প্রয়োগস্থল। কিন্তু আগেও যেমন বিস্তারিত বলে আসা হয়েছে যে, কুরআন মজীদে এ শব্দটি নবী পত্রীদের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁরাই এর প্রথম প্রয়োগক্ষেত্র।

সারকথা: এ বিষয়টি যে, নবী পত্নীগণ হুযুর (ﷺ)-এর আহলে বাইত নন; বরং এ শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল তাঁর এক কন্যা, এক জামাতা ও দুই নাতী একথাটি না ভাষাগত দিক দিয়ে সঠিক, না কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত; বরং একটি বিশেষ ফেরকার চালাকির ফলে এ ভুলটি উম্মতের মধ্যে ব্যাপক রূপ ধারণ করে নিয়েছে এবং আমাদের সাদা মনের কারণে অন্যান্য অনেক ভুলের ন্যায় এটাও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে ফেলেছে। তাই আহলে বাইত শব্দ শুনে আমাদের লেখাপড়া জানা অনেক মন মস্তিষ্কও নবী-পত্রীদের প্রতি যায় না- যা কুরআন মাজীদের দৃষ্টিতে এ শব্দের প্রথম প্রয়োগ স্থল।

এবার এ অধম 'আহলে বাইত' শব্দের সঠিক অর্থটি উম্মতের মধ্যে প্রচলন দেওয়ার নিয়্যতে 'আহলে বাইত নববী' শিরোনামের অধীনেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পত্রীগণ ও সন্তানদের উভয়ের মর্যাদা ও ফযীলত লিখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَهُوَ الْمُسْتَعَانُ

আযওয়াজে মুতাহহারাত তথা নবী পত্রীদের আলোচনা
হাদীস ও শরী‘আতের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযওয়াজে মুতাহহারাত যারা বিবাহিতা স্ত্রী হিসাবে হুযূর (ﷺ)-এর সাথে অল্প বিস্তর সময় রয়েছেন, তাঁরা মোট এগারজন। তাদের নাম এই: (১) হযরত খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ, (২) হযরত সাওদা বিনতে যামআ, (৩) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা, (৪) হযরত হাফসা বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব, (৫) হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা, (৬) হযরত উম্মে সালামা, (৭) হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ, (৮) হযরত উম্মে হাবীবা, (৯) হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারেস, (১০) হযরত সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব, (১১) হযরত মায়মুনা রাযি.। তাঁদের মধ্যে হযরত খাদীজা ও হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা হুযুর (ﷺ)-এর জীবদ্দশাতেই ইন্তিকাল করে গিয়েছেন। এ এগারজন ছাড়া বনু কুরায়যার রায়হানা বিনতে শামাউন সম্পর্কেও কোন কোন রেওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, যখন হুযুর (ﷺ) বনু কুরায়যার ইয়াহুদিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন এবং তাদের অবশিষ্টদেরকে গ্রেফতার করলেন, তখন তাদের মধ্যে এ রায়হানাও ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করে নিলে হুযুর (ﷺ) তাকে মুক্ত করে দিয়ে নিজের বিবাহে নিয়ে নিলেন। কিন্তু অপর কোন কোন রেওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, তিনি হুযুর (ﷺ)-এর বিবাহিতা স্ত্রীর মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি; বরং দাসী হিসাবে হুযুর (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। পরিশেষে হুযূর (ﷺ)-এর ওফাতের কয়েকদিন পূর্বে এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী বিদায় হজ্ব থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হুযুর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায়ই তিনি ওফাত পান।

স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য ও মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য নিঃসন্দেহে একটি উঁচু স্তরের মর্যাদা এবং আল্লাহ্ তা'আলার এক বিরাট নেয়ামত। স্তরের পার্থক্য সত্ত্বেও এ মর্যাদা সকল আযওয়াজে মুতাহহারাতের সমানভাবে অর্জিত রয়েছে। তেমনিভাবে তাদেরকে যে বিশেষ বিধানাবলী আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, এসব বিধানও তাদের সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কুরআন মজীদে وازواجه امهاتهم বলে তাদেরকে সকল ঈমানদারের মা বলা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতের পর তাঁর কোন উম্মত ও ঈমানদারের জন্য তাদের মধ্য থেকে কাউকে বিয়ে করা তেমনিভাবে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমনভাবে নিজের মাকে বিয়ে করা হারাম।

