মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২১২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.
২১২. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে হযরত সা'দ ইবনে মালেক (অর্থাৎ, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস) ছাড়া অন্য করো জন্য নিজের পিতামাতাকে একত্রিত করতে (অর্থাৎ, আমার পিতামাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোন) বলতে শুনিনি। আমি উহুদের দিন তাঁকে বলতে শুনেছি: يا سَعْدُ ارْمِ. فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! এভাবেই তীর চালাতে থাক, আমার মা বাপ তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক।) (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ أَبَوَيْهِ لِأَحَدٍ إِلَّا لِسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ: «يَا سَعْدُ ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আলী রাযি. এর এ হাদীসে হযরত সা'দ ইবনে মালেক দ্বারা উদ্দেশ্য 'সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস'। তার পিতার নাম ছিল মালেক, আর উপনাম ছিল আবু ওয়াক্কাছ।
উহুদ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.-এর আলোচনার আগেই বর্ণনা করা হয়েছে। এ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীকে সম্পূর্ণ দৃঢ়পদ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও অন্যতম ছিলেন। তিনি তীরান্দাজীতে অত্যন্ত সুকৌশলী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর কাছেই ছিলেন। তীরের পর তীর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: يا سَعْدُ ارْمِ. فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোন। এভাবেই তীর চালিয়ে যাও।)
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته
(হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
উহুদ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.-এর আলোচনার আগেই বর্ণনা করা হয়েছে। এ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীকে সম্পূর্ণ দৃঢ়পদ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও অন্যতম ছিলেন। তিনি তীরান্দাজীতে অত্যন্ত সুকৌশলী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর কাছেই ছিলেন। তীরের পর তীর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: يا سَعْدُ ارْمِ. فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোন। এভাবেই তীর চালিয়ে যাও।)
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته
(হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)