মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৬৭. হযরত সুমামা ইবনে হাযম কুশায়রী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত উসমান রাযি.-এর ঘরে ঐ সময় উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি (তাঁর গৃহ অবরোধকারী বিদ্রোহী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে) বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, তখন সেখানে রুমা কূপ ছাড়া অন্য কোথাও মিঠা পানির ব্যবস্থা ছিল না। (আর এটা ছিল এক ইয়াহুদীর মালিকানাধীন। সে এর পানি ইচ্ছামত চড়ামূল্যে বিক্রি করত।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন বললেন, "এমন কে আছে যে, রুমা কূপটি খরিদ করে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিবে? আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম দান করবেন।" আমি তখন আমার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে এটা ক্রয় করে (ওয়াকফ করে) দিলাম। আর আজ তোমরা আমাকে সেখান থেকে পানি পান করতে নিষেধ করছ, যে কারণে আমি সমুদ্রের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছি। এর উত্তরে তারা বলল, اللهم نعم (অর্থাৎ, হে আল্লাহ্। আমরা জানি যে, হযরত উসমানের এ কথা ঠিক) তারপর উসমান রাযি. বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে বলছি, তোমাদের কি এ কথা জানা আছে যে, মসজিদে নববী নামাযীদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) বললেন, "এমন কেউ আছে কি, যে অমুক পরিবারের ভূখণ্ডটি (যা মসজিদের বরাবর ছিল।) ক্রয় করে আমাদের মসজিদে শামিল করে দিবে। আল্লাহ্ এর বিনিময়ে জান্নাতে উত্তম স্থান দান করবেন।" তখন আমি এটা ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ক্রয় করে (মসজিদে শামিল করে দিলাম। অথচ আজ তোমরা আমাকে সেখানে দু'রাকাআত নামায পড়তে বাধা দিচ্ছ। লোকেরা উত্তরে বলল, اللهم نعم (হে আল্লাহ্! আমরা জানি যে, হযরত উসমান রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর কথায় এ ভূমি খণ্ডটি ক্রয় করে মসজিদে শামিল করে দিয়েছিলেন।) তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান যে, আমি তাবুক অভিযানে সৈন্যদের জন্য আমার অর্থ দিয়ে যুদ্ধ উপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম? লোকেরা বলল, اللهم نعم (হে আল্লাহ্। আমরা একথাও জানি।) তারপর হযরত উসমান রাযি. বললেন, আমি আল্লাহ্ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি যে, তোমাদের কি এ কথা জানা আছে যে, (একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার 'সাবীর' পাহাড়ের উপর ছিলেন এবং তাঁর সাথে আবূ বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও ছিলেন। আমিও তাঁদের সাথে ছিলাম। এ সময় পাহাড়টি নড়াচড়াও করতে লাগল এবং এর পাথর নীচে পড়তে শুরু করল। তিনি তখন নিজের কদম মুবারক পাহাড়ের উপর সজোরে মারলেন এবং বললেন, اسكن ثبير (স্থির হয়ে যাও হে সাবীর।) কেননা, এ সময়ে তোমার উপর রয়েছেন একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু'জন শহীদ। লোকেরা উত্তর দিল, اللهم نعم (হে আল্লাহ্। এ ঘটনাও আমরা জানি।) তারপর হযরত উসমান রাযি. বললেন, আল্লাহু আকবার। এ লোকেরাও সাক্ষ্য দিয়েছে। (এরই সাথে তিনি বললেন,) কা'বার মালিকের কসম! আমি শহীদ হব। কথাটি তিনি তিন বার বললেন। -তিরমিযী, নাসায়ী ও দারাকুতনী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ الْقُشَيْرِيِّ، قَالَ: شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ عُثْمَانُ، فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرَ بِئْرِ رُومَةَ؟ فَقَالَ: " مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَجْعَلُ فِيهَا دَلْوَهُ مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَجَعَلْتُ دَلْوِي فِيهَا مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي مِنَ الشُّرْبِ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي؟ قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلَانٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِدِ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟» فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَزِدْتُهَا فِي الْمَسْجِدِ، وَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ عَلَى ثَبِيرٍ ثَبِيرِ مَكَّةَ، وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا، فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ فَرَكَضَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرِجْلِهِ وَقَالَ: «اسْكُنْ ثَبِيرُ، فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ» قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، شَهِدُوا لِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ - يَعْنِي أَنِّي شَهِيدٌ ثَلَاثًا. (رواه الترمذى والنسائى والدار قطنى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উমর রাযি.