এ পর্যন্ত কেবল আযওয়াজে মুতাহহারাতের নাম লিখা হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সামনে ইনশাআল্লাহ এসব 'উম্মাহাতুল মু'মিনীনের' প্রয়োজনীয় পরিচিতি, উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহে আসার বিবরণ ও এর বিশেষ কারণসমূহ পাঠকগণ দেখতে পাবেন। তাছাড়া তাদের মৃত্যুর আলোচনাও সেখানে থাকবে। এর দ্বারা ইনশাআল্লাহ্ ঐসব প্রশ্ন ও সন্দেহের উত্তরও হয়ে যাবে, যা আযওয়াজে মুতাহহারাতের সংখ্যার ব্যাপারে মানুষরূপী শয়তানদের ওয়াসওয়াসার কারণে অন্তরে সৃষ্টি হয়।

উম্মুল মু'মিনীন হযরত খাদীজা রাযি.
ইনি হচ্ছেন সর্বপ্রথম ভাগ্যবতী নারী, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হওয়ার মর্যাদায় ভূষিত হন। তার পিতা খুওয়াইলিদ মক্কার আসাদ গোত্রের একজন ধনী ও সম্মানিত ব্যবসায়ী ছিলেন। হযরত খাদীজার প্রথম বিয়ে আবু হালা তামীমীর সাথে হয়েছিল এবং তাদের দু'জন সন্তান (হালা ও হিন্দ) জন্ম গ্রহণ করেছিল। কিছুদিন পর আবু হালার ইন্তিকাল হয়ে গেল এবং দ্বিতীয় বিয়ে আতীক ইবনে আবেদ মাখযুমীর সাথে অনুষ্ঠিত হল। এ দিক থেকেও তাদের এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করল। কিন্তু আতীকও বেশী দিন বেঁচে থাকলেন না। তারপর যখন খাদীজার বয়স ৩৫/৩৬ বছর হয়ে গেল, তখন তার পিতা খুওয়াইলিদেরও ইন্তিকাল হয়ে গেল। এখন ব্যবসায়িক কাজ কারবারের দায়িত্ব নিজের উপরই এসে পড়ল। মক্কায় প্রচলন ছিল যে, লাভের নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়ে অন্যের দ্বারাও ব্যবসা পরিচালনা করা হত। (যাকে ফেকাহর পরিভাষায় মুযারাবা বলা হয়।) নিজের পিতা ও স্বামীর মৃত্যুর পর হযরত খাদীজা এ পদ্ধতিই অবলম্বন করলেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্মল চরিত্র, বিশ্বস্ততা, সত্যবাদিতা ও সততার কথা মক্কাবাসীর নিকট সুবিদিত ছিল। এমনকি তিনি 'আল আমীন' উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। এ কারণেই হযরত খাদীজা একবার চাইলেন যে, হুযুর (ﷺ) তার ব্যবসায়িক পণ্য সামগ্রী নিয়ে সিরিয়ায় যান এবং এ প্রস্তাবও দিলেন যে, লাভের যতটুকু অংশ অন্যদেরকে এ পর্যন্ত দিয়ে এসেছি, আপনাকে এর দ্বিগুণ দিব। হুযূর (ﷺ) নিজের চাচা আবু তালেবের সাথে পরামর্শ করার পর এ প্রস্তাব গ্রহণ করে নিলেন। হযরত খাদীজা স্বীয় গোলাম মায়সারাকেও তাঁর সাথে দিয়ে দিলেন। এ বাণিজ্যিক সফরে আল্লাহ্ তা'আলা প্রচুর বরকত দান করলেন এবং আগে যে লাভ হত, এ সফরে দ্বিগুণ মুনাফা হল। তাছাড়া হযরত খাদীজার গোলাম মায়সারা হুযূর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্র, নির্মল জীবনধারা এবং কিছু অসাধারণ ও কারামত জাতীয় বিষয়ও প্রত্যক্ষ করলেন। সফর থেকে ফিরে আসার পর মায়সারা খাদীজার সাথেও সেগুলোর আলোচনা করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বিবাহ
হযরত খাদীজা একজন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক ও অভিজাত মহিলা হওয়া ছাড়া বাহ্যিক রূপ, সৌন্দর্য, আভ্যন্তরীণ গুণাবলী, মহান কীর্তি, দানশীলতা ও সাধুতা ইত্যাদি প্রশংসনীয় গুণাবলীতেও অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। এ জন্যই তিনি 'তাহেরা' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। এ কারণে মক্কার কুরাইশদের অনেক সম্ভ্রান্ত লোকদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দু'জন স্বামীর বিয়োগের কারণে বাকী জীবন এভাবেই কাটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। এ জন্য কারো প্রস্তাব গ্রহণ করলেন না। কিন্তু মায়সারা ব্যবসায়িক সফর থেকে ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা ও চাক্ষুষ ঘটনাবলী যখন বর্ণনা করলেন, তখন স্বয়ং তাঁর অন্তরে হুযুর (ﷺ)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আকাঙ্খা জাগ্রত হল। এ উদ্দেশ্যে তিনি নফীসা নামী এক মহিলাকে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোপনে পাঠালেন। নফীসা বলেন যে, আমি হুযুর (ﷺ)-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আপনি বিয়ে করেন না কেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি নিঃস্ব ও খালিহাত। আমি কিভাবে বিয়ে করতে পারি? আমি বললাম, যদি এমন কোন মহিলা আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আকাঙ্খী হয়, যিনি বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্য ও আভিজাত্য ছাড়া প্রচুর সম্পদেরও মালিক এবং আপনার প্রয়োজন পূরণে আন্তরিকভাবে আগ্রহী হয়, তাহলে আপনি কি তাকে বিয়ে করে নেওয়া পছন্দ করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কোন্ বান্দী পছন্দ করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কোন্ বান্দী এমন হতে পারে? আমি বললাম, খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। হুযুর (ﷺ) এ প্রস্তাবের কথা চাচা আবু তালেবের নিকট পেশ করলে তিনি অত্যন্ত খুশী প্রকাশ করলেন। এরপর হুযুর (ﷺ) নফীসাকে উত্তর দিয়ে দিলেন যে, খাদীজা যদি এর জন্য আগ্রহী হয়, তাহলে আমিও রাজী আছি।

