মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত আলী রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৮৫. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট (খাবার জন্য রান্না করা) একটি পাখি ছিল। তিনি তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমার নিকট এমন এক বান্দা পাঠিয়ে দাও, যে তোমার নিকট তোমার সৃষ্টির মধ্যে অধিকতর প্রিয় ও মাহবুব, যাতে সে এ পাখিটি আমার সাথে খায়। এমন সময় হযরত আলী রাযি. এসে গেলেন এবং তাঁর সাথে খাওয়ায় শরীক হয়ে গেলেন। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَيْرٌ فَقَالَ: اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِي هَذَا الطَّيْرَ فَجَاءَ عَلِيٌّ فَأَكَلَ مَعَهُ. (رواه والترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস দ্বারা শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে যে, হযরত আলী রাযি. সকল সৃষ্টি থেকে এমনকি হযরত শায়খাইন (হযরত আবু বকর ও উমর) থেকেও শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয় ছিলেন। কিন্তু এ কথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও শামিল রয়েছেন। যদি হাদীস থেকে এই ফল বের করা হয়, তাহলে এ কথা অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে যে, তাকে শায়খাইন থেকেই নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকেও শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর অধিকতর প্রিয় বলে স্বীকার করতে হবে।
এ কারণেই হাদীস ব্যাখ্যাদাতাগণ লিখেছেন যে, হুযুর (ﷺ)-এর দু‘আর মর্ম এই যে, হে আল্লাহ! তুমি এমন কোন বান্দা পাঠিয়ে দাও, যে তোমার অধিকতর প্রিয় বান্দাদের একজন হবে, আর নিঃসন্দেহে হযরত আলী রাযি. আল্লাহর অধিকতর প্রিয় বান্দাদের মধ্য থেকেই একজন।

এ হাদীসের ব্যাপারে এ কথাটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহ) এটাকে 'মওযু' বলে অভিহিত করেছেন। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ) অবশ্য তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেননি; কিন্তু এ কথা স্বীকার করেছেন যে, হাদীসটি যয়ীফ ও দুর্বল সূত্রে বর্ণিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান