মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯৯
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
চার খলীফার ফযীলত ও মর্যাদা
১৯৯. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: (আমার এ চার সাথী ও বন্ধু) আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর রাযি. ভালবাসা কোন মুনাফিকের অন্তরে স্থান পাবে না। (তাবরানী, ইবনে আসাকির)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَا يَجْتَمِعُ حُبُّ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِىٍّ فِيْ قَلْبِ مُنَافِقٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط وابن عساكر)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটিরও কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রহমতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের অবস্থা এটাই যে, তারা এ চারজনের প্রতি ভালবাসা পোষণ করাকে যেন ঈমানের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করে এবং যে হতভাগা তাদের মধ্য থেকে কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাকে আকীদায় ভ্রষ্ট ও সত্যিকার ঈমান থেকে বঞ্চিত মনে করেন।
উপরেও যেমন লিখে আসা হয়েছে যে, হাদীসের কিতাবসমূহে এ জাতীয় আরো অনেক বর্ণনা রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হুযুর (ﷺ) এ চার খলীফার ফযীলত ও তাঁদের বৈশিষ্ট্যের কথা এ ক্রমধারায়ই করেছেন। ঐসব বর্ণনা দ্বারা এসব মনীষীদের মর্যাদার সাথে তাদের পারস্পরিক মর্যাদাও নির্ণয় করা যায় এবং খেলাফতের ব্যাপারে ক্রমধারা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
খলীফা চতুষ্টয়ের ফযীলতের ব্যাপারে একটি লক্ষণীয় বাস্তবতা
হাদীসের অধিকাংশ কিতাবে হযরত আবু বকর ও উমর রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসের সংখ্যা কম রয়েছে। হযরত উসমান রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশী, আর হযরত আলী রাযি.-এর মর্যাদা সংক্রান্ত হাদীসের সংখ্যা অনেক বেশী।
এর একটি বড় কারণ এই যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগে শায়খাইন (হযরত আবু বকর ও উমর)-এর ব্যক্তিত্ব সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল এবং কারো এর প্রয়োজন ছিল না যে, তাঁদের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ খুঁজে বের করে উম্মতের সাধারণ লোকদের নিকট প্রচার করবে। হযরত উসমান রাযি. এর খেলাফতকালের শেষ বছরগুলোতে বিশেষভাবে একটি গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র ও শয়তানীর কারণে (যার নায়ক ছিল মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা।) তার ব্যক্তিত্ব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকেনি। তাই তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ খুঁজে বের করে বর্ণনা করার প্রয়োজন দেখা দিল। এ জন্যই তাঁর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহের সংখ্যা শায়খাইনের তুলনায় হাদীসগ্রন্থ সমূহে বেশী পাওয়া যায়। হযরত উসমান রাযি.-এর পর হযরত আলী রাযি.-এর ব্যক্তিত্বও বিতর্কিত হয়ে গেল এবং খারেজীদের একটি স্বতন্ত্র দলও সৃষ্টি হয়ে গেল- যারা তাঁকে দ্বীন ও উম্মতের জন্য একটি ফিতনা মনে করত এবং তাঁকে হত্যা করা ওয়াজিব বলে ধারণা করত। (যেমন পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।) এ জন্য তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ খুঁজে বের করার প্রয়োজন দেখা দিল এবং আল্লাহর মুখলিস বান্দারা পরিশ্রম করে তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ একত্র করলেন।