নফীসা এসে হযরত খাদীজাকে এ ব্যাপারে অবগতি দান করলেন। তারপর খাদীজা নফীসার মাধ্যমেই হুযুর (ﷺ)কে ডেকে এনে সরাসরি তাঁর সাথে কথা বললেন। এ কথাবার্তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেল অমুক দিন আমার এখানে এসে যাবেন। কথামত হুযুর (ﷺ) আপন চাচা আবু তালেব ও পরিবারের অন্যান্য মুরুব্বীদেরকে নিয়ে যাদের মধ্যে হযরত হামযা রাযি.ও ছিলেন-হযরত খাদীজার বাড়ীতে পৌছে গেলেন। খাদীজাও আপন চাচা আমর ইবনে আসাদকে ডেকে নিয়ে আসলেন এবং তখনকার কুরাইশদের প্রথা অনুযায়ী তাকেই ওলী ও অভিভাবক নির্ধারণ করে বিয়ে হয়ে গেল। এ সময় হুযুর (ﷺ) এর বয়স পঁচিশ বছর ছিল এবং খাদীজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এটা ছিল হুযুর (ﷺ)-এর প্রথম বিয়ে, যা নবুওয়াত লাভের প্রায় পনের বছর পূর্বে হয়েছিল।

সন্তানাদি
এ দাম্পত্য সম্পর্কের কিছুদিন পর (এক ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী ৫ বছর পর) হুযুর (ﷺ)-এর প্রথম পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন- যার নাম 'কাসেম' রাখা হয়। তারই নাম হুযুর (ﷺ) নিজের 'কুনিয়াত' উপনাম আবুল কাসেম রাখেন। শিশুকালেই তার ইন্তিকাল হয়ে যায়। তারপর হুযুর (ﷺ)-এর সর্বজ্যৈষ্ঠ কন্যা হযরত যয়নব জন্মগ্রহণ করেন। এ দু'জনের জন্ম নবুওয়াতের সূচনার পূর্বেই হয়। তারপর এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন-যার নাম আব্দুল্লাহ রাখা হয়। তার জন্ম নবুওয়াত যুগে হয়। এ জন্যই তাকে তৈয়্যেব ও তাহের উপনামেও স্মরণ করা হয়। তারও ইন্তিকাল শিশুকালেই হয়ে যায়। তাদের পরে ধারাবাহিকভাবে তিন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। যাদের নাম রুকাইয়্যা, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা রাখা হয়। চার কন্যারই আলোচনা সামনে 'সন্তানাদি' শিরোনামে পাঠকদের সামনে পেশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

হযরত খাদীজার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
এ কথা সুবিদিত যে, কুরাইশ গোত্র; বরং সাধারণভাবে মক্কার অধিবাসীরা মূর্তিপূজার শিরকে লিপ্ত ছিল এবং এ শিরক তাদের নিকট এত প্রিয় ছিল যে, এর বিরুদ্ধে একটি কথা শোনাও তাদের নিকট অসহনীয় বিষয় ছিল। কিন্তু জাহিলিয়্যাতের এ যুগেও হাতে গোনা দু'চারজন এমন লোকও ছিলেন, যাদের নিকট প্রকৃতিগত ভাবেই মূর্তিপূজা অত্যন্ত ঘৃণিত ছিল। তাদের মধ্যে হযরত খাদীজাও একজন ছিলেন। ঐ যুগের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, তিনিই একমাত্র মহিলা ছিলেন, যিনি শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে বেজার ছিলেন।

আল্লাহ্ তা'আলা হযরত খাদীজাকে অন্যান্য নেয়ামতসমূহ ছাড়া আর্থিক প্রাচুর্যও দান করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অবস্থা এর বিপরীত ছিল। তাই হযরত খাদীজা নিজের সম্পূর্ণ সম্পদ যেন হুযুর (ﷺ)-এর পদতলে লুটিয়ে দিলেন এবং হুযুর (ﷺ)কে এ জাতীয় চিন্তা থেকে মুক্ত করে দিলেন। কুরআন মাজীদের সূরা 'যোহা'তে এ অবস্থা সম্পর্কেই বলা হয়েছে। وَوَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی হে নবী। আপনাকে আপনার পরওয়ারদেগার দরিদ্র ও নিঃস্ব পেয়েছন, তারপর অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দিলেন। এখানে এ ঘটনাটিও উল্লেখ করার মত যে, হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা খাদীজা রাযি.-এর কেনা গোলাম ছিলেন। তিনি দেখলেন যে, যায়েদের মাঝে হুযুর (ﷺ)-এর প্রতি বিশেষ ভালবাসা ও আন্তরিক টান রয়েছে এবং হুযুর (ﷺ)ও তাঁর প্রতি ভালবাসার আচরণ করেন। তাই খাদীজা রাযি. যায়েদকে হুযুর (ﷺ)-এর মালিকানায় দিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন এবং আরবদের তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তাকে নিজের 'পালকপুত্র' বানিয়ে নিলেন। এমনকি তাকে যায়েদ ইবনে হারেসার স্থলে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদই বলা হতে লাগল।

তারপর বিয়ের পনের বছর পর আল্লাহ্ তা'আলা হুযুর (ﷺ)কে নবুওয়াতের মর্যাদায় ভূষিত করলেন এবং তাঁর উপর ঐ কঠিন অবস্থা আসল, যেগুলোর আলোচনা নবুওয়াতের সূচনা সংক্রান্ত হাদীসে কিতাবুল মানাকেবের শুরুতেই করে আসা হয়েছে- ঐসময় তাঁর যে ধরনের প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সহানুভূতিমাখা সান্ত্বনার প্রয়োজন ছিল, সেটা আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ তাওফীকে হযরত খাদীজার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল। হযরত খাদীজা যখন হুযুর (ﷺ)কে আপন চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফেলের নিকট নিয়ে গেলেন- যিনি মক্কার পূর্ণ জনবসতিতে তাওহীদবাদী, সঠিক আকীদার অধিকারী খ্রিস্টান এবং তাওরাত ও ইনজিলের অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন এবং তিনি হুযুর (ﷺ)-এর মুখে হেরাগুহার ঘটনা ও ইতিবৃত্ত শুনে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে হুযুর (ﷺ)-এর আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী হওয়ার কথা বললেন, তখন খাদীজাও তার এ কথা অন্তর থেকে কবুল করে নিলেন; বরং এ কথা বলা সঠিক হবে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পনের বছরের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পূর্ব থেকেই তাঁর অন্তর হুযুর (ﷺ)-এর প্রতিটি কথা বিশ্বাস করতে ও তা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল। এ হিসাবে বলা যায় যে, সারা উম্মতের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নবুওয়াতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন।