-এর শাহাদতের পর খলীফা নির্বাচনের জন্য তাঁরই গঠিত মজলিসে শুরা হযরত উসমান রাযি.-কে খলীফা নির্বাচন করেছিল। সকল মুহাজির ও আনসার সাহাবী তাঁকে এভাবেই খলীফা মেনে নিলেন- যেভাবে হযরত উমর রাযি. কে এবং তাঁর পূর্বে হযরত আবূ বকর সিদ্দীককে খলীফা হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন। প্রায় বার বছর পর্যন্ত তিনি খলীফা রইলেন। তাঁর খেলাফতের শেষ বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে ঐ ফেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, যার ভবিষ্যদ্বাণী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন সময়ে করেছিলেন। এ অবরোধ- যার উল্লেখ এ হাদীসে করা হয়েছে, এটা ছিল এ ফেতনার শেষ পর্যায়। অবরোধকারীরা মিসর ও ইরাকের কোন কোন শহরের বিদ্রোহী ও দাঙ্গাবাজ গোষ্ঠী ছিল-যাদেরকে ফেতনা ও দাঙ্গা হাঙ্গামায় অভিজ্ঞ এক মুনাফিক ইয়াহুদী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা গোপন ষড়যন্ত্র ও আন্দোলনের মাধ্যমে হযরত উসমান রাযি.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। (এ ফেতনা এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার গোপন আন্দোলনের বিবরণ সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে দেখে নেওয়া যেতে পারে।)
হাদীস থেকে যেমন জানা গেল যে, বিদ্রোহী ও দাঙ্গাবাজদের এ অবরোধ এমন কঠিন হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত উসমান রাযি. মসজিদে গিয়ে নামাযও পড়তে পারতেন না এবং তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পান করার মত পানিও পেতেন না। ঐ ফেতনাবাজদের দাবী ছিল যে, আপনি খেলাফত থেকে সরে যান অর্থাৎ, নিজেই এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। হযরত উসমান রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর এক কঠোর নির্দেশের ভিত্তিতে (যার উল্লেখ সামনের এক হাদীসে আসবে।) ঐসব লোকের চাপ ও দাবীর মুখে খেলাফত থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা জায়েয মনে করতেন না। এর বিপরীত এসব বিদ্রোহী ও দাঙ্গাবাজদের হাতে মজলুম অবস্থায় জীবন দিয়ে দেওয়া ও শহীদ হয়ে যাওয়াকে উত্তম মনে করতেন।
এ কথা জানা যে, হযরত উসমান রাযি. সে সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী এক রাষ্ট্রের কর্ণধার ছিলেন। যদি ঐ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তিনি শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন অথবা এর অনুমতি প্রার্থীদেরকে অন্তত অনুমতিটুকুই দিতেন, তাহলে এ বিদ্রোহ সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেওয়া যেত। কিন্তু তাঁর প্রকৃতি ও স্বভাবে লাজ নম্রতার ন্যায় ধৈর্য ও সহনশীলতারও প্রাবল্য ছিল। তাছাড়া তিনি এর জন্য কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না যে, তাঁর জীবন রক্ষার জন্য কোন কালেমা পাঠকারী মানুষের এক ফোটা রক্ত মাটিতে পড়ুক। এ জন্য তিনি শেষ সীমা পর্যন্ত বুঝানোর চেষ্টা করেন এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য ঐ ভাষণ দান করেন- যা এ হাদীসের রাবী হযরত সুমামা ইবনে হাযম কুশায়রী বর্ণনা করেছেন- যিনি এ ভাষণ নিজ কানে শুনেছিলেন এবং অবরোধের ঐ দৃশ্যটি নিজ চোখে দেখেছিলেন। শেষে হাদীসের এ শব্দমালা وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلَاثًا (কা'বার মালিকের কসম। আমি শাহাদত লাভ করব।) দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তিনি আল্লাহ প্রদত্ত ঈমানী দূরদর্শিতা ও কিছু গায়েবী ইশারা দ্বারা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, এ ফেতনা আমার শাহাদতের খোদায়ী ব্যবস্থা হবে- যার ভবিষ্যদ্বাণী হুযুর (ﷺ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে করেছিলেন। এ জন্য তিনি মজলুম অবস্থায় শহীদ হয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ফায়সালা করলেন এবং নির্মম শাহাদত ও আত্মত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন। এ ধারায় ঐ হাদীসটিও পাঠকগণ একটু পরেই পাঠ করবেন, যার দ্বারা জানা যাবে যে, হযরত উসমান রাযি. শহীদ হওয়ার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন।
হাদীসে হযরত উসমান রাযি.-এর যে ভাষণ উল্লেখ করা হয়েছে, এর শেষে তিনি এ ঘটনাও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি., হযরত উমর ফারুক রাযি. ও হযরত উসমান রাযি. একদিন মক্কার নিকটবর্তী 'সাবীর' পাহাড়ে উঠলেন। এ সময় পাহাড়ে এক ধরনের কম্পন ও নড়াচড়া শুরু হল। হুযুর (ﷺ) তখন সজোরে কদম মারলেন এবং বললেনঃ اسكن ثبير! فإنما عليك نبي، وصديق، وشهيدان হে সাবীর। তুমি স্থির হয়ে যাও, তোমার উপর এ মুহূর্তে একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু'জন শহীদ রয়েছেন।) এ জাতীয় একটি ঘটনা মদীনা মুনাওয়ারায় উহুদ পাহাড়েও সংঘটিত হয়েছিল, যা হযরত আনাস রাযি.-এর বর্ণনায় বুখারী শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মূল ভাষ্য নিম্নে দেওয়া হল।
হাদীস থেকে যেমন জানা গেল যে, বিদ্রোহী ও দাঙ্গাবাজদের এ অবরোধ এমন কঠিন হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত উসমান রাযি. মসজিদে গিয়ে নামাযও পড়তে পারতেন না এবং তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পান করার মত পানিও পেতেন না। ঐ ফেতনাবাজদের দাবী ছিল যে, আপনি খেলাফত থেকে সরে যান অর্থাৎ, নিজেই এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। হযরত উসমান রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর এক কঠোর নির্দেশের ভিত্তিতে (যার উল্লেখ সামনের এক হাদীসে আসবে।) ঐসব লোকের চাপ ও দাবীর মুখে খেলাফত থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা জায়েয মনে করতেন না। এর বিপরীত এসব বিদ্রোহী ও দাঙ্গাবাজদের হাতে মজলুম অবস্থায় জীবন দিয়ে দেওয়া ও শহীদ হয়ে যাওয়াকে উত্তম মনে করতেন।
এ কথা জানা যে, হযরত উসমান রাযি. সে সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী এক রাষ্ট্রের কর্ণধার ছিলেন। যদি ঐ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তিনি শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেন অথবা এর অনুমতি প্রার্থীদেরকে অন্তত অনুমতিটুকুই দিতেন, তাহলে এ বিদ্রোহ সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেওয়া যেত। কিন্তু তাঁর প্রকৃতি ও স্বভাবে লাজ নম্রতার ন্যায় ধৈর্য ও সহনশীলতারও প্রাবল্য ছিল। তাছাড়া তিনি এর জন্য কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না যে, তাঁর জীবন রক্ষার জন্য কোন কালেমা পাঠকারী মানুষের এক ফোটা রক্ত মাটিতে পড়ুক। এ জন্য তিনি শেষ সীমা পর্যন্ত বুঝানোর চেষ্টা করেন এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য ঐ ভাষণ দান করেন- যা এ হাদীসের রাবী হযরত সুমামা ইবনে হাযম কুশায়রী বর্ণনা করেছেন- যিনি এ ভাষণ নিজ কানে শুনেছিলেন এবং অবরোধের ঐ দৃশ্যটি নিজ চোখে দেখেছিলেন। শেষে হাদীসের এ শব্দমালা وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلَاثًا (কা'বার মালিকের কসম। আমি শাহাদত লাভ করব।) দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তিনি আল্লাহ প্রদত্ত ঈমানী দূরদর্শিতা ও কিছু গায়েবী ইশারা দ্বারা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, এ ফেতনা আমার শাহাদতের খোদায়ী ব্যবস্থা হবে- যার ভবিষ্যদ্বাণী হুযুর (ﷺ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে করেছিলেন। এ জন্য তিনি মজলুম অবস্থায় শহীদ হয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ফায়সালা করলেন এবং নির্মম শাহাদত ও আত্মত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন। এ ধারায় ঐ হাদীসটিও পাঠকগণ একটু পরেই পাঠ করবেন, যার দ্বারা জানা যাবে যে, হযরত উসমান রাযি. শহীদ হওয়ার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন।
হাদীসে হযরত উসমান রাযি.-এর যে ভাষণ উল্লেখ করা হয়েছে, এর শেষে তিনি এ ঘটনাও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি., হযরত উমর ফারুক রাযি. ও হযরত উসমান রাযি. একদিন মক্কার নিকটবর্তী 'সাবীর' পাহাড়ে উঠলেন। এ সময় পাহাড়ে এক ধরনের কম্পন ও নড়াচড়া শুরু হল। হুযুর (ﷺ) তখন সজোরে কদম মারলেন এবং বললেনঃ اسكن ثبير! فإنما عليك نبي، وصديق، وشهيدان হে সাবীর। তুমি স্থির হয়ে যাও, তোমার উপর এ মুহূর্তে একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু'জন শহীদ রয়েছেন।) এ জাতীয় একটি ঘটনা মদীনা মুনাওয়ারায় উহুদ পাহাড়েও সংঘটিত হয়েছিল, যা হযরত আনাস রাযি.-এর বর্ণনায় বুখারী শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মূল ভাষ্য নিম্নে দেওয়া হল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)