তাছাড়া তাঁর অতিভক্তদের মধ্যে এমন লোকও সৃষ্টি হল, যারা তাঁর ফযীলত সম্পর্কে মনগড়া হাদীস তৈরী করাকে একটি সওয়াবের কাজ মনে করত। তাদের মধ্যে অনেকেই বাহ্যত দরবেশদের মত জীবন যাপন করত। আমাদের মুহাদ্দিসগণ মানুষই ছিলেন। তাদের যুগ ও ঐসব রাবীদের যুগ থেকে অনেক পরের ছিল। তারা তাদের ভিতরগত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি এবং তাদের বর্ণনাসমূহও আমাদের হাদীস গ্রন্থ সমূহে অনুপ্রবেশ করে গিয়েছে। এজন্যও হযরত আলী রাযি.-এর ফাযায়েলের রেওয়ায়াত আমাদের হাদীস গ্রন্থসমূহে অন্য তিন খলীফার তুলনায় অনেক বেশী দেখা যায়। এসব হাদীসকে মুহাদ্দিস ও গবেষকদের প্রণীত মূলনীতির আলোকে যাচাই করে নেওয়ার বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে। এ অধম বয়সের ভারে ও দুর্বলতার কারণে নিজে এ জাতীয় কাজ আঞ্জাম দেওয়ার সাহস করতে পারছে না। দু‘আ করি, আল্লাহ্ তা'আলা যেন কোন যোগ্য লোকের অন্তরে এ আকাঙ্খা জাগ্রত করে দেন এবং এ কাজটিও সম্পন্ন হয়ে যায়।
উপরেও যেমন লিখে আসা হয়েছে যে, হাদীসের কিতাবসমূহে এ জাতীয় আরো অনেক বর্ণনা রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হুযুর (ﷺ) এ চার খলীফার ফযীলত ও তাঁদের বৈশিষ্ট্যের কথা এ ক্রমধারায়ই করেছেন। ঐসব বর্ণনা দ্বারা এসব মনীষীদের মর্যাদার সাথে তাদের পারস্পরিক মর্যাদাও নির্ণয় করা যায় এবং খেলাফতের ব্যাপারে ক্রমধারা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
খলীফা চতুষ্টয়ের ফযীলতের ব্যাপারে একটি লক্ষণীয় বাস্তবতা
হাদীসের অধিকাংশ কিতাবে হযরত আবু বকর ও উমর রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসের সংখ্যা কম রয়েছে। হযরত উসমান রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশী, আর হযরত আলী রাযি.-এর মর্যাদা সংক্রান্ত হাদীসের সংখ্যা অনেক বেশী।
এর একটি বড় কারণ এই যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগে শায়খাইন (হযরত আবু বকর ও উমর)-এর ব্যক্তিত্ব সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল এবং কারো এর প্রয়োজন ছিল না যে, তাঁদের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ খুঁজে বের করে উম্মতের সাধারণ লোকদের নিকট প্রচার করবে। হযরত উসমান রাযি. এর খেলাফতকালের শেষ বছরগুলোতে বিশেষভাবে একটি গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র ও শয়তানীর কারণে (যার নায়ক ছিল মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা।) তার ব্যক্তিত্ব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকেনি। তাই তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ খুঁজে বের করে বর্ণনা করার প্রয়োজন দেখা দিল। এ জন্যই তাঁর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহের সংখ্যা শায়খাইনের তুলনায় হাদীসগ্রন্থ সমূহে বেশী পাওয়া যায়। হযরত উসমান রাযি.-এর পর হযরত আলী রাযি.-এর ব্যক্তিত্বও বিতর্কিত হয়ে গেল এবং খারেজীদের একটি স্বতন্ত্র দলও সৃষ্টি হয়ে গেল- যারা তাঁকে দ্বীন ও উম্মতের জন্য একটি ফিতনা মনে করত এবং তাঁকে হত্যা করা ওয়াজিব বলে ধারণা করত। (যেমন পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।) এ জন্য তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ খুঁজে বের করার প্রয়োজন দেখা দিল এবং আল্লাহর মুখলিস বান্দারা পরিশ্রম করে তাঁর ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ একত্র করলেন।
তাছাড়া তাঁর অতিভক্তদের মধ্যে এমন লোকও সৃষ্টি হল, যারা তাঁর ফযীলত সম্পর্কে মনগড়া হাদীস তৈরী করাকে একটি সওয়াবের কাজ মনে করত। তাদের মধ্যে অনেকেই বাহ্যত দরবেশদের মত জীবন যাপন করত। আমাদের মুহাদ্দিসগণ মানুষই ছিলেন। তাদের যুগ ও ঐসব রাবীদের যুগ থেকে অনেক পরের ছিল। তারা তাদের ভিতরগত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি এবং তাদের বর্ণনাসমূহও আমাদের হাদীস গ্রন্থ সমূহে অনুপ্রবেশ করে গিয়েছে। এজন্যও হযরত আলী রাযি.-এর ফাযায়েলের রেওয়ায়াত আমাদের হাদীস গ্রন্থসমূহে অন্য তিন খলীফার তুলনায় অনেক বেশী দেখা যায়। এসব হাদীসকে মুহাদ্দিস ও গবেষকদের প্রণীত মূলনীতির আলোকে যাচাই করে নেওয়ার বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে। এ অধম বয়সের ভারে ও দুর্বলতার কারণে নিজে এ জাতীয় কাজ আঞ্জাম দেওয়ার সাহস করতে পারছে না। দু‘আ করি, আল্লাহ্ তা'আলা যেন কোন যোগ্য লোকের অন্তরে এ আকাঙ্খা জাগ্রত করে দেন এবং এ কাজটিও সম্পন্ন হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)