তারপর যখন হুযুর (ﷺ) আল্লাহর হুকুমে তাওহীদ ও দ্বীনে হকের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন, তখন গোটা সম্প্রদায় তাঁর শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সম্ভাব্য সকল পন্থায় তাঁকে উৎপীড়ন করা বছরের পর বছর এ হতভাগাদের প্রিয় নেশা হয়ে রইল। উৎপীড়নের এ পুরা সময়ে হযরত খাদীজা কেবল হুযুর (ﷺ)-এর দুঃখে সহানুভূতিশীল ছিলেন না; বরং সম্পূর্ণরূপে তাঁর সুখে দুঃখে শরীক ছিলেন। এমনকি যখন এ যালেমরা মক্কার প্রায় সব লোকদেরকে সাথে নিয়ে হুযুর (ﷺ) এবং তাঁর পরিবার বনী হাশেমের ঐসব লোকদের বিরুদ্ধেও অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্ক অথবা বংশ সম্পর্কের কারণে তাঁর সাহায্য করত। ফলে তাঁর নিকটাত্মীয়রাও শিআবে আবু তালেবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল। তারা এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যে, পানাহার সামগ্রী পর্যন্ত তাদের নিকট পৌছানো যেত না, ফলে গাছের পাতা খেয়ে কখনো কখনো তাদের জীবন চালাতে হত। এ অবস্থায়ও হযরত খাদীজা শিআবে আবু তালেবে হুযুর (ﷺ)-এর সাথেই থাকেন। অথচ তিনি ইচ্ছা করলে এ দিনগুলোতে নিজের বাড়িতেই থাকতে পারতেন।

হযরত খাদীজার ব্যাপারে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, তিনি পুরা পঁচিশটি বছর হুযুর (ﷺ)-এর জীবন সঙ্গিনী হিসাবে হুযুর (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। এ পুরা সময়কালে হুযুর (ﷺ) দ্বিতীয় কোন বিয়ে করেননি। নবুওয়াতের দশম সালে হিজরতের প্রায় তিন বছর পূর্বে ১লা রমযান ১১ হিজরীতে ৬৫ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।

এ সময় পর্যন্ত পাঞ্জেগানা নামাযও ফরয হয়নি এবং জানাযা নামাযের বিধানও আসেনি। এ জন্য তাঁর জানাযার নামায পড়া হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বয়ং নিজের মুবারক হাতে তাঁকে কবরে নামান এবং আল্লাহর রহমতের হাতে সোপর্দ করে দেন।

উম্মুল মু'মিনীন হযরত খাদীজা রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
২১৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন জিবরাঈল (আ.) নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদীজা আসছেন, আর তাঁর সাথে রয়েছে একটি পাত্র এবং পাত্রে রয়েছে তরকারী ও অন্য কিছু খাদ্য সামগ্রী। তিনি যখন আপনার নিকট আসবেন, তখন তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন। আর তাঁকে জান্নাতে এমন একটি মুক্তাখচিত ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যাতে কোন শোরগোল ও ক্লান্তি-কষ্ট নেই। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ، وَطَعَامٌ، فَإِذَا أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لاَ صَخَبَ فِيهِ، وَلاَ نَصَبَ " (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসটির মর্ম সুস্পষ্ট, এর কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তবে এতে এ কথার কোন উল্লেখ নেই যে, হযরত জিবরাইল (আ.)-এর এ আগমন কোথায় এবং কখন ঘটেছিল।

ফতহুল বারীতে হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ)-এ হাদীসেরই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাবরানীর এক বর্ণিত বরাতে লিখেছেন: إن ذلك كان وهو بحراء অর্থাৎ, জিবরাঈল (আ.)-এর এ আগমন তখন ঘটেছিল, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেরাগুহায় ছিলেন। এর দ্বারা এটাও জানা গেল যে, এ ঘটনাটি হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর ঐ প্রথম আগমনের পরের- যার উল্লেখ মা'আরিফুল হাদীসের কিতাবুল মানাকেব-এর শুরুতে নবুওয়াতের সূচনা শিরোনামে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করে আসা হয়েছে।

এর দ্বারা আনুষঙ্গিকভাবে এ কথাও জানা গিয়েছে যে, হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর প্রথম আগমন ও নবুওয়াতের সূচনার পর হেরাগুহায় হুযুর (ﷺ)-এর নির্জন অবস্থানের ধারা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। একথাটি বোধগম্য নয় যে, যে স্থানে তিনি দীর্ঘকাল নির্জনবাস করে আল্লাহর ইবাদত ও যিকিরে মশগুল ছিলেন এবং যেখানে মহান ফিরিশতা জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর কালামের অবতরণ শুরু হয়েছিল, সে পবিত্র স্থানের প্রতি তাঁর কোন আকর্ষণ ও সম্পর্ক থাকবে না। সারকথা, এ হাদীস দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবুওয়াতের সূচনার পরও তিনি কখনো কখনো হেরাগুহায় অবস্থান করতেন। ঐ সময়েই এ ঘটনা পেশ আসল যে হযরত জিবরাঈল (আ.) এখানে তশরীফ আনলেন এবং তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, আপনার স্ত্রী হযরত খাদীজা আসছেন এবং আপনার জন্য কিছু খাবার সামগ্রীও নিয়ে আসছেন। যখন তিনি আসেন, তখন তাঁকে আপন পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকেও তাঁকে সালাম বলবেন। এর সাথে তাঁকে জান্নাতে মুক্তাখচিত এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যাতে কোন শোরগোল নেই এবং কোন কষ্টও নেই।

এ হাদীস থেকে হযরত খাদীজা রাযি.-এর তিনটি বিশেষ মর্যাদা ও ফযীলতের কথা জানা গেল। (১) তিনি একজন সম্মানিত, ধনী ও বুড়ো মহিলা হওয়া সত্ত্বেও হুযুর (ﷺ)-এর জন্য ঘরে খাবার তৈরী করে হেরাগুহা পর্যন্ত নিজে নিয়ে গিয়েছেন। যে হেরাগুহা ঐ সময় মক্কার জনবসতি থেকে আড়াই/তিন মাইল দূরে ছিল। আর হেরাগুহার উচ্চতার কারণে সেখানে উঠা বেশ শক্তিশালী মানুষের জন্যও সহজ ব্যাপার ছিল না। (সংকলকের নিজেরও এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা রয়েছে।) নিঃসন্দেহে হযরত খাদীজার এ কাজটি এমনই ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূলের দরবারে এর বিশেষ মূল্যায়ন হবে। (২) দ্বিতীয় বিরাট ফযীলত ও মর্যাদা এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাধ্যমে তাঁকে আরশের অধিপতি আল্লাহ্ তা'আলার সালাম ও তাঁর সাথে সাথে মহা সম্মানিত ফিরিশতা জিবরাঈল আমীনের সালাম পৌঁছানো হয়েছে। (৩) জান্নাতে তাঁর জন্য মুক্তাখচিত ঘরের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে- যার বৈশিষ্ট্য এই বর্ণনা করা হয়েছে যে, সেখানে কোন শোরগোলও থাকবে না এবং অন্য কোন ধরনের কষ্টও থাকবে না-যেমন, দুনিয়ার বাড়ীগুলোতে সাধারণত পরিবারের লোকজনের অথবা প্রতিবেশীদের শোরগোল ও হৈ চৈ মানুষের একাগ্রতার আরাম বিনষ্ট করে দেয় অথবা ঘর পরিষ্কার ও পরিপাটি করে রাখতে কষ্ট স্বীকার করতে